সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০


কুমিল্লা-নোয়াখালী ফোরলেনে কচ্ছপ গতি!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
03.01.2020

মহিউদ্দিন মোল্লা : কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ফোরলেনের কাজের ধীর গতিতে ক্ষুব্ধ সবাই। সবার বক্তব্য,দেশের তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী অর্থমন্ত্রী,সেতুমন্ত্রী ও এলজিআরডি মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় এই মহাসড়ক। এই মহাসড়কের কাজের এই কচ্ছপগতির কারণ কি? কবে শেষ হবে মহাসড়কের কাজ,কবে শেষ হবে মানুষের দুর্ভোগ। সম্প্রতি রাজধানীর এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘মহাসড়কের আয়ুষ্কাল: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন,‘রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে নিজের এলাকায় যেতে লজ্জা লাগে। সড়কের বেহাল অবস্থার জন্য লজ্জায় গাড়ির গøাস তুলে রাখতে হয়, নামানো যায় না। দ্রæতও যাওয়া যায় না, রাস্তা খারাপ। মানুষ গালমন্দ করে।’ এদিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিবালয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নির্মাণকাজে ধুলা ওড়াটাই স্বাভাবিক। আমি উনাকে (অর্থমন্ত্রী) বলেছি, এটা হলো ভুল বোঝাবুঝি। ওই রাস্তাটি(কুমিল্লা-নোয়াখালী) ফোর লেন হচ্ছে। কন্সট্রাকশন ওয়ার্কে তো ধুলোবালি উড়বেই, এটা হলো বাস্তবতা। সেটা হয়তো উনি বাড়ি যেতে বারবার বিরক্ত হচ্ছেন। কিন্তু ঢাকা থেকে তো উনি (অর্থমন্ত্রী) কুমিল্লা পর্যন্ত ভালোভাবেই যাচ্ছেন লাকসাম রোড পর্যন্ত…। আন্ডার কন্সট্রাকশন রোডে যা হয়, সেটা সেখানেও ঘটেছে।’
কাজের ধীরগতি আর ভাঙ্গার কারণে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক এখন ‘জাতীয় ইস্যু’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্রমতে, প্রকল্প শুরুর এক বছর পর লাকসাম থেকে লালমাই পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার এলাকার টেন্ডার হয় গত নভেম্বর মাসে। এখন টেন্ডার ওপেন হবে। লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজার বাইপাস ও লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজার এলাকার বাইপাসের এখনও জমি অধিগ্রহণ বাকী। এই দুই বাজারে বেশি যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বাড়ছে। এদিকে অন্য অংশের কাজও চলছে ঢিমেতালে। ধুলাবালি আর ভাঙ্গা রাস্তার দুর্ভোগে পড়ছেন লাখো যাত্রী।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার তথ্যমতে,কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পর্যন্ত ৫৯ কিলোমিটার ফোরলেন উন্নীতকরণের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কুমিল্লা,চাঁদপুর,নোয়াখালী,লক্ষীপুর জেলাসহ সারা দেশের মানুষ উপকৃত হবে। ২০১৮সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হওয়া কাজ ২০২০সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কাজের ধীরগতিতে তা ২০২১সালে শেষ হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ১৭০কোটি টাকা।
বাগমারা বাজারের ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন বলেন,এই বাজারের সড়ক অনেক সরু। প্রতিদিন এখানে যানজট লাগছে। এতে পরিবহনের যাত্রী ও বাজারের ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
লাকসাম দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মুজিবুর রহমান দুলাল বলেন, লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজার বাইপাসে ও বাগমারা বাজার এলাকায় প্রতিদিনই যানজেটর সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
এই রুটে চলাচলকারী উপকূল বাস সার্ভিসের পরিচালক অধ্যাপক কবির আহমেদ জানান,ভাঙ্গা রাস্তার কারণে প্রতিদিন গাড়ি নষ্ট হচ্ছে। যা রোজগার করি তা গাড়ি মেরামতে চলে যায়। কাজের যে ধীরগতি করে এই দুর্ভোগ শেষ হবে জানি না।
কুমিল্লা জেলা মোটর এসোসিয়েশনের সভাপতি জামিল আহমেদ খন্দকার বলেন, যাত্রী,পরিবহন চালক ও মালিকদের ভোগান্তি রোধে দ্রæত ফোরলেনের কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি। ফোরলেনের কাজ শেষ করার আগে সড়কের সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী রাখারও আবেদন করছি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. আহাদ উল্লাহ বলেন, কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক ফোরলেন প্রকল্পের ১৭কিলোমিটার এলাকার টেন্ডার চলতি সপ্তাহে ওপেন করা হবে। ভূমি অধিগ্রহণ করে আমরা কাজ দ্রæত শেষ করার চেষ্টা করবো।