শুক্রবার ২৪ জানুয়ারী ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 2 » সদর দক্ষিণে ১০ টাকা কেজির ১২৫ বস্তা চাল উদ্ধার


সদর দক্ষিণে ১০ টাকা কেজির ১২৫ বস্তা চাল উদ্ধার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.12.2019

স্টাফ রিপোর্টার : কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থেকে ১০ টাকা কেজির সরকারী ১২৫ বস্তা চাল এক ডিলারের অফিস থেকে উদ্ধার করেছে দুদক। এ সময় ডিলারের অফিসে রক্ষিত হত দরিদ্র ব্যক্তিদের ২৮২টি কার্ডও জদ্ধ করা হয়েছে। সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মিয়া মোহাম্মদ কায়েম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটি দুদক ধরেছে। এ বিষয়ে তারাই মামলা করবে।
জানা যায়, কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের উত্তর বিজয়পুর বাজারে ডিলার জামাল হোসেনের গোডাউন থেকে ১০ টাকা কেজির সরকারি ১২৫ বস্তা চাল পাওয়া গেছে। ডিলার জামাল হোসেন হত দরিদ্রদের এই চাল না দিয়ে বেশী দামে বাজারে বিক্রি করবে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন কুমিল্লা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক হেলালউদ্দিনের সার্বিক নির্দেশনায় সহকারী পরিচালক এইচ.এম আক্তারুজ্জামানের নেতৃত্বে দুদকের একটি টিম উপজেলার বিজয়পুরের দূর্গাপুর গ্রামে সরকারি চাল ডিলার জামাল হোসেনের অফিসে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ১২৫ বস্তা ১০ টাকা কেজির চাল এবং হত দরিদ্রদের ১৮২টি কার্ড সংগ্রহ করা হয়। এই কার্ড কার্ডধারী ব্যক্তিদের কাছে থাকার কথা । অসৎ উদ্দেশ্যে ডিলার জামাল হোসেন কৌশলে নিজের কাছে গরিব মানুষের কার্ড রেখে দেন বলে দুদক জানান।
অভিযানের বিষয়ে দুদক কুমিল্লার সহকারী পরিচালক এইচ.এম আক্তারুজ্জামান জানান-গোপন সংবাদের ভিক্তিত্তে বৃহস্পতিবার ডিলার জামাল হোসেনের দোকান ও অফিসে অভিযান পরিচালনা করি। অভিযান পরিচালনার দশ মিনিট পূর্বেই দুদক ঘটনাস্থলে আসছে এমন তথ্য পেয়ে ১২৫ বস্তা সরকারি চাল ও অসহায় হতদরিদ্রদের খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত ২৮২টি কার্ড রেখে জামাল হোসেন পালিয়ে যায়।
এই ডিলার জামাল হোসেনের অধীনে ১০ টাকা কেজি চালধারী ৬০০ ব্যক্তি রয়েছে। এর মধ্যে ২৮২টি কার্ড জামাল হোসেনের চেম্বার হতে জব্দ করেন কুমিল্লা’র দুদক কর্তৃপক্ষ। এ কার্ড গুলো গ্রাহকের কাছে সংরক্ষণ না রেখে সদর দক্ষিণ উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত.আলী আহম্মদের পুত্র চাল ডিলার জামাল হোসেন নিজের কাছেই হতদরিদ্রদের র্কাড অবৈধ ভাবে সংরক্ষণ রাখতো।
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে প্রায় ৩ ঘন্টা ব্যাপি অভিযান পরিচালনা করেন দুদক কুমিল্লা। ১২৫ বস্তা চাল গত নভেম্বর মাসে দরিদ্রদের মাঝে বিতরন না করে গোডাউনে সংরক্ষণ করে রাখে ডিলার জামাল হোসেন। পরে তিনি বিভিন্ন জায়গায় সরকারি বস্তা পরিবর্তন করে বিক্রয় করে দেন।
এবিষয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মিয়া মো. কেয়াম উদ্দিন বলেন, সরকারি চাল আত্মসাৎ করার বিষয়টি খুবই দু:খ জনক, তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে দুদক কর্মকর্তাদের পরামর্শ দিয়েছি।
বারপাড়া গ্রামের জমিলা খাতুন(৪০) নামে এক দরিদ্র মহিলা বলেন-ডিলার জামাল আমাদের চাল দেন না। দিলেও কম দেন। এ বিষয়ে তাকে বললে, তিনি বলেন-সরকার কি আমায় চালের জমি দিয়ে রাখছে নাকি, যে কারনে তোমাদের চাল দিবো। অনেক দিন ধরে চাল পাই না জামাল হতে, এখন কি করে তার গোডাউনে ১২৫ বস্তা চাল মিললো।
সরকারি চাল আত্মসাতকারীর বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন কুমিল্লার উপপরিচালক হেলাল উদ্দিন বলেন-দুদক আইনে চাল আত্মসাতকারী জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হবে। অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-দুদক কুমিল্লার সহকারী পরিদর্শক আনোয়ারুল মাসুদ, এমদাদুল হক, বারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম আহম্মেদ।