বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 2 » কুবিতে ছাত্রলীগ পরিচয়ে ছাত্রীদের উত্যক্ত মেসেঞ্জারে পাঠানো হয় সানি লিওনের অশালীন ছবি


কুবিতে ছাত্রলীগ পরিচয়ে ছাত্রীদের উত্যক্ত মেসেঞ্জারে পাঠানো হয় সানি লিওনের অশালীন ছবি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
23.12.2019

জাহিদুল ইসলাম,কুবিঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের(কুবি) ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহসান হাবিব পলিনের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ পরিচয়ে ছাত্রীদেও উত্যক্তের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারী বিদ্বেষী আপত্তিকর ও উগ্রবাদী মন্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নবীন ছাত্রীদের মেসেঞ্জারে কু-প্রস্তাব এবং সানি লিওনের অশালীন ছবি পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব অপকর্ম চালালেও ছাত্রলীগের সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করছেন শাখা ছাত্রলীগ নেতারা।
সূত্র জানায়, গত ১৭ ডিসেম্বর পলিন ‘কালাচাঁন মিয়া’ নামক একটি ফেইসবুক পেইজের নারীর উচ্চশিক্ষা নিয়ে একটি পোস্ট করেন। সেখানে আহসান হাবীব পলিনের একটি কমেন্টে লিখেন, “বউ হিসাবে কে বেশি যোগ্য? উচ্চ শিক্ষিত চাকরিজীবী ৩০ বছরের আইবুড়ো মহিলা নাকি মাধ্যমিক পাস স্বল্প শিক্ষিত ১৬ বছরের সুন্দরী কচি মেয়ে? উচ্চ শিক্ষিত আইবুড়ো ৩০ বছরের মহিলা যখন বউ হিসাবে ঘরে আসে তখন তার বৈশিষ্ট্য হয়। ২৫ বছরের পর মেয়েদের যৌন চাহিদাও কমে যায়। এইসব আইবুড়ো মেয়েরা বিয়ের পর স্বামীর সাথে যৌন সম্পর্ক করতে আগ্রহী হয় না। স্বামী যৌন কর্ম করতে চাইলে সেটাকে বৈবাহিক ধর্ষণ বলে। এইসব হিজড়া টাইপের মেয়েদেরকে ছেলেরা কোন দুঃখে বিয়ে করবে? বিয়ের দুই মাস পর স্বামীকে বলে, তোমার বাবা মায়ের সাথে আমি থাকতে পারবো না। তাদেরকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দাও। উচ্চ শিক্ষিত মেয়েরা শ্বশুর শ্বাশুড়িকে নিজের আপন বাবা মায়ের চোখে দেখে না। উচ্চ শিক্ষিত মেয়েরা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে বিয়ের কিছুদিন পর। ক্যাম্পাস লাইফে চৌদ্দ পুরুষের কাছে শরীর বিলিয়ে দিয়ে বহুগামিতায় অভ্যস্ত হয়ে যায়। বিয়ের এক বছরের মাথায় নিজের স্বামীকে আর ভালো লাগে না। তখন অন্য পুরুষ খোঁজে। এভাবেই পরিবার ভেঙে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় পড়–ুয়া উচ্চ শিক্ষিত অনেক মেয়ে তো আবার গাঁজা খেয়ে ধরা খায়। এইসব গাঁজাখোর উচ্চ শিক্ষিত আইবুড়ো মহিলা বিয়ে করলে আপনার বৈবাহিক জীবন নরকে পরিণত হবে আর আপনার বাবা মায়ের স্থান হবে বৃদ্ধাশ্রমে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাকিব মাহমুদ এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিলে ব্যক্তিগতভাবে মেসেজ দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং ছাত্রলীগ দিয়ে মারধরের হুমকি দেন পলিন। এছাড়াও তাকে বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীবিদ্বেষী স্ট্যাটাস দিতে দেখা যায়। তবে প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া ছাত্রীদের মেসেঞ্জারে উত্ত্যক্ত করা, নাম্বার চাওয়া ও কু-প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ করেন অনেকেই। অন্তত ১০ জন ছাত্রীর সাথে কথা বলে জানা যায়, সানি লিওনের অশালীন ছবি থেকে শুরু করে অন্য অশ্লীল ছবি মেসেঞ্জারে পাঠাতো। প্রথম বর্ষ টার্গেট করে কু-প্রস্তাব দিতো। নাম্বার চাইতো, না দিলে অশালীন ব্যাবহার এবং গালাগাল দিতো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর তিনি নম্বর খুঁজতেন, আর মেসেঞ্জারে খুবই জঘন্য অশ্লীল কথা বলতেন। আমি জুনিয়র ছিলাম তাই প্রতিবাদ করার সাহস পাইনি আমি চাই প্রকাশ্যে তার বিচার হোক।’
তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন,‘সে শাখা ছাত্রলীগের কেউ না। ছাত্রলীগের কোন মিটিং-মিছিলে কখনোই সে ছিলো না। আগে সে ছাত্রসেনা করত। কেউ যদি ফেইসবুকে শাখা ছাত্রলীগ লিখে রাখে তাহলে তো তার দায়ভার শাখা ছাত্রলীগ নিবে না।’
আহসান হাবীব পলিনের বিষয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব অপি বলেন,‘কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ছাত্রলীগের কার্যক্রমে তার কোন অংশগ্রহণ নাই। আমরা নেতৃত্বস্থানীয় যারা আছি, এই নামে কাউকে চিনিনা। সে ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব করছে। তার অপকর্মের দায়ভার ছাত্রলীগ নেবে না।’
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আহসান হাবীব পলিন বলেন,‘আমি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী, তাই বিভিন্ন মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। এছাড়া মেয়েদের বিভিন্ন মেসেজ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কারো কাছে প্রমাণ থাকলে আমার কাছে অভিযোগ করুক।’