শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » ভিক্টোরিয়ার শিক্ষক পরিষদের কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ


ভিক্টোরিয়ার শিক্ষক পরিষদের কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.11.2019

স্টাফ রিপোর্টার।। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ওয়ায়েছ আল্ কারনী মুন্সীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষা ক্যাডারদের একটি ক্লোজ গ্রুপে ওই ক্যাডারের ৭০ শতাংশ কর্মকর্তাকে সরকার বিরোধী, সাবেক অধ্যক্ষ রতন সাহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ভিত্তিহীন দাবি করে দুর্নীতির পক্ষে স্ট্যাটাস, কলেজের বণ্টন নীতিমালা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস, ওই স্ট্যাটাসের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ অধ্যক্ষ কর্তৃক কারণ দশার্নোর নোটিসের বিরোধিতা করে পুনরায় স্ট্যাটাস এবং কারণ দর্শানোর প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় একজন সংবাদকর্মীকে পরোক্ষ হুমকি প্রদানের তথ্য এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন সাহার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে দৈনিক আমাদের কুমিল্লাসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সময়ে রতন সাহার পক্ষ অবলম্বন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি মন্তব্য করেন ওই শিক্ষক। মন্তব্যে তিনি লিখেন- এ ধরনের মুখরোচক সংবাদে আমরা অনেকেই হতচকিত হই- সংবাদের সারকথা হচ্ছে ৭ কোটি পেয়ে ৫ কোটি টাকা রেখে গেছেন। বাস্তবতা হলো আর মাত্র মাস দুয়ের মধ্যে অনার্স ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং এ ভর্তি হলো কলেজের তহবলি সমৃদ্ধ হওয়ার প্রধান উৎস। তখন দুই-তিন কোটি টাকা তহবিলে যুক্ত হলে তহবলি অনেক সমৃদ্ধ হবে। পরে অবশ্য আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখেন- যদি দুর্নীতি হয়ে থাকে তবে তা অবশ্যই তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। ওই মন্তব্যের নিচে আরেকটি মন্তব্য করেন ওএসডি হওয়া অধ্যক্ষ রতন সাহা। সেখানে তিনি লিখেন- দোয়া করেন। শিক্ষা ক্যাডারদের অপর একটি গ্রুপে তিনি মন্তব্য করে মহসিন কবির নামে একজনকে উদ্দেশ্য করে লিখেনÑ ভয়ংকর অবস্থা স্যার। সমস্যা হচ্ছে এই ক্যাডারে ৭০শতাংশ সরকার বিরোধী। এটি খুব সহজে ফুটে ওঠে। কলেজের শিক্ষক পরিষদের একটি পেজে তিনি একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেন। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন-আমি যদি কাউকে পাশে না পাই, একাই ম্যুরালের সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করবো আর বলবো কে বড়, কর্মচারী না কর্মকর্তা? যদি একটি শোকজ খাই এক হাজার শোকজের পথ তৈরি করবো। বদলি হবো। বাংলাদেশের ভিতরেই থাকবো। মৃত্যু আসলে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব। কিন্তু এ অযাচার আর সহ্য করবো না……..। এ স্ট্যাটাসের পরিপ্রেক্ষিতে এ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিস দেন বর্তমান কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর রহুল আমিন ভূঁইয়া। এ স্ট্যাটাসের এক প্রান্তে কলেজের বণ্টন নীতি নিয়ে শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য হচ্ছে বলে দাবি করেন। কারণ দর্শানো নোটিস দেওয়ার পর আরেকটি স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন- কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সম্মানিত শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আজ শোকজ খেলাম। আমি ভীত নই। সম্পাদক স্যারের কথায় পোস্ট সরিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম অধ্যক্ষ মহোদয় সমস্যার মূলে গিয়ে সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তা না করে তিনি দমন নীতি গ্রহণ করেছেন। এদিকে শোকজের পর বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তিনি, কতিপয় শিক্ষক ও নামধারী কয়েকজন ছাত্রনেতা মিলে এক সাংবাদিককে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, একজন শিক্ষা ক্যাডার হয়ে তিনি কাউকে সরকার বিরোধী বলে মন্তব্য করতে পারেন না। এটা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জন্য মানহানিকর।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা হলে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ওয়ায়েছ আল্ কারনী মুন্সী জানান, ফেসবুকে শিক্ষা ক্যাডারদের একটি ক্লোজ গ্রুপে এ ধরনের মন্তব্য করেছিলাম। গ্রুপে শিক্ষা ক্যাডারদের মধ্যে অনেক ধরনের বাদানুবাদ হয়ে থাকে। একজন শিক্ষা কর্মকর্তা হয়ে এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফেসবুক যেমন উন্মুক্ত জায়গা আবার সরকারি কর্মকর্তাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। তবে আপনার সাথে সরাসরি কথা বললে এ বিষয়ে পরিষ্কার হবেন।
ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রুহুল আমিন ভূঁইয়া জানান, এ নিয়ে কথা হচ্ছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।