সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০


আখের গুড়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা বিবির বাজার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
23.12.2019

মাহফুজ নান্টু।। সীমান্তবর্তী বিবির বাজারের গোমতী চরের বিস্তৃত জমিতে আখের ক্ষেত। জমির একদিক আখ কেটে সংগ্রহ করা হচ্ছে, অন্যদিকে কেটে আনা আখ থেকে মেশিনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে রস। সংগ্রহ করা রসগুলোকে জাল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে গুড়। জিবে জল আনা এমন গুড়ের গন্ধে মাতোয়ারা এখন কুমিল্লার সীমান্তবর্তী বিবিরবাজার এলাকা। সরেজমিনে সীমান্তবর্তী বিবিরবাজারের গোমতীর গাজীপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় নদীরচরের বিস্তৃত চরে আখের চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা খেত থেকে পরিপুষ্ট আখ সংগ্রহ করছেন। অন্যরা সংগ্রহ আখগুলোকে বেছে মেশিনের মাধ্যমে চিপে রস বের করছেন। পাশে মাটির চুলায় বড় ড্রামে রস গুলোকে জাল দিয়ে তৈরি করছেন গুড়। কথা হয় আখ চাষি ইউসুফ মিয়ার সাথে। তিনি জানান, অন্তত ১০ একর জমিতে আখ চাষ করেছেন। গত তিন চার বছর ধরে আখ চাষ করছেন। চাষ করা আখ দিয়ে গুড় ও ঝোলা গুড় তৈরি করেন। প্রচুর চাহিদা আছে আখের গুড়ের। আখ চাষি ইউসুফ জানান,তার জমির আখ রস দিয়ে গুড় তৈরির জন্য ৭জন কৃষি শ্রমিক রয়েছেন। প্রতিদিন আখের গুড় তৈরির জন্য কৃষিশ্রমিক বাবদ ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিদিন আখের গুড় বিক্রির শেষে খরচ বাদে গড়ে দেড় হাজার থেকে দু হাজার টাকা মুনাফা হয়। ১০ একর জমির আখ চাষ ও গুড় তৈরির জন্য অন্তত ১ লাখ টাকা খরচ করেছেন। আগামী মাস দেড়েক আখের রসের গুড় তৈরি করবেন। মরসুম শেষে ৭০/৮০ হাজার টাকা মুনাফা করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আখ চাষি ইউসুফ। আখের গুড় তৈরির কারিগর ইসমাইল জানান,তারা ৭ জন এসেছেন ময়মনসিংহ জেলা থেকে। এখানে আগামী মাস দেড়েক থাকবেন। প্রতিদিন জনপ্রতি ৫শ’ টাকা পান। সাথে খাবার দেয় মালিক। কিভাবে আখের গুড় তৈরি করেন এমন প্রশ্নের জবাবে আখের গুড় কারিগর ইসমাইল জানান,জমি থেকে সংগৃহীত আখগুলোর পাতা ও ছোবড়া জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেক্ষেত্রে জ্বালানী খরচটা আর লাগে না। দু প্রকার গুড় তৈরি করেন উল্লেখ করে গুড় তৈরির কারিগর ইসমাইল জানান,এক ড্রামে অন্তত কুড়ি সের রস জ্বাল দেই। তা থেকে ৩/৪ কেজি শক্ত গুড় হয়। এছাড়া তরল গুড় যাকে স্থানীয়রা
ঝোলাগুড় বলেন। ইসম্ইাল আরো জানান,প্রতিকেজি শক্ত গুড় ৮০ টাকাএবং ঝোলা গুড় ১শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন মালিক। প¦ার্শবর্তী সুবর্ণপুর গ্রাম থেকে আখের গুড় কিনতে আসা মুদি দোকানী মানিক মিয়া মৈশান জানান, আখ ইউসুফ মিয়া দুই প্রকার আখের গুড় তৈরি করেন। তরতাজা ভেজালবিহীন বলে আখের গুড়ের চাহিদা বেশী।
জালুয়াপাড়া এলাকার প্রবাসী মোশারফ হোসেন আখ চাষি ইউসুফ মিয়ার কাছে গুড় কিনতে এসে জানান,আখের গুড় বিশেষ কওে ইউসুফ মিয়ার খেতে তৈরি আখের গুড় স্বাদ গন্ধে অসাধারণ।