সোমবার ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » নাঙ্গলকোটে একই খাল তিন বছরের মাথায় ভিন্ন নামে খনন ক্ষতির মুখে ৪ গ্রামের ফসলি জমি-বাড়িঘর


নাঙ্গলকোটে একই খাল তিন বছরের মাথায় ভিন্ন নামে খনন ক্ষতির মুখে ৪ গ্রামের ফসলি জমি-বাড়িঘর


আমাদের কুমিল্লা .কম :
19.12.2019

তাজুল ইসলাম, নাঙ্গলকোট : কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের জোড্ডা পূর্ব ইউনিয়নের শ্রীহাস্য, হানগড়া, কৈরাশ ও শংকরপুর গ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত আমতলী-মানিকমুড়া খাল তিন বছরের মাথায় ভিন্ন নামে দ্বিতীয়বার পুনঃ খনন করায় ৪ গ্রামের ফসলি জমি, বাড়িঘর ও গাছপালা রক্ষায় প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ওই খালের পাড়ে বসবাসরত শত শত কৃষক। গত সোমবার বিকেলে শ্রীহাস্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিবাদ সমাবেশ বক্তারা বলেন, আমতলী-মানিকমুড়া খালটি গত ৩বছর পূর্বে একবার খনন করা হয়। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বালোঘর নাম দিয়ে খালটি দ্বিতীয়বার পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাইনবোর্ডে খালটি পুনঃখননের বিষয়ে খালটির নাম লেখা রয়েছে নাঙ্গলকোটের বালোঘর খাল। দৈর্ঘ্য ৯ কিলোমিটার। যার প্রাক্কলিত মূল্য ১কোটি, ১৬লাখ ৪১হাজার ৯শ ৫০টাকা। নাঙ্গলকোটে বালোঘর খাল নামে কোন খাল নেই। একটি স্বার্থন্বেষী মহল ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারের কোটি টাকা আত্মসাতের জন্য অন্য এলাকার খালকে এখানে দেখিয়ে খালটি পুনঃখনন করছে।
বক্তারা আরো বলেন, গতবার খালটি খনন করার পর আমরা খালের পাড়ে গাছ রোপণ করে। এছাড়া খাল সংলগ্ন ও খালের পাড়ে শত-শত নিরীহ কৃষকদের ফসলি জমি ও বাড়িঘর রয়েছে। স্বার্থন্বেষী মহল খালটি আরো সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নেয়। এতে করে নিরীহ কৃষকদের ফসলি জমি-বাড়িঘর-গাছপালা ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া খালের পাড় সংলগ্ন কৃষকদের ফসলি জমি, বাড়িঘর হুকুম দখল না করে খালটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। গত শনিবার (১৪ডিসেম্বর) খাল পুনঃখনন কাজ শুরু হলে এলাকার পুরষ-মহিলাদের প্রতিবাদের মুখে ঠিকাদারের লোকজন খাল খনন কাজে নিয়োজিত এ্যাসকেবেটর মেশিন রেখে পালিয়ে যায়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামীলীগ তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক নুরুল আফছার, জোড্ডা পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল আলিম, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আলী আক্কাছ তালুকদার, আফজাল হোসেন, শাহজাহান সাজু, আলী আজগর মিয়াজী, আবদুল আউয়াল, মাষ্টার আবদুল কাদের, হানগড়া গ্রামের মাহবুবুল হক, শংকরপুর গ্রামের গোলাফ হোসেন, শ্রীহাস্য গ্রামের পারভীন আক্তার ও আলেয়া বেগম প্রমুখ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু তালেব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পের অধীনে এই খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা গুগল ম্যাপ থেকে সার্ভে করে বালোঘর খাল নাম নিয়ে প্রকল্প পাস করা হয়েছে। খালের নাম নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। খালের গভীরতা ১৪-১৫ফুট ও মুখের অংশের দুরত্ব ৪০-৪২ ফুট রয়েছে। খাল খননের বিষয়ে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ সমাবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, এলাকাবাসী খালটি পুনঃখননের বিষয়ে তাদের আপত্তি আমাদেরকে যথাযথভাবে জানালে আমরা বিষয়টি দেখবো। যদি খাল খননের প্রয়োজন না থাকে তাহলে আমরা খাল খনন করবো না। তবে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে বাস্তবায়ন করতে হয়।