বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০


পুরাতন গোমতীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হবে কবে


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.12.2019

মহিউদ্দিন মোল্লা : কুমিল্লা নগরীর পুরাতন গোমতী। হয়ে উঠতে পারে নগরীর ফুসফুস। এই প্রাকৃতিক জলাধার প্রতিদিন প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে। নদীতে আবর্জনা ফেলে দখল করা হচ্ছে। দখল হওয়া নদীর এ বিশাল এলাকাজুড়ে নির্মিত হয়েছে দোকানপাট ও বহুতল ভবন। সবাই প্রতিযোগিতায় নেমেছে বাড়িটা নদীর দিকে বাড়িয়ে করার। নদীর বাকী অংশে সুয়ারেজ লাইন এবং আবর্জনা ফেলায় তা মরা খালে পরিণত হচ্ছে। নদীটি দখল মুক্ত করে এর পাড়ে ওয়াকওয়ে করা যেতে পারে। উপরে হাতিরঝিলের আদলে সৌন্দর্য বাড়ানো যেতে পারে। এতে বাড়বে নগরীর সৌন্দর্য। বজায় থাকেব প্রাকৃতিক ভারসাম্য। ২০১৭সালে সিটি নির্বাচনে নির্বাচিত মেয়র মনিরুল হক সাক্কু পুরাতন গোমতী নদীকে হাতির ঝিলে রুপ দেয়ার ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন। নগরবাসী এ ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন চায়। এদিকে কুমিল্লার গোমতী নদীর পাশের অবৈধ স্থাপনা জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডেও নেতৃত্বে সোমবার উচ্ছেদ করা হয়। সবার প্রশ্ন কবে কবে উচ্ছেদ হবে পুরাতন গোমতীর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা।

সূত্রমতে, পুরাতন গোমতী নদী থেকে গত এক যুগ ধরে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করার জন্য প্রশাসন থেকে পদক্ষেপ নিলেও রাজনৈতিক এবং বিভিন্ন কারণে আজও তা কার্যকর হয়নি। প্রস্তুতকৃত হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী ২৫৮.৭৪ একর স্থানে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে এমন খবর জেনে দখলদাররা অভিযান ঠেকাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে তদবির অব্যাহত রেখেছে। গোমতী নদী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুমিল্লার বিবিরবাজার সীমান্ত দিয়ে কুমিল্লা জেলায় প্রবেশ করে। শহর রক্ষার জন্য এ নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হলে শহরের উত্তর প্রান্তে কাপ্তানবাজার থেকে শুভপুর পর্যন্ত দীর্ঘ নদীটি পুরনো গোমতী নদী নামে পরিচিতি লাভ করে। এরপর থেকে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল করে নির্মাণ করে বাড়িঘর ও দোকানপাট। শুভপুর, চাঁনপুর, সুজানগর, গাংচর, টিক্কারচর, গয়ামবাগিচা, মোগলটুলী শাহসুজা মসজিদ রোড, পুরাতন চৌধুরীপাড়া, কাপ্তানবাজার, ভাটপাড়া, বিষ্ণপুর ও বজ্রপুর এলাকার মধ্যে পুরাতন গোমতীর দুই পাড়ের প্রায় ২শ’ একর সরকারি ভূমি অবৈধ দখলদারদের কবলে রয়েছে। এর মধ্যে ৫২২ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা করা হয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে এসব অবৈধ দখলদারকে ৮-৯ বার উচ্ছেদ নোটিশ দেয়া হয়। দখলদারদের মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা থাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন হয়।
সূত্র আরো জানায়, আদর্শ সদর উপজেলা ভূমি অফিসের আওতাধীন অবৈধ দখলীয় খাস জমি ও জলাভূমির তথ্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর ২০১৬সালের ১৮ জানুয়ারি প্রেরণ করেন আদর্শ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামীম হোসেন। ওই তথ্যে অবৈধ দখলীয় কৃষি জমির পরিমাণ ১৫৬.৭৪ একর, অবৈধ দখলীয় অকৃষি খাস জমির পরিমাণ ১০২ একর উল্লেখ করে ওই অবৈধ দখলীয় ভূমি থেকে অবৈধ দখলদারমুক্ত করার পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উল্লেখ করা হয়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উত্তর প্রান্তে শুভপুর এবং দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে চকবাজার হয়ে টিক্কারচর শ্মশানঘাট পর্যন্ত গোমতী নদীর পূর্ব প্রান্তে টিক্কারচর সুইপার কলোনির পর থেকে শ্মশানের নিকট পর্যন্ত নদীর পাড় দখলের সঙ্গে নদীর অংশও দখলে নিয়ে অবৈধভাবে শতাধিক ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন কুমিল্লার সভাপতি ডা.মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নদীটি দখল মুক্ত করে ওয়াকওয়ে করা যেতে পারে। উপরে হাতিরঝিলের আদলে সৌন্দর্য বাড়ানো যেতে পারে। নদীটি রক্ষায় আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। জেলা প্রশাসক ও সিটি মেয়রকে স্মারকলিপি দিয়েছি। মেয়র মনিরুল হক সাক্কু পুরাতন গোমতী নদীকে হাতির ঝিলে রুপ দেয়ার ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন।
কুমিল্লা সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, পুরাতন গোমতীর মালিক জেলা প্রশাসন। দখল রোধে তারা ভূমিকা নিতে পারে। পুরাতন গোমতীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে জাইকাতে প্রকল্প জমা দিয়েছি। আশা করছি পুরাতন গোমতীর সৌন্দর্য বর্ধনে কাজ করতে পারবো।