মঙ্গল্বার ৪ অগাস্ট ২০২০


সৎ ভাইয়ের যৌন লালশার শিকার বোন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
30.11.2019

শাহীন আলম, দেবিদ্বার । কুমিল্লার দেবিদ্বারে সৎ ভাইয়ের যৌন লালশার শিকার হয়ে এক স্কুলছাত্রী এখনঅন্ত:স্বত্ত¡া। এ ঘটনায় মুখ খুললে লম্পট ওই সৎ ভাই ওই স্কুলছাত্রীকে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দিচ্ছে বলে জানায় ওই ছাত্রী। উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে পুরো এলাকায়। লম্পট ওই সৎ ভাইয়ের নাম মেহেদি হাসান। সে রাজামেহার ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম সরকারের ছোট ছেলে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ১২ বছর পূর্বে শাহ আলম সরকারের আগের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম পাঁচ মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে মারা যান। পরে শাহ আলম সরকার ভানী ইউনিয়নের স্বর্ণকার পাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের বিধবা স্ত্রী নাসিমা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় নাসিমার পূর্বের সংসার অর্থাৎ মৃত সিরাজুল ইসলামের ১১মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান ছিলো। পরে ওই কন্যা সন্তানসহ নাসিমা বেগমকে ঘরে তুলেন মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম সরকার। সে থেকে ১১ মাস বয়সী ওই কন্যা সন্তানকে লালনপালন শুরু করেন শাহ আলম সরকার। বর্তমানে ওই মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। শাহ আলম সরকারের পূর্বের সংসারের পাঁচ মেয়ে বিবাহিতা হওয়ায় মেয়েরা স্বামীর বাড়িতে থাকেন। আর বড় ছেলে বিল্লাল হোসেন থাকেন তাবলীগ জামায়াতে। বাড়িতে একা থাকতো মেহেদী হাসান। বর্তমানে মেহেদী হাসান রাজামেহার কলেজে এইচএসসির ছাত্র। মেহিদী ও ওই ছাত্রী একই ঘরে ভাইবোন হিসেবে থাকতো। পাশের অন্য ঘরে থাকত শাহ আলম ও স্ত্রী নাসিমা বেগম।
ভুক্তভোগী জানান, বড় ভাই মেহেদীর কাছে মাঝে মাঝে ইংরেজি বিষয়ে পড়তাম। এরপর থেকে লম্পট মেহেদী হাসান আমার ওপর কু-নজর দেন। পড়ার ছলে মেহেদী বিভিন্ন সময়ে যৌন নির্যাতন চালাতো এবং কুপ্রস্তাব দিতো। প্রস্তাবে রাজী না হলে হত্যার হুমকি দিতো, আর বলতো বাবাকে হত্যা করে তোর মায়ের ওপর দোষ চাপাবো, হত্যার দায়ে তোর মায়ের ফাঁসি হবে। বাবাকে হত্যার ভয়ে কাউকে এ ঘটনা জানাইনি। এক পর্যায়ে এক রাতে ফাঁকা ঘরে সে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এরপর থেকে লাগাতার তার সাথে শারীরিক সর্ম্পক জড়াতে বাধ্য করে । একাধিকবার ধর্ষণের পর এক পর্যায়ে ওই কিশোরী অন্ত:স্বত্ত¡া হয়ে পড়ে। অন্ত:স্বত্ত¡ার খবর পেয়ে মেহিদী হাসান তাকে সন্তান নষ্ট হওয়ার জন্য বিভিন্ন ওষুধ সেবন করান। পরে এ ঘটনা তার মাকে জানালে মেহেদী হাসান সৎ মা নাসিমা বেগমের পা ধরে ভুল হয়ে গেছে বলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, আর তার বাবাকে না বলার জন্য অনুরোধ করেন। চাকরি হলে আয়শাকে বিয়ে করবেন বলেও প্রতিশ্রæতি দেন।
ওষুধ সেবনে বাচ্চা নষ্ট হয়েছে এমন ধারণা ছিলো মেহেদী হাসানের। কিন্তু এর কয়েকমাস পর গত বছরের ১৮সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আয়শার প্রসব বেদনা ওঠে। ওই রাতে আয়শার একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। সস্তান জন্মের পর মেহেদী হাসান বিপাকে পড়েন। পরে ওই রাতেই আয়শার কোল থেকে বাচ্চাটা ছিনিয়ে নিয়ে যায় মেহিদী হাসান। পরে তাকে হত্যা করে বলে জানায় ওই ছাত্রী।
এরপরও ঘটনার শেষ নয়, পরে ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আবারও শারীরিক সম্পর্ক করতে থাকে মেহেদী হাসান। বর্তমানে ওই ছাত্রী দুই মাসের অন্ত:সত্ত¡া। অন্ত:সত্ত¡া হওয়ার খবর শুনে পালিয়ে যায় মেহেদী হাসান। পরে মেহেদী বিভিন্ন ফোন নম্বর দিয়ে কল করে এ ব্যাপারে মুখ খুললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে মেহেদী হাসানের বড় বোন লিপি আক্তার রাগান্বিত হয়ে বলেন, কে আপনি? আপনি এত কিছু জানেন কীভাবে? সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি লাইন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে মেহেদী হাসানের বাবা শাহ আলম সরকার জানান, এমন কুলাঙ্গার ছেলে যেন কারও ঘরে জন্ম না নেয়। সে আমাকেও মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমি আইনের আশ্রয় নেব।
এ ব্যাপারে রাজামেহার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা আমার ইউনিয়নে হচ্ছে আমার জানা নেই। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীকে যে কোন সহায়তা করা হবে।
এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ভুক্তভোগীকে যেকোন আইনি সহায়তা দেব।