বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » কুমিল্লায় রোপা আমনের ভালো ফলনে গৃহস্থের মুখে হাসি


কুমিল্লায় রোপা আমনের ভালো ফলনে গৃহস্থের মুখে হাসি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
18.11.2019

মাহফুজ নান্টু । কুমিল্লার দিগন্ত বিস্তৃত ধানী জমির প্রান্তরজুড়ে দোল খাচ্ছে সোনালী ধান। যতদূর চোখ যায় শুধু ধার আর ধান। শীতের হিমেল হাওয়ায় পরিপুষ্ট সোনালী ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত গৃহস্থরা। ধানী জমির পাশেই উঠোন বানিয়ে তাতে মাঠ থেকে কাটা ধান মাড়াই-ধান সেদ্ধ ও খড় শুকানোতে ব্যস্ত সময় পার করছে কিষাণ-কিষাণীরা। রোপা আমনের বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে কৃষাণ-কৃষাণীর মুখে। চলতি বছর ১লাখ ১২ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ করা হয়।
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কৃষক মো:বাচ্চু মিয়া পার্শ্ববর্তী ষোলনল বিলে ৯০শতক জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ করেছেন। এই ৯০ শতক জমিতে ধান চাষ করতে গিয়ে তার খরচ হয় ১৫ হাজার টাকা। বাচ্চু মিয়া আশা করছেন ৯০ শতক জমিতে অন্তত ৪০-৪৫ মন ধান পাওয়া যাবে। তাতে ধান উৎপান খরচ এবং সংসারের চাহিদা বাদ দিলে আরো অন্তত ৭-৮ হাজার টাকা মুনাফা হবে।
বুড়িচং উপজেলার কৃষক রাইসুল ইসলাম জানান, তার জমিতে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ধানের আবাদে ব্যয় বেড়েছে উল্লেখ করে কৃষক রাইসুল বলেন,তার ১২০ শতক জমি থেকে ধান কেটে গোলায় তোলার জন্য চারজন কৃষি শ্রমিক নিয়েছেন। প্রতিজন কৃষি শ্রমিককে প্রতিদিন তিনবেলা খাবারসহ ৪৫০ টাকা করে দিতে হয়। যা আয়ের তুলনায় অনেক বেশী।
এদিকে জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার প্রান্তিক কৃষক আবদুল মন্নান,নজির,এমরান ও কাশেম জানান, তারা প্রত্যেকেই বর্গাচাষী। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। তবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে তেমন ক্ষতিগ্রস্থ না হলেও এখন মাঠে পরিপুষ্ট ধান গোলায় তোলা ও ধানের নায্য মূল্য নিয়ে শঙ্কিত এই প্রান্তিক কৃষকরা।
কুমিল্লা আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুরজিৎ চন্দ্র দে জানান,আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবং শেষ সময়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তেমন প্রভাব না পড়ায় কুমিল্লায় রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে রোপা আমন ধান দিয়ে নবান্ন উৎসব উদযাপন করবে।