সোমবার ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০


মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পৌরবাসী


আমাদের কুমিল্লা .কম :
21.12.2019

শাহীন আলম, দেবিদ্বার। কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বার পৌর এলাকার কয়েকটি স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এতে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের। দুর্গন্ধে নাকে হাত চেপে ময়লার ভাগাড় অতিক্রম করতে হয়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের। এসব ময়লা-আবর্জনার কারণে আশ-পাশের এলাকার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার বারেরা এলাকার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের দুইপাশেই বিভিন্ন বাসা-বাড়ির, হাসপাতালের বর্জ্য-আবর্জনা, মুরগির বিষ্ঠা,চামড়া, পশম, নাড়িভুঁড়ি, কাঁচা বাজারের পঁচা কাঁচামাল বস্তায় বস্তায় ফেলানো। অথচ এ এলাকার কয়েকশো গজের মধ্যেই রয়েছে বিভিন্ন স্কুল,কলেজ, মাদরাসা-মসজিদসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর। কোন কোন সময় দেখা যায়, মানুষ চলাচলা করা রাস্তায়ও মুরগির বিষ্টা, চামড়া, নাড়িভুঁড়ি ও বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।
অন্যদিকে, মহাসড়কের মহিলা কলেজের সামনেই রয়েছে ময়লার স্তুপ। প্রতিদিনই শত শত ছাত্রীকে নাক চেপে কলেজে প্রবেশ ও বের হতে হয়। কোন কোন সময় বাতাসের সাথে ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধও ভেসে আসে শ্রেণিকক্ষে। এতে নানা ভোগান্তিতে পড়ে হয় শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের। একাধিক ছাত্রী জানান, এ কলেজে ক্লাস করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঝে মাঝে ময়লা-আবর্জনার প্যাকেট কলেজের গেটেও পড়ে থাকে। কলেজের সামনে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্য সাইনবোর্ড লাগালেও কোন কাজ হচ্ছে না। কলেজে প্রবেশ ও বাইরের সময় বমি চলে আসে।
কলের্জে প্রভাষক নূর আলম বাবু বলেন, প্রতিদিন শতশত ছাত্রী এ বিশ^বিদ্যালয়ে আসে। বিশ^বিদ্যালয়ের গেটের সামনে এভাবে ময়লার স্তুপের দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা সম্ভব হয় না। কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে প্রতিদিনই এ দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এদিকে, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের সরকারি ফিশারি সংলগ্ন, জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, সাইলচর ও চাপানগর এলাকার ময়লার ভাগাড়গুলো সাধারণ মানুষদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে আরও দ্বিগুণ। মহাসড়কের এদিক-সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে কুকুর, বিড়াল, কাকের কামড়ানো বিভিন্ন বর্জ্যরে পলিথিন প্যাকেট। যার দুর্গন্ধে পথচারী ও যাত্রীদের বমি চলে আসে। এসব ভাগাড়ের চারপাশেই রয়েছে শতশত ঘরবাড়ি ও মাদরাসা-মসজিদ ও একটি সরকারি ফিশারি।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, এ সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার বাস, মিনিবাস, ট্রাক, সিএনজি ও অটোরিকশায় মানুষ চলাচল করে। এসব যাত্রী ও পথচারীদের দুর্গন্ধযুক্ত ময়লার ভাগাড় পার হতে হয় নাকে রুমাল চেপে। যত্রতত্রই ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এ সমস্যা বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। নাগরিক সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও মিলছে না কোন প্রতিকার।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ৪.৬০০ একর ভূমির ওপর ২০০২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দেবিদ্বার পৌরসভা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠার ১৮ বছরেও ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান করা সম্ভব হয়নি। ফলে পৌরসভার সকল ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পৌরসভার কয়েকটি স্থানে।
সূত্রটি আরও জানায়, পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠার পর সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা ও পৌরসভা বাতিলের কয়েকটি মামলা হয়। আর এতে আটকে যায় পৌর নির্বাচন। নির্বাচিত মেয়র না থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেই পৌর প্রশাসক হিসেবে বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হয়।
¬
পৌর বাসিন্দা ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ওমানী বলেন, প্রতি মাসেই ‘উপজেলা মাসিক উন্নয়ন সভায়’ এ বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়, নোটও করা হয়। কিন্তু কোন কাজই দৃশ্যমান হচ্ছে না। পৌরসভা হওয়ার পরও পৌরবাসীর দুর্ভোগ কমছে না। পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রæত এ সমস্যা নিরসন করে একটি সেবাবান্ধব পৌরসভা গড়ে তোলা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রাকিব হাসান বলেন, পৌরসভার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় মহাসড়কের পাশে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলতে হচ্ছে। তবে এক একর জমি অধিগ্রহণ করার জন্য স্থানীয় মন্ত্রণালয়ে লিখিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে জমি পছন্দ করার জন্য বলা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের জায়গা খোঁজা হচ্ছে। অচিরেই এ সমস্যা নিরসন হবে।