সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০


সেবা বঞ্চিত কুমিল্লার তৃণমূলের মানুষ চিকিৎসক পেলেও অবকাঠামো ও জনবল সংকট


আমাদের কুমিল্লা .কম :
07.01.2020

মহিউদ্দিন মোল্লা: সম্প্রতি কুমিল্লার স্বাস্থ্য বিভাগে ১৮৪জন নতুন চিকিৎসক যোগদান করেছেন। তবুুও সেবা পাচ্ছে না তৃণমূলের মানুষ। কারণ তৃণমূলের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র গুলোর বেহাল দশা ও জনবল সংকট।
কুমিল্লা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রমতে,জেলার ১৭টি উপজেলায় ৪৮টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ১৩১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর মধ্যে শতাধিকের অবস্থা জরাজীর্ণ। কোনটির দরজা জানালা নেই। বন্ধ থাকায় কোনটি ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। চেয়ার টেবিল নেই। চিকিৎসক বসার মতো ব্যবস্থা নেই। স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোর বর্হিবিভাগ চালাতে কমপক্ষে একজন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার,ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহকারীর প্রয়োজন। এদিকে জেলায় ২য় শ্রেণীর ৭৮টি,স্বাস্থ্য সহকারীর ৩৮৭টি, স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ৪টি,৩য় শ্রেণীর ৭০৯টি ও ৪র্থ শ্রেণীর ১৮৬টি পদ খালি রয়েছে। বিশেষ করে উল্লেখ করা যেতে পারে,জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার গোহারুয়ায় ১৩ বছর আগে নির্মিত ২০ শয্যার সরকারি হাসপাতালের বেহাল দশার কথা। ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত হাসপাতালটিতে জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকটে চিকিৎসাসেবা চালু নেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ডিজির পরিদর্শনের পরেও চিকিৎসাসেবার সুফল পায়নি তৃণমূলের মানুষ। এতে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ ও নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী ও সেনবাগ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।
নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবদাস দেব বলেন, ‘সম্প্রতি নাঙ্গলকোটে একজন কনসালটেন্ট ও ১৪জন চিকিৎসক যোগদান করেছেন। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র সাতটির মধ্যে চারটির অবস্থা বেহাল। জনবলের মধ্যে ৩য় এবং ৪র্থ শ্রেণীর প্রায় সব পদ শূন্য।’ তিনি আরো বলেন,গোহারুয়া হাসপাতালে একজন কনসালটেন্ট ও চিকিৎসক দেয়া হয়েছে। ওষুধের বরাদ্দ নেই। সেটা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ওষুধ দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছি। এখনো অন্তর্বিভাগ চালু করা যায়নি।’
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন মো. মুজিবুর রহমান বলেন,‘এবিষয়ে কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন সময়ে অবহিত করা হয়েছে। অবকাঠামো না থাকলে চিকিৎসকরা কোথায় বসবেন? এছাড়া জনবলেরও প্রয়োজন। জনবল সংকট এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় গোহারুয়া হাসপাতালটি শতভাগ চিকিৎসাসেবা চালু করতে পারছিনা। ’