সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
  • প্রচ্ছদ » লিড নিউজ ১ » কুবিতে অবাধে কাটছে পাহাড় নেই বন অধিদপ্তরের ছাড়পত্র # হারাচ্ছে লাল মাটির ক্যাম্পাসের ঐতিহ্য


কুবিতে অবাধে কাটছে পাহাড় নেই বন অধিদপ্তরের ছাড়পত্র # হারাচ্ছে লাল মাটির ক্যাম্পাসের ঐতিহ্য


আমাদের কুমিল্লা .কম :
05.01.2020

`জাহিদুল ইসলাম, কুবি ।। কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ের (কুবি) আসন্ন প্রথম সমাবর্তন উপলক্ষ্যেকেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্যান্ডেল তৈরির জন্য বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লংঘন করে পাহাড় কেটেছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। লাল মাটির ক্যাম্পাস বলে খ্যাত দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ বিদ্যাপীঠ কুমিল্লার লালমাই পাহাড় অঞ্চলেই অবস্থিত। বিশ^বিদ্যালয়টির বিভিন্ন ভবন দাঁড়িয়ে আছে উঁচু-নিচু পাহাড়ের ওপর কিংবা এর কোল ঘেঁষে। তবে এ পাহাড় কাটা কিংবা পাহাড়ের মাটি সমান করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছ থেকে নেয়া হয়নি কোন ছাড়পত্র। এতে করে পরিবেশ বিপন্নের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টি হারাচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। যার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার (০৪ জানুয়ারি) কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের উত্তর দিকের পাহাড় কেটে এর মাটি ট্রাক্টরে করে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। পাহাড় কাটা মাটি দিয়ে কেন্দ্রীয় মাঠের বিভিন্ন জায়গা সমান করছেন তারা। এর আগেও পাহাড়টি কাটা হয়েছিল। বর্তমানে পাহাড়ের নিচের অংশ বেশি কাটার ফলে যেকোনও সময় পাহাড় ধ্বসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
আগামী ২৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে কেন্দ্রীয় মাঠে। সমাবর্তনকে সামনে রেখে প্যান্ডেল প্রস্তুতের অংশ হিসেবে মাঠের উত্তর পাশের এ পাহাড় কাটা হচ্ছে বলে জানা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আমাদের পাহাড়ি ক্যাম্পাস নিয়ে গর্ব করি। প্রশাসন অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।’ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে অনুরোধ করে বলেন, লাল পাহাড় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য। এগুলোকে রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
বেশ কয়েকজন শিক্ষক হতাশা প্রকাশ করে বলেন,‘বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের অবশ্যই উচিত বাংলাদেশের আইন মেনে এবং পরিবেশের কথা চিন্তা করে কোন কাজ করা। অপরিকল্পিতভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন না মেনে পাহাড় কর্তন অবশ্যই একটি বেআইনি কাজ। যেকোন পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অবশ্যই ভেবে সিদ্ধান্ত দেয়া উচিত।’
শুধু এবারই নয় এর আগেও বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছোট-বড় টিলা ও পাহাড় কেটে সাবার করেছে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেসময়ও বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোন ছাড়পত্র নেয়নি। সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পশ্চিম পাশের পাহাড়ের বেশ অনেকটা অংশ স্কেভেটর সাহায্যে কেটে ফেলা হয়। সেই মাটি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নির্মাণাধীন সড়কদ্বীপ ও ডরমেটরির নিচু স্থান ভরাট করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে পাহাড় কেটে সেই মাটি বিক্রি করারও অভিযোগ রয়েছে বিশ^বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের (সংশোধন) ২০১০-এর ৬-এর ‘খ’ ধারায় বলা হয়েছে ‘কোনো পাহাড় বা টিলা কর্তন বা মোচন করা যাইবে না, তবে অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণক্রমে পাহাড় কর্তন করা যাইবে।’ আইনে পাহাড় বা টিলা কাটার জন্য ছাড়পত্রের বিধান থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন কোন অনুমতি নেয়নি বলে জানা যায়।
অনুমতির বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লা কার্যালয়ের সদ্য সাবেক উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পাহাড় কাটার কোন অনুমতি নেয়নি। তবে জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি সাপেক্ষে করেছে কিনা সেটা জানা নেই।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর বলেন,‘কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাহাড় কাটার বিষয়ে জেলা প্রশাসন থেকে কোনও অনুমতি নেয়নি।’
দায়িত্বে থাকা বিশ^বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল লতিফ বলেন,‘প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করা হচ্ছে। পাহাড়ের নিচের অংশ কেটে এখানে ড্রেনের লাইন করা হবে।’
পাহাড় কাটার কোনও নির্দেশনা প্রশাসন থেকে ছিল কিনা জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবু তাহের বলেন,‘সমাবর্তনের মাঠকে প্রস্তুত করার জন্য পাহাড়ের নিচে মাটির যে অংশটুকু ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তা পরিস্কার করতে বলা হয়েছে। তাছাড়া নিচু জায়গা ভরাট করার কথাও বলা হয়েছিলো কিন্তু পাহাড় কেটে নষ্ট করতে বলা হয়নি। আমি এ বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলছি।’
বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন,‘আমাকে জানিয়ে পাহাড় কাটা হয়নি। কোনও প্রকার পাহাড় কাটার অনুমতি আমি দেইনি।’