শনিবার ২৮ gvP© ২০২০


কুবিতে ব্যায়ামাগার দখল করে ছাত্রলীগের কার্যালয়


আমাদের কুমিল্লা .কম :
14.01.2020

জাহিদুল ইসলাম, কুবি ঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ভর্তির সময় রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার অঙ্গীকার করলেও তা বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই ভঙ্গ করছে শাখা ছাত্রলীগ। শুধু ক্যাম্পাসে মিছিল, মিটিং, আবাসিক হলে সিট দখল করেই নয় এবার বিশ^বিদ্যালয়ের ব্যায়ামাগার দখল করে শাখা ছাত্রলীগের দলীয় কার্যালয় বানিয়ে আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে তারা। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ভর্তির সময় পূরণকৃত ভর্তি ফরম ও রেজিস্ট্রেশন ফরমেই রয়েছে রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার অঙ্গীকারনামা। তাছাড়া এ ভবনের সামনে রাতেও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে করছে পতাকার অবমাননা। বিশ^বিদ্যালয়ের একমাত্র ব্যায়ামাগারটি দখল করে কার্যালয় বানানোয় ক্ষোভ বিরাজ করছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ব্যায়ামাগারটি উদ্বোধন করলেও দখল হওয়ার বিষয়টি জানেন না বলে দাবি তাঁর।

জানা যায়, গেল বছরের ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী ব্যায়ামাগারটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর থেকেই ব্যায়ামাগারের নিয়ন্ত্রণ নেয় শাখা ছাত্রলীগ। ক্ষমতাসীন দলের হাতে ব্যায়ামাগারের নিয়ন্ত্রণ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যরা ব্যায়াম করার সুযোগ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করে ডান দিকেই প্রশাসনিক ভবনের পাশে ব্যায়ামাগাটির অবস্থান। দখলকৃত এ ব্যায়ামাগার থেকে শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন দিবসে এখানে জাতীয় পতাকা ও ছাত্রলীগের দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। অধিকাংশ সময় ব্যায়ামাগারটি তালাবন্ধ করে রাখা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তরের তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ণ প্রকল্পের আওতায় ব্যায়ামাগারের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্যায়ামাগারের জন্য ভবনটি নির্মিত হয়। ভবন নির্মাণের পর কেন্দ্রীয় ক্রীড়া কমিটির মাধ্যমে ব্যায়ামাগারে ব্যবহার করার জন্য ৪ লাখ ৭০ হাজার ৬৭৪ টাকায় ১৭ প্রকারের যন্ত্রপাতি কেনা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ব্যায়ামাগারটি বিশ^বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। উদ্বোধনের তিন মাস পার হয়ে গেলেও তা হস্তান্তর করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মনিরুল আলম বলেন, ব্যায়ামাগার পরিচালনা করার বিষয়ে আমাদের কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

প্রশাসন থেকে রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের কথা বললেও বাস্তবে ব্যায়ামাগার দখল করে মূলফটকে ছাত্রলীগের কার্যালয় করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন,‘ব্যায়ামাগারে যাওয়ার ইচ্ছে করলেও সবসময় বন্ধ থাকায় এখানে যেতে পারিনা। তার চেয়ে বড় কথা ছাত্রলীগ ভয়ে আমরা সেদিকে যাইনা।’

অভিযোগের বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন,‘ব্যায়ামাগার সবসময় খোলা থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কেউ ইচ্ছে করলেই সেখানে ‘জিম’ করতে পারে।’ কার্যালয় বানিয়ে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা খেলার পর কিছু সময় বসি। কার্যালয় হিসেবে না।’

তিনি বক্তব্যে ব্যায়ামাগারটি সবসময় খোলা থাকার কথা বললেও সরেজমিনে নির্দিষ্ট কিছু সময় ব্যতীত খোলা পাওয়া যায় না। আবার যখন খোলা থাকে তখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ব্যতীত সেখানে কেউ প্রবেশ করতে পারে না। আর এটি খোলা হয় ছাত্রলীগের কার্যক্রম পরিচালনার জন্যই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন,‘ব্যায়ামাগার অবশ্যই ছাত্রদের জন্য। তবে ছাত্রলীগ দখল করার বিষয়ে আমার জানা নেই।’