রবিবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০


মুরাদনগরে ‘কিশোর গ্যাং’ আতংক জন্মদিনে হাত-পা বেঁধে মাথায় আটা,ডিম আর রঙ ঢালা হয়!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.01.2020

স্টাফ রিপোর্টারঃ কুমিল্লায় দিন দিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাং কালচার। গত বছর কুমিল্লা জিলা স্কুল ও মডার্ন স্কুলের কিছু শিক্ষার্থীদের কিশোর গ্যাংয়ে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে। মৃত্যু হয় কয়েকজন শিক্ষার্থীর। কিশোরদের বেপরোয়া অচরণ এখন পাড়া-মহল্লাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক সময় স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে ইভটিজিং, নিজেদের মধ্যে মারধরে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তারা খুনাখুনিতে মেতে উঠছে। সম্প্রতি মুরাদনগর উপজেলা সদরের ডিআর উচ্চ বিদ্যালয় ও কাজী নোমান আহম্মেদ ডিগ্রি কলেজকে ঘিরে বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা কোন শিক্ষার্থীর জন্মদিন শুনলে তাকে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে গাছ অথবা ল্যাম্পপোস্টের সাথে হাত পা বেঁধে রাখে। পওে গেঞ্জি শার্ট ছিঁড়ে মাথায় ডিম, আটা ও রঙ মাখিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। তাদের বীভৎস্য আনন্দে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। গত ১২ ডিসেম্বর ১০ম শ্রেণীতে পড়–য়া তারেকুল ইসলাম নামের স্কুল ছাত্রকে গোমতী নদীর পাড়ে গাছে সাথে হাত পা বেঁধে মাথায় ডিম আটা মাখিয়ে চালানো হয় শারীরিক নির্যাতন। পরে তারেকুলের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে। শুধু তারেকুল নয় গত ২২ দিনে একই ভাবে জন্মদিনের নামে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১০ম শ্রেণীতে পড়–য়া রুহুল আমিন, নাইম, মাহাদি,ছাব্বির, রাজবির হোসেন রবিন, ৯ম শ্রেণীতে পড়–য়া মাহিদুল ও কলেজ পড়–য়া হৃদয়, নিজাম, নিশাত। নির্যাতনের শিকার সকলেই মুরাদনগর ডি.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কাজী নোমান আহম্মেদ ডিগ্রি কলেজের ছাত্র। নির্যাতনের ছবি গুলো সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মুরাদনগর ডি.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র সিয়াম, রাহিল, মাহিদুল, শাকিল, রাজু, করিম, ১০ম শ্রেণীর মাহমুদ, ফাহিম, আশিক, নাইম, ইয়াছিন, রাজা, রাব্বি, ছোট ইয়াছিন ও কাজী নোমান আহম্মেদ ডিগ্রি কলেজের ছাত্র সাব্বির ইলিয়াস, হৃদয়, নাইম, মারুফ, সবুজ, জিসান, একে ফয়সাল, নিশাত দের নেতৃত্বে তৈরি গ্যাং গ্রæপের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। গ্যাং গ্রæপের কোন অভিভাবকেরা প্রভাবশালী ও পরিচিত মুখ। আবার অনেকে রাজনীতির সাথে জড়িত। অপরাধ করলেও কেউ এদেও বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না। এ বিষয়ে ডিআর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহজাহান ও কাজী নোমান আহম্মেদ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সাদেকুল ইসলাম বলেন, কিশোর গ্যাং এর বিষয়টি আমাদের জানান নেই। খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মুরাদনগর থানার ওসি মনজুর আলম বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ছোটখাটো অপরাধ করতে করতে বড় ধরনের অপরাধে জড়িয়ে যেতে পারে। তাই এদেরকে সংশোধন করতে সর্বপ্রথম অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদেও ব্যাপারে একটু খোঁজ-খবর রাখলে তাদের অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ ঘটনার কোন অভিযোগ পাইনি। খোঁজ নিয়ে অভিযুক্ত ও তাদের অভিভাকদেও প্রাথমিক ভাবে সর্তক করে দেওয়া হবে। তাতে যদি কোন কাজ না হয় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।