বুধবার ২২ জানুয়ারী ২০২০
  • প্রচ্ছদ » জেলা উপজেলার খবর » কুমিল­ার গর্ভনমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের হোস্টেল থেকে ছাত্রের লাশ উদ্ধার খেলতে যাওয়ায় মারধর, ভয় আর অভিমানে গলায় ফাঁস !


কুমিল­ার গর্ভনমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের হোস্টেল থেকে ছাত্রের লাশ উদ্ধার খেলতে যাওয়ায় মারধর, ভয় আর অভিমানে গলায় ফাঁস !


আমাদের কুমিল্লা .কম :
13.12.2019

আবদুর রহমান।। কুমিল­ার নগরীর কোটবাড়ি এলাকার গর্ভনমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের একটি হোস্টেল (ছাত্রাবাস) থেকে শাহাদাত হোসেন সাব্বির (১১) নামে এক ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলার সদর দক্ষিণ থানার আওতাধীন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ওই লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল­া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। সাব্বির জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের যশপুর গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির মোল­ার ছেলে।
এদিকে, সাব্বিরের পরিবার ও কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে খেলতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে হোস্টেলের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ তাকে মারধর করেছিল। মারধরের পর তাকে হোস্টল কর্তৃপক্ষ বলেছে জামা-কাপড় ব্যাগে ভরে বাড়ি চলে যেতে। এতে ভয় পেয়ে অথবা অভিমানে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করতে পারে। তবে ঘটনার পর থেকে ওই হোস্টেলের সুপার মোজাম্মেল হকসহ দায়িত্বশীল কোন ব্যক্তি এই ব্যাপারে গণমাধ্যমে কথা বলেননি।
ওই স্কুলের অন্তত ৫ জন শিক্ষার্থীরা জানায়, সাব্বির এবছর ওই প্রতিষ্ঠানের প্রাইমারী শাখা থেকে পিএসসি পাশ করে। বর্তমানে ওই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র তার বড় ভাই শাখাওয়াত হোসেন সৈকতের সঙ্গে হোস্টেলে থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার জন্য
প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ২৪ ডিসেম্বর তার ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় খেলতে গিয়ে ছাদের বেলকনির বাইরে পাইপের সঙ্গে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান হোস্টেলের ছাত্ররা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
নিহত ওই ছাত্রের চাচা ওমর ফারুক, ভাই শাখাওয়াত হোসেন সৈকতসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, আমরা খবর শুনে ঘটনাস্থলে এসে অন্য ছাত্রদের কাছ থেকে জেনেছি- বৃহস্পতিবার সকালে ক্রিকেট বল নিয়ে হোস্টেল থেকে খেলতে বের হয় সাব্বির। আর খেলতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে হোস্টেলের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ তাকে অনেক মারধর করেছে। মারধরের পর তাকে বলেছে জামা-কাপড় ব্যাগে ভরে বাড়ি চলে যেতে। এরপর থেকেই তাকে হোস্টেলে দেখতে পায়নি সহপাঠীরা। পরে বিকেলে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায় অন্য ছাত্ররা।
সাব্বিরের চাচা ওমর ফারুকের দাবি, এতো ছোট বয়সে সাব্বির কেন আতœহত্যা করবে? আর যদি আতœহত্যা করেও থাকে, তাহলে তাকে আতœহত্যা করার মতো পরিস্থিতি কারা তৈরি করে দিয়েছে? আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। আর সামান্য খেলতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে এভাবে ছাত্রকে নির্যাতন করাও অপরাধ। যার শেষ পরিণতি সাব্বিরের লাশ!
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নাজমুল হুদা জানান, আমাদের প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ঘটনাটি আতœহত্যা। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে। আর খেলতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে সকালে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ তাকে শাসন করেছে বলে যেই খবর পাওয়া গেছে, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল­ার শিক্ষা নগরী খ্যাত কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত গর্ভনমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলটি জেলার একটি নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্কুলটির কার্যক্রম মূলত ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকেই। তবে স্কুলের প্রাইমারী একটি শাখাও রয়েছে।