শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০


স্বামীর লাশ রেল লাইনের পাশে ফেলে যান স্ত্রী!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
08.01.2020

আবদুল মান্নান,চৌদ্দগ্রাম(সদর): কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্বামীর লাশ রেল লাইনের পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুমি আক্তার(২৪), চট্টগ্রামের হাবিবুর রহমান ফারুক(২২), চাপাচৌ গ্রামের সিএনজি চালক রুহুল আমিনকে(৬০) গ্রেফতার করা হয়।
সূত্র জানায়,২৪ ডিসেম্বর উপজেলার আলকরা-কেন্দুয়া রাস্তার মাথায় রেললাইনের পাশ থেকে ২৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে চৌদ্দগ্রাম এসআই নুরুজ্জামান হাওলাদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
তদন্তের দায়িত্ব পান একই থানার এসআই মনির হোসেন। এসআই মনির হোসেন মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে নিহত যুবকের পরিচয় উদ্ধার করা হয়। নিহত শায়েস্তা খান চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ উপজেলার মেহেদীনগর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। পরবর্তীতে জানা যায়, নিহত যুবকের শ্বশুর বাড়ি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের বাকগ্রামে। সে ওই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে সুমি আক্তারকে বিয়ে করে। মৃত্যুর আগের দিন শায়েস্তা খান শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসে। কিন্তু তার স্ত্রী সুমি আক্তার গুনবতী ইউনিয়নের চাপাচৌ গ্রামের শহীদুল্লাহর বাড়িতে ভাড়া থাকতো। সুমি আক্তার নৃত্য শিল্পী হিসেবে পরিচিত।
এসআই মনির হোসেন আরও জানান, শায়েস্তা খানের মৃত্যুর আগের দিন স্ত্রী সুমির ভাড়া বাসায় উঠে। আশে-পাশের লোকজন ওই বাড়ির মালিক জানিয়েছেন, ২৩ ডিসেম্বর গভীর রাতে সুমি আক্তার বাড়ির আশে-পাশের লোকজনকে ঢেকে বলে তার স্বামী শায়েস্তা খান আত্মহত্যা করেছে। এ সময় লোকজন গিয়ে শায়েস্তা খানের ঝুলন্ত লাশ সুমির ঘরে দেখতে পায়। পরবর্তীতে বাড়ির মালিক শহিদুল্লাহ সুমিকে লাশ থানায় অথবা তার বাবার বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু সুমি আক্তার লাশটি থানায় বা তার বাবার বাড়িতে না নিয়ে গ্রেফতারকৃতদের সহযোগিতায় লাশটি রেললাইনের পাশে রেখে চলে যায়। ৫ জানুয়ারি আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত তিন আসামির রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, শায়েস্তা খানের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চারজন স্বাক্ষী আদালতের তাদের স্বাক্ষী দিয়েছে। আমরা এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রাথমিকভাবে তিনজনকে গ্রেফতার শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।