বৃহস্পতিবার ২৩ জানুয়ারী ২০২০


‘চাইয়া লন দেড়শ’-বাইছা লন দেড়শ’ কুমিল্লায় ফুটপাতের কাপড়ে নিম্নবিত্তের উষ্ণতার খোঁজ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
03.12.2019

মাহফুজ নান্টু ।। বাংলা বর্ষপঞ্জিতে এখন অগ্রায়হন মাস। তারপরেই আসবে পৌষ মাস। পৌষ-মাঘ মানে শীতকাল। তবে এখনই সন্ধ্যার পরেই কুয়াশার সাথে উত্তরের কনকনে হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করে। অবস্থা সম্পন্নরা অভিজাত শপিং মল থেকে দামী সব শীতের পোষাক কিনলেও নিম্নবিত্তদের জন্য ফুটপাতের কম দামের পোষাকেই ভরসা করছে। আর তাই ফুটপাতের কাপড়ের ভাঁেজ নি¤œবিত্তরা উষ্ণতা খোঁজে। এ কারণে গত বেশ কিছু দিন ধরে কুমিল্লার ফুটপাতজুড়ে গরম পোষাক কিনতে ভীড় করছে নিম্ন আয়ের মানুষজন। আর ফেরীওয়ালা সুরে ছন্দে গরম কাপড় বিক্রি করছেন- চাইয়া লন দেড়শ’ বাইছা লন দেড়শ’।
গতকাল কুমিল্লা মহানগরীর বিভিন্ন সড়কের ফুটপাতে ফেরীওয়ালাদের ভ্যান ঘিরে থাকতে দেখা যায় নিম্ন আয়ের মানুষজনকে। ফেরীওয়ালারা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান হতে কম দামের পোষাক কিনে আনে। এছাড়া কুমিল্লা ইপিজেড থেকেও কম দামে কাপড় কিনে এনে নগরীতে বিক্রি করে।
নগরীর রাজগঞ্জ-চকবাজার সড়কের পাশে একদল ফেরীওয়ালাকে নিয়ম করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কম দামের গরম কাপড় বিক্রি করতে দেখা যায়। বিক্রেতাদের একজন জসিম। বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায়। বিকিকিনির ফাঁকে জসিম জানায়, শীতের এ সময়টাতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা ইপিজেড থেকে কম দামে ভারী কাপড় কিনে আনি। পাইকারি কিনে আনা শীতের পোষাকগুলো প্রতিটি বিক্রি করলে ৪০-৬০ টাকা মুনাফা হয়।
কান্দিরপাড় মনোহরপুর সড়কে ছায়েদুল ইসলাম নামে একজন সিএনজি চালিত অটোরিক্সা চালক মহিলাদের পরিধেয় দুটি সুয়েটার, একটি শিশু পোষাক ও একটি ভারী শার্ট কিনেছেন সাড়ে ৬শ’ টাকা দিয়ে। মুখে স্মিত হাসি। কথা বলার ফাঁকে জানালেন, ভাড়ায় সিএনজি চালান। নগরীর সাতোরা এলাকায় মা,স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে ভাড়া থাকেন। পাশে খালি জলাভূমি। ঠান্ডা হাওয়ায় বেশ শীত লাগে। প্রতিদিন সিএনজি অটো রিকশার মালিককে জমা দেয়ার পর হাতে খুব বেশী টাকা থাকেনা। শীত তো আর সে কথা বুঝেনা।
কালিয়াজুরি এলাকার সবজি বিক্রেতা সোহরাব মিয়ার স্ত্রী নিলুফা রাজগঞ্জ ছাতিপট্টি ঘুরে ২ সন্তান জন্য দু’টি সুয়েটার ও একটি কম্বল কিনেছেন। তিনি জানান,৭শ’ টাকার এই কাপড়গুলো মার্কেটে (শপিংমলে) ২/৩ হাজার টাকার কম হতো না। এত টাকা দিয়ে কাপড় কেমনে কিনবো। স্বামীর আয় বেশী না।
গরম কাপড়ের অভাবে যেন শীতের সময় সন্তান কষ্ট না পান তাই স্বামীর দেয়া টাকা থেকে কিছু টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন। এখন সেই টাকার সাথে আরো কিছু টাকা যোগ করে সন্তানদের জন্য ভারী পোষাক কিনেছেন বলে নিলুফার দেহমন জুড়ে একটা উষ্ণতা ছড়িয়ে গেল।