শুক্রবার ২২ নভেম্বর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » প্রধানমন্ত্রীর সা¤প্রতিক ভারত সফর আসলে আগরতলাই লাভবান


প্রধানমন্ত্রীর সা¤প্রতিক ভারত সফর আসলে আগরতলাই লাভবান


আমাদের কুমিল্লা .কম :
08.11.2019

রেজাউল করিম শামিম : দেশে আবারো ভারত বিদ্বেষি অপপ্রচারে চাঙ্গা ভাব লক্ষনীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সা¤প্রতিক ভারত সফরের পরপরই এমনি তৎপরতার পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় তেমনি কর্মকান্ড চলছেই।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের তাৎক্ষণিক প্রাপ্তির বিষয়ই যেন দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের শেষ কথা।অথচ বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের একটা ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যগত পটভূমিতো রয়েছে।রয়েছে কিছু টানপড়েনও।এদিকটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।কিন্তু তা না করে বিবেচনায় আনা হচ্ছে অন্য কিছু।
সেই পাকিস্তান আমল থেকেই পাকিস্তানীদের অন্যায় শাসন-শোষণ অভ্যাহত রাখার নিমিত্তে ধর্মীয় স¤প্রদায়গত বিদ্বেষ থেকে ভারত বিরোধিতা যে রাজনীতির সূচনা,তাদের ‘৭১-এর চরম রক্তক্ষয়ী চুড়ান্ত অত্যাচার,নির্যাতন এবং শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মধ্যদিয়ে সেইসবের ইতি ঘটেছিলো। কিন্তু,‘৭৫-এর কলন্কজনক ঘটনার মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যার মধ্য দিয়ে পুনরায়,পাকিস্তান ভাবধারায়,সংবিধান পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রর চরিত্র বদলে সা¤প্রদায়িক রূপদেয়ার অপচেষ্টা পুনরায় শুরু হয়। পাকিস্তান আমলের মতোই পুনরায় ধর্মীয় রাজনীতির প্রসারের মাধ্যমে জঙ্গিগোষ্ঠীর আমদানী হয়। সেই সাথে শুরু ভারত বিদ্বেষি নানামুখি অপতৎপরতা।এক্ষেত্রে যুক্ত হয়, “ভারতের প্ররচনায় সাধের পাকিস্তানকে ভেঙ্গে দেয়ার“ প্রতিশোধের জিগির।এসবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল,আওয়ামীলীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতাশীন হলে শুরু হয় স্বাধীনতার চেতনায় দেশ পুনঃর্গঠনের।দেশের একটি বিরাট অংশ, পার্বত্য অঞ্চলে তখন ছিলো প্রায় যুদ্ধাবস্থা।একদিকে সসস্ত্র শান্তিবাহিনী, অন্যদিকে ভারতের সসস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদি গোস্ঠীগুলো।তারা মিলিত সন্ত্রাসি কর্ম কান্উডের ফলে উভয় দেশের শান্তি,স¤প্রীতি আর উন্নয়ণ মারাত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছিল।এক্ষেত্রে অনেক কাঠঁখড় পুড়িয়ে শেষে, শেখ হাসিনা যখন শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের মতো দেশের একটা বিরাট অংশের নাগরিকের স্থায়ী শান্তি আর সার্বিক সমৃদ্ধির পথ উন্মোচিত করলেন।সেই সাথে কোন দেশের সসস্ত্র সন্ত্রাসীদের কর্মকান্ডে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে না দেয়ার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিলেন। তখন সেখানে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিরোধীপক্ষ অপপ্রচার চালালেন ফেনী থেকে পুরো চট্রগ্রাম ভারতের অংশ হয়ে যাবে, মসজিদে উলুধ্বনি আর ঘন্টা বাজবে ইত্যদি উদ্ভট সব কথা বলতে লাগলেন।।কিন্তু তারপর প্রায় দুইদশক হতে চললো।সেই সবের কিছুই দেশবাসী দেখতে পেলোনা।ভারত বিদ্বেষ সৃষ্টি করার এসবই হলো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিছু কথা।
এবার আসল কথায় আসা যাক।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সা¤প্রতিক ভারত সফর নিয়েও পক্ষে-বিপক্ষে কম কথা হচ্ছেনা।মোটা দাগের কথা হলো ভারতকে সব দিয়ে দেয়া হলো,আমরা কি পেলাম ? তার মধ্যে কি কি দিয়ে দেয়া হলো ? দিয়ে দেয়া হলো ফেনী নদির পানি। দিয়ে দেয়া হলো, দেশে গ্যসের সংকট সত্বেও গ্যাস , সমুদ্র উপকুলে যৌথ নিরাপত্তার নামে দেশের স্বার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেয়া হলো ইত্যাদি । কিন্তু বাস্তবতার সাথে এর কোনই মিল নেই।
তবে এসব বিতর্কীত বিষয়গুলোর বাস্তবতা তুলে ধরলে চুড়ান্ত বিচারে বাংলাদেশের প্রাপ্তিও নেহায়েতই কম নয়।আর এসবের মধ্যে দিয়ে লাভবান কিন্তু ত্রিপুরা।
প্রথমত যে পানি দিয়ে দেয়া হয়েছে বলে হৈ চৈ হচ্ছে,তা হলো ফেণী নদি থেকে ত্রিপুরার সাব্রæমের জন্য কিছু পানি নেয়ার সুযোগ দেয়া।সেখানে সুপেয়ো পানীয়ো জলের খুব সংকট চলছে। ফলে সন্পূর্ন মানবিক কারনে সামান্য কিছু পানি তুলে নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে পানের উপযোগি করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। যার পরিমান মাত্র ১‘৮২ কিউসেক। ছোট নদি হলেও সে নদিটির প্রবাহের পরিমান প্রায় ৬হাজার কিউসেক। বাংলাদেশের খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা এলাকার সীমান্তবর্তী ভগবানটিলার পাহাড় থেকে এনদির উৎপত্তি।এর দৈর্ঘ ১১৬ কিলোমিটার।নদিটি ত্রিপুরার শিলাছড়ি-আমালঘাট এলাকার দুই দেশের অভিন্ন অংশ অথ্যাৎ নোম্যন্স ল্যন্ডের পরিমানও প্রায় ৭০ কিলো মিটার।আর এই দীর্ঘ এলাকা মধ্যে ৩৬টি লোলিফ্ট পাম্প দিয়ে ত্রিপুরা এদ্দিন একতরফা ভাবে পানি তুলে নিত বলে বাংলাদেশ এলাকার মানুষের একটা ক্ষোভ ছিলো। এখন দুদেশের মধ্যে চুক্তি হওয়ার ফলে পূর্বে উল্লেখিত পরিমান পানি ত্রিপুরা নিতে পারবে। অন্য সব পানি প্রত্যাহার, পূর্নাঙ্গ আলোচা না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স¤প্রতি ভারত সফরকালীন চুক্তির আর যেসব বিষয় কেন্দ্র করে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্যে ভারতকে পানি দেয়ার বিষয়টি ছাড়া অন্য একটি বিষয় হলো ভারতে গ্যাস রপ্তানী। আমাদের দেশে গ্যস সংকট বিদ্যমান,তারপরও গ্যস ভারতের হাতে তুলে দেয়তো “নতজানু নীতিরই নামান্তর“।বিরোধীরা একে পুজিঁ করে ডালপালা বিস্তার করে মনের মাধুরি মিশিয়ে অপপ্রচার চালিয়েও খুব বেশি ফায়দা নিতে পারেনি।বিভিন্ন ভাবে সরকারী ব্যখ্যা তুলে ধরা এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রীর করা সাংবাদিক সন্মেলনে তিনি নিজেই সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে বিষয়টির বিস্তারিত ব্যখ্যা দিয়েছেন।
বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের গ্যাস দিয়ে দেয়া নয় । বিষয়টি হচ্ছে সম্পূর্ণ ব্যবসায়ীক। তরল গ্যস অথ্যাৎ এলপিজি আকারে গ্যস বিদেশ থেকে আমদানি করে,প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা বোতলজাত করা এবং সিলিন্ডারের মাধ্যমে তা ভারতে রপ্তানী করা।পৃথিবীর বিভিন্ন দেশই তা করে থাকে বাণিজ্যিক স্বার্থ বিবেচনায়।এতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরাই তা করবে এবং লাভবান হবে তাতে সন্দেহ নেই।আর তা বাংলাদেশ-ভারত বানিজ্যিক ক্ষেত্রে বিরাজমান বিরাট ঘাটটি কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
এক্ষেত্রেও সবার আগে লাভবান হবে ত্রিপুরাই। কারন সিলিন্ডার গ্যস সরবরাহের ক্ষেত্রে ত্রিপুরাই হচ্ছে সবচাইতে নিকটতম এলাকা।এখানে জ্বালানি চাহিদাও বেশ বর্ধিষ্ণ্।ুপাশাপাশি অন্যান্য রাজ্য গুলোতো রয়েছেই।এক্ষেত্রে এলপিজি জ্বলানি হিসাবে খুবই মূল্য সাশ্রয়ী ।এর বটলিং প্ল্যান্টটি হবে বাংলাদেশে আর গোডাউন হবে ত্রিপুরাতে।এরজন্য প্রথম পর্যাূয়ে লগ্নি হবে ১৭ মিলিয়ন ডলার। এত উভয় দেশের লোকজনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।তা ছাড়া যে ফেনী নদির পানি নিয়ে এত হৈ চৈ,সেই নদির উপর নির্মানাধিন সেতুটির কাজ সম্পন্ন হলে চট্রগ্রামের সাথে ত্রিপুরা তথা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের দুরত্ব কমে যাবে। তখন আগরতলা থেকে চট্রগ্রামের দূরত্ব হবে মাত্র ৭০ কিলোমিটার।ঢাকার সাথেতো সহজ যোগাযোগ রয়েছেই । এবার চট্রগ্রামের সাথেও যোগাযোগের সুবিধার ফলে ব্যবস্যা-বানিজ্যের ক্ষেত্র আরো স¤প্রসারিত হবে।এখনই বৃহত্তৃর কুমিল্লা থেকে শুরু করে সিলেটের লোকজন বিয়ে-সাদির মতো অনুষ্ঠানাদির মার্কেটিং এর জন্যে কলকাতার পরিবরর্তে আগরতলা বেছে নিচ্ছে। তখন বৃহত্তর চট্রগাম আর ফেণী-নোয়খালীর লেকজনের জন্যেও আগরতলা হয়ে উঠতে পারে প্রিয় মার্কেটিং এলাকা।অন্যদিকে আমাদের এখানকার সিমেন্ট,রড,টিন,এমনতি টুকরো পাথরসহ টাইলস,টয়েলেট, প্লাষ্টিক,ফ্রিজ,এসির মতো বৈদ্যুতিক সামগ্রী সেই সাথে বিস্কুট,চানাচুর কোমল পানীয় ইত্যাদির বিরাজমান মার্কেটও আরো স¤প্রসারিত হবে তাতে সন্দেহ কি?
তবে,উপক‚ল এলাকায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং-ব্যবস্থা(কোষ্টাল সারভাইল্যান্স সিস্টেম বা পিএসএস) বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকেও সই করেছে দু‘দেশ ।এটিও অনেকের মাথাব্যথার কারণ। আর এব্যপারেও ভারত বিরোধী প্রচারনার উপকরন পেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের বক্তব্য হচ্ছে,এই এমওইউর ফলে আমাদের দেশে যৌথভাবে হলেও ভারত তার প্রয়োজন অনুসারে শক্তিশালি দূর্বিন বা দূ্র্িবক্ষন ব্যবস্থা গড়ে তুলে চীনের গতীবিধি পর্যব্যক্ষন করতে পারবে।
খতিয়ে দেখলে দেখা যাবে এই মতের লোকজন তাঁরাই, যারা স্বাধীনতা বিরেধী ছিলো,যারা এখনো পাকিস্তানী ভাবধারায় বাংলাদেশকেও সা¤প্রদায়ীক রাষ্ট্রীয় চরিত্র দিতে,ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যাবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চায়। কিন্তু,চীন বর্তমানে এ অঞ্চলের কৌশলগত ভূরাজনীতির পটভূমিতে বাংলাদেশেকে বন্ধু হিসাবে পেতে চায়।আর তা চায়, ভারতের মতো এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ভারতের চাইতেও বেশী উদারতাও প্রদর্শন করেই।বাংলাদেশও সে সুযোগ গ্রহন করে ঠিকই। তবে ,’৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে এমনকি তার পরবর্তিতে জাতিসংঘে চীনের ভূমিকাকে স্নরণে রেখেই।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্রনীতির দিকে যারা নজর রাখেন,তারা মাত্রই জানেন যে, শেখ হাসিনার আপ্রান চেষ্টা হচ্ছে বঙ্গবন্ধ,মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার নীতিআদর্শ-চেতনা স্নরণ রেখে দেশকে দ্রæত উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়ার।এ অনুস্মৃত নীতির আলোকে ভারত,চীন,রাশিয়া আমেরিকার মতো প্রভাবশালী দেশসহ মধপ্র্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে অত্যন্ত ভারসাম্যমূলক অবস্হান রাখার দূরহ একটি কাজ।আর একাজটি শেখ হাসিনা, এখন প্রর্যন্ত সাফল্যের সাথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
ফলে আমাদের দেশের বিশাল সমুদ্র সীমানা,সম্পদ আর বøæ-ইকনমি রক্ষার প্রশ্নে চীন থেক যেমনি সাবমেরিনের মতো আধুনিক যুদ্ধসরঞ্জাম ক্রয় করা হয়েছে।তেমনি উপক‚লের নিরাপত্রায় ভারতের সাথে যৌথব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার সমঝোতা স্বাক্ষর করা হয়েছে।তাতে কারো অখুশি হওয়ার কি আছে? আর যারা এর বিরোধিতা করছেন- তারা কিন্তু ভারত থেকে সাবমেরিন জাতীয় কিছু কেনা হলে আমি নিশ্চিত তারও একইভাবে এর বিরোধিতা করতেন।
তাদের যে কনো ক্ষেত্রেই ভারত বিরোধীরায় বলা হয়,’ভারত সবসময়ই দাদাগিরি ভাব নিয়ে আমাদের দাবীয়ে রাখতে চায় ”।স্বাভাবিক ভাবেই ছোট দেশের পাশে বিশাল একটি দেশ থাকলে বিশালত্বতো দৃশ্যমান হবেই।কিন্তু,সমঝোতা আর সৌহাদ্য সম্পর্ক বজায় রাখার মতো দূর্দৃষ্টি সম্পন্ন পদক্ষেপ নেয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারলে, পারস্পরিক সমমর্যাদা নিয়েও চলা সম্ভব।কারন আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সম্পর্ক আর লেনদেনের বিষয়টি খুবই গুরত্বপূর্ন বলে বিবেচিত। মোটাদাগে বলতে গেলে বলতে হয় বহুপাক্ষিকতায় বড় রাষ্ট্র ,ছোট রাষ্ট্র উভয়ের ভোট কিন্তু একটাই -এটা সবরাষ্ট্রই বুঝে।
আর তাছাড়া বাংলদেশের অবস্থানও এখন আর আগের মতো নেই।বাংলাদেশকে এখন আর কেউ কোনদিক দিয়েই ‘তলাবিহীন ঝুলি’বলার ধৃষ্টতা দেখায় না।বিগত বছরগুলোতে নানামুখি কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনার সরকার দেশকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।দেশের ভাবমূর্তি এখন আগের যেকোন সময়ের চাইতে অনেক উজ্জল। এখন শেখ হাসিনা বিশ্বের যেখানেই যান না কেন,তিনি বেশ সন্মানের সাথেই গ্রহনযোগ্যতা পেয়ে যান।আর সে সাথে উপাধি,পুরস্কার, সন্মাননা দেয়া হয় তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসাবে।শেখ হাসিনা এখন অত্যন্ত,পরিপক্ক রাজনীতিক রাষ্ট্রনায়ক
সা¤প্রতিক ভারত সফরের একটি ঘটনা উদাহরন হিসাবে তুলে ধরা যেতে পারে।ঐ সফরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের পিয়াজের সংকট নিয়ে কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের ইকোনমি সন্মেলনে
ঊদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষনে পিয়াজের বিষটি তুলে ধরেন। ভারতীয় বাণিজ্য ও রেল মন্ত্রী পিযুষ গয়ারসহ বিভিন্ন ফোরামের কর্মকর্তাগন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তো শেখ হাসিনা সেই ফোরামে হাসতে হাসতে কিছু কঠিন কথা বলে ফেলেছেন। যা কুটনৈতিক মহলে বেশ প্রশংশিত হয়েছে। তিনি সেখানে বলেন,“হঠাৎ করে আপনারা বাংলাদেশে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছেন।এটা আপনারা করতে পানেরনা ।এত আমাদের দেশে অসুবিধে হচ্ছ। আগে নোটিশ দিলে আমারা অন্য দেশে থেকে ব্যবস্থা করতে পারতাম। ভবিষ্যতে এমন কিছু করার আগে যেনো জানানো হয়“।তিনি,তাাঁর রাধুনিকে রান্নায় পিয়াজ ব্যবহার নিষেধ করে দিয়েছেন বলে জানান।তিনি একথাগুলো তাঁর লিখিত বক্তব্যের বাইরে হিন্দিতে তুরে ধরেন।।বিষয়টি নিশ্চই তাৎপর্যপূর্ণ।ভারত বাংলাদেশের এলসিকৃত পিয়াজও বন্ধ করে দিয়েছিলো সীমান্তের চেক পোষ্ট পর্যন্ত আসার পরও পিয়াজ ভর্তি ট্রাক ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে পত্রিকায় এসেছে। এটা যে অন্যয়-তা বোঝার জন্য গবেষনা বা তদন্তের প্রয়োজন নেই। তবে একথাও ঠিক যে কাষ্টমর্সের কিছু অতি ঊসাহি কর্মকর্তার কারনে এমনটি হয়েছিলো। তবে শেখ হাসিনা তার চাতুর্যপূর্ন বক্তব্যের মাধম্যে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি এই ম্যসেজটিও দিতে পেরেছেন যে, ভবিষ্যতে এমন কোন ঘটনায়,বাংলাদেশকে সমস্যায় ফেলা যাবেনা,বাংলাদেশ তার সমাধান করে নিতে সক্ষমতা অর্জন করেছে।
এবার বাংলাদেশের প্রাপ্তি সম্পর্কে ছোট্ট করে বলা যাক। আমার কাছে বাংলাদেশের সবচাইতে বড় প্রাপ্তি বলতে ভারতের জনমত বিশেষ করে সুধি-বুদ্ধিজীবি মহলে মতামত বাংলাদেশের পক্ষে তৈরী হওয়া ক্ষেত্রটি জোড়ালো হয়েছ। তাঁরা এখন ভাবতে শুরু করেছেন মানবিক কারন তুলে ধরার সাথে সাথে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পানি দিতে রাজি হয়ে গেছে। অথচ তিস্তার পানি সমস্য, সমাধানে শুধুমাত্র ভারতের অভ্যন্তরিন জটিলতার জন্য প্রায় এক দশকের মতো সময় ধরে ঝুলিয়ে রাখা ঠিক হচ্ছেনা। এ বিষয়ে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক দি হিন্দু, হিন্দুস্থান টাইম, আনন্দ বাজার পত্রিকা ইত্যাদি পত্রিকা গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তুলে ধরে তাদের সরকারকে দোষারোপ করেছে। অন্যদিকে,নোবেল বিজয়ী অর্মত্য সেনের মতো ব্যক্তিত্বও, অনেক ক্ষেত্রেই ভারত থেকে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এগুলোও কিন্তু বিরাট প্রাপ্তি।
আসলে রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্যে গলার কাটা হয়ে রয়েছ। আর এর সমাধানে মিয়ানমারের উপর কার্যকর চাপ সৃষ্টির জন্যে ভারত ও চীনের উপর নির্ভর না করে উপায় নেই। আবার এই দুই দেশেরই মিয়ানমারের রয়েছে বিরাট বিনিয়োগ আর স্বার্থ। অন্যদিকে এই বৃহৎ দুই দেশে,দুই শক্তির মধ্যেও রয়েছে পারস্পারিক কৌশলগত ও মনস্তাত্মিক দ্বন্ধ। ফলশ্রæতি হচ্ছে বাংলাদেশকে উভয়ে সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হয়। যার জন্যে তাৎক্ষনিক লাভলোকসানের হিসাব না করাই বোধকার মঙ্গল।