সোমবার ১০ অগাস্ট ২০২০


আজ মহান বিজয় দিবস


আমাদের কুমিল্লা .কম :
16.12.2019

স্টাফ রিপোর্টার।। সবুজ-শ্যামল বাংলার পথে-ঘাটে আজ সকালের নব রবি যে কোমল পরশ বুলিয়ে গেছে তা বছরের বাকি ৩৬৪ দিনের মতো নয়। পৌষের প্রভাতেও ছিল না কুয়াশার আধিক্য। এ যেন বাংলার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও অমিত সম্ভাবনার হাতছানি। আজকের সূর্য ছিল অনেক তেজস্বী। সেই সূর্য দিয়ে গেছে নয়া জীবনের ডাক। গতরাত থেকেই বাংলার শহর-বন্দর, অলি-গলি, গ্রাম-গঞ্জ ও মেঠোপথের পল্লীতে বেজে চলেছে বিজয়ের গান। বাঙালির হৃদয় গহীনে অনুরণিত হচ্ছে সেই সুর। মুখে মুখে ধ্বনিত হচ্ছে ‘বিজয় নিশান উড়ছে ওই/খুশির হাওয়া ওই উড়ছে/বাংলার ঘরে ঘরে, মুক্তির আলো ওই ঝরছে।’ কেননা, আজ বাঙালির গৌরবের, আনন্দের, অহঙ্কারের, আত্মমর্যাদার ও আত্মোপলব্ধির দিন।
আজ মহান বিজয় দিবস। দেদীপ্যমান, প্রসন্ন ও আলোকিত বিজয় দিবস। বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আর তাদের এ দেশীয় দোসরদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করার দিন। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও হাজার হাজার মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ৪৮ বছর আগে এই দিনে বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছিল এক নতুন দেশ- বাংলাদেশ। বাঙালি জাতির জীবনে তাই আজ এক মহা আনন্দের দিন। এমনই একটি দিনের প্রতীক্ষায় বাঙালির কেটেছে হাজারও বছর। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বাঙালির বিজয় ছিনিয়ে আনার দিন। সেই দিনে ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী হাতের অস্ত্র সমর্পণ করে। এরপর মাথা নিচু করে দাঁড়ায় অকুতোভয় বীর বাঙালির সামনে। স্বাক্ষর করে পরাজয়-সনদে। এ কারণেই আজকের দিনটি এতটা গৌরবের ও আনন্দের। তবে এ বিজয় অর্জনে যেহেতু এক সাগর রক্ত আর হাজার হাজার মা-বোনের সম্ভ্রম দিতে হয়েছে, তাই আনন্দের পাশাপাশি বাঙালির মনে আছে অনেক ব্যথা, কষ্ট। এ কারণে ৪৮তম বিজয় দিবসে মুক্তির জয়গানে মুখর কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি শ্রদ্ধাবনতচিত্তে আজ স্মরণ করবে জাতির সেইসব শ্রেষ্ঠ সন্তান ও অকুতোভয় বীর এবং মা-বোনদের। এ সময় অনেকেরই মুখে থাকবে চেতনা শানিত করার গান, ‘সবকটা জানালা খুলে দাওনা/আমি গাইব গাইব, বিজয়েরই গান/ওরা আসবে, চুপি চুপি/যারা এই দেশটাকে ভালোবেসে দিয়ে গেছে প্রাণ।’
আজকের দিবসটি উপলক্ষে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন,রাজনৈতিক-সামাজিক সাংস্কৃতিক দলগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
দিবসটি উপলক্ষে আজ কুমিল্লা জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলা প্রশাসকের বাসভবনের শহীদ ডিসি সামসুল হক খান মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার-মুক্তিযোদ্ধাদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাদ জোহর জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে জেলার প্রতিটি মসজিদ,মন্দিও,গীর্জা,প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপসানালয়ে বিশেষ দোয়া-মোনাজেত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও দুপুরে বা সুবিধাজনক সময়ে হাসপাতাল,জেলখানা,বৃদ্ধাশ্রম,এতিমখানা,শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন।
এছাড়াও জেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনের মাধ্যমে বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধওে বীরের কন্ঠে বীর কাহিনী প্রচার এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি ভবন,নগরীর প্রধান সড়কে জাতীয় পতাকা এবং রঙ্গীন দ্বারা সজ্জিতকরণসহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার,সরকারি-আধা সরকারি,স্বায়ত্বশাষিত প্রতিষ্টানের ভবন আলোক সজ্জা করা হবে।
এদিকে বিজয় দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা (দ:) জেলা আ’লীগের উদ্যেগে বঙ্গবন্ধুর ম্যুারালে ও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতাকার সাথে দলীয় পতাকা উত্তোলনসহ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।