শুক্রবার ২২ নভেম্বর ২০১৯


এনজিওর ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ নারীর আত্মহত্যা ‘মরে গেলে টাকা মাফ হয়ে যাবে’


আমাদের কুমিল্লা .কম :
03.11.2019

জহিরুল হক বাবু।। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এনজিওর ঋণের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এনজিও কর্মীদের খারাপ ব্যবহারে নাজমা আক্তার (৪১) নামের চার সন্তানের জননীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। নাজমা আক্তার গৌরিপুর গ্রামের সফিকুল ইসলামের স্ত্রী। শনিবার গৌরিপুর গ্রামের পূর্ব পাড়া মোল্লা বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
সূত্র জানায়, সফিকুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা আক্তার বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেন। তার মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংক, আশা ব্যাংক, দিশা ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক অন্যতম। নাজমা বেগমের চার মেয়ের মধ্যে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন, দুই মেয়ে বর্তমানে স্কুলে লেখাপড়া করছে। স্বামী সফিকুল ইসলাম স্থানীয় বাজারে মাছের ব্যবসা করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতো। সম্প্রতি সময়ে নাজমা আক্তার এনজিওর ঋণ সঠিক সময়ে পরিশোধ করতে পারছিলো না। শুক্রবার আশা ব্যাংক ও গ্রামীণ ব্যাংকের কিস্তির তারিখ ছিলো। নাজমা বেগম কিস্তির টাকা দিতে না পারায় আশা ব্যাংক ও গ্রামীণ ব্যাংকের লোকজন তাঁর বাড়িতে এসে গালমন্দ করতে থাকে। এক পর্যায়ে তাঁর মেয়েদের সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করে।
নাজমা আক্তারের পাশের ঘরে বসবাসকারী রানু বেগম জানান, শুক্রবার কিস্তির টাকার জন্য দুজন লোক আসে। নাজমা বেগম টাকা দিতে না পারায় গালমন্দ করে তাঁরা। এক পর্যায়ে তারা বলেন- টাকা না দিতে পারলে মরে যান, মরে গেলে টাকা মাফ হয়ে যাবে।
এনজিও কর্মীরা চলে যাওয়ার পর নাজমা আক্তার ঘরের দরজা বন্ধ করে কান্না-কাটি করতে থাকে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় নাজমা আক্তার ঘরের মধ্যে থাকা ছারপোকা মারার ট্যাবলেট খেয়ে ফেলে। পরিবারের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁকে গৌরিপুর মুক্তি মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। দাউদকান্দি থানা পুলিশ বিকেলে নাজমা আক্তারের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
দাউদকান্দি থানার ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, অপমৃত্যুর খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।