বৃহস্পতিবার ২ GwcÖj ২০২০


কুমিল্লায় আলোচিত পাঁচ খুনের ঘাতকরা অধরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
16.01.2020

আবদুর রহমান।। নতুন বছরের গত ১৫ দিনে কুমিল­ায় আলোচিত ৫টি হত্যাকাÐের ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় প্রতিটি ঘটনা সংগঠিত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে হত্যাকাÐের শিকার ব্যক্তিদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর প্রতিটি খুনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মামলাও হয়েছে।
এদিকে, থানা পুলিশের পাশাপাশি প্রতিটি হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য মাঠে কাজ করছেন সিআইডি, পিবিআই, ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টিম। তবে এসব খুনের ঘটনায় জড়িত ঘাতকরা এখনো রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, খুব শীঘ্রই এসব ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেফতার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হবেন তারা।
সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে জেলার বরুড়া উপজেলার খোশবাস উত্তর ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের একটি টমেটো খেতের মধ্যে পাওয়া যায় আমেনা আক্তার (২৫) নামের এক তরুণীর মরদেহ। আমেনা ওই গ্রামের কৃষক মাজেদ মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় বুধবার তার পিতা মাজেদ মিয়া অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বরুড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ওই যুবতীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এখনো।
নতুন বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি জেলার আদর্শ সদর উপজেলার পালপাড়া ব্রিজের নিচ থেকে নগরীর বিষ্ণপুর (মুন্সেফ কোয়ার্টার) এলাকার ডা. লিয়াকত আলী ছেলে সাবাত হোসেনের (২৮) লাশ উদ্ধার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। উদ্ধারের সময় দেখা যায় লাশের হাতে কচটেপ পেঁচানো রয়েছে। সাবাত ঘটনার দুই দিন আগ থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায়
কুমিল­া কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.আনোয়ারুল হক প্রাথমিকভাবে ধারণা করে সে সময় জানান, সাবাতকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর হাতে কচটেপ পেচিয়ে লাশ নদীতে ফেলা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ঘটনায় মামলা হলেও ঘাতকরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
গত ৯ জানুয়ারি বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকা থেকে মুরাদনগর উপজেলা যুবলীগের আহŸায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য খায়রুল আলম সাধনের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ। নিহতের শরীরের মুখে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা তাকে অন্যত্র হত্যার পর এই স্থানে লাশ ফেলা হয়। তবে এই ঘটনায় মামলা হলেও খুনের রহস্য এখনো বের হয়নি।
এদিকে, নিখোঁজের ৬দিন পর গত ১১ জানুয়ারি শনিবার রাতে জেলার লালমাই উপজেলার বেলঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকায় প্রবাসী জুয়েল রানার শিশুপুত্র আবু সুফিয়ান সানীর (৬) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় থানায় মামলা হলেও হত্যার কারণ ও খুনিরা এখনো অধরা রয়ে গেছে।
অপরদিকে গত ১৩ জানুয়ারি সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল­ার চান্দিনা উপজেলার নাওতলা থেকে নৈশপ্রহরী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. নাছির উদ্দিনের (২৬) ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যার রহস্য এবং খুনিদের বিষয়টিও এখনো অজানাই রয়ে গেছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো.আজিম উল আহসান জানান, কুমিল­া জেলায় অতীতের তুলনায় বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অনেক স্ট্রং। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য ব্যাপক কাজ করাসহ তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন পুলিশের সদস্যরা।
তিনি আরো জানান, আপনারা দেখেছেন যে প্রতিটি ঘটনা ঘটার পর পরই পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি ও পিবিআইও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং তারা এসব ঘটনার ছায়া তদন্ত করছে। এছাড়া থানা পুলিশের পাশাপাশি প্রতিটি ঘটনার গভীরে তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের প্রশিক্ষিত টিম। সা¤প্রতিকালে যেই ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলোর বিষয়ে আমরা আশা করছি খুব শীঘ্রই আসামিদের গ্রেফতার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করতে পারব।