মঙ্গল্বার ৭ GwcÖj ২০২০


কুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.01.2020

জাহিদুল ইসলাম, কুবি ।। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আলী রেজওয়ান তালুকদারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বিভাগটির সান্ধ্য কোর্সের এক শিক্ষার্থী এ অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করেন। গত বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তাহের ও ইংরেজি বিভাগের প্রোগ্রাম পরিচালক ড. হাবিবুর রহমান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের নজরে আসে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ইংরেজি বিভাগের সান্ধ্য কোর্সের অধীনে গত ১৩ জানুয়ারি একটি কোর্সের পরীক্ষা দিতে বিভাগে আসেন। পরীক্ষা চলাকালীন সময় তাদের সবার মোবাইল ফোন জমা রাখতে বলা হয়। একথা শুনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোবাইলসহ ভ্যানিটি ব্যাগ সামনে রাখেন এবং পরীক্ষা শেষে বিশ^বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে বাসায় যাওয়ার পথে ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন বের করে দেখেন মোবাইলের সিম অদল বদল করা এবং মেমোরি কার্ডের জায়গায় নষ্ট একটি মেমোরি কার্ড লাগানো। এছাড়া মোবাইলটির সম্পূর্ণ তথ্য মুছে দেওয়া। বিষয়টি জানার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষককে ফোন করলে তিনি ফোন তুলেননি। তখন তিনি বুঝতে পারেন ঐ শিক্ষকের অনেক অনৈতিক প্রস্তাবে সে রাজি না হওয়ার তথ্য এ মোবাইলে ছিলো। বিষয়টি বুঝতে পেরে সে অভিযোগ করে। অভিযোগগুলো হলো শিক্ষার্থীকে সরাসরি অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় ঐ শিক্ষক বিভাগের নিজস্ব রুমে এমনকি কুমিল্লা শহরে তার নিজস্ব বাসায় যাওয়ার জন্য বলেছেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি হলে শিক্ষার্থীকে সান্ধকালীন কোর্স নিয়ে তার ভাবতে হবে না। ছাত্রী অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার কারনে উক্ত শিক্ষক ছাত্রীর মোবাইলে অনেক তথ্য ছিল বিধায় সেই প্রমানগুলো নষ্ট করার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক সবকিছু মুছে দিয়েছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। এছাড়াও অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর পরিবার বিষয়টি নিয়ে সমস্যায় আছে বলে জানানো হয় অভিযোগে।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থী জানান,‘বিভাগীয় প্রধান প্রথমে আমাকে শ্রেনী প্রতিনিধি (সি আর) হিসেবে নির্বাচন করে এবং বিভিন্ন সময় আমাকে তার রুমে ডাকতেন। এছাড়াও আমাকে তার ব্যক্তিগত রুমে ও শহরের বাসায় ডাকতেন। সেই সাথে আমি এগুলো বিভিন্ন ভাবে এড়িয়ে যেতাম। পরবর্তীতে আমাকে প্রলোভিত করার জন্য মেসেঞ্জার থেকে হোয়াটস অ্যাপে ডাকত ও ব্যক্তিগত অনেক কিছু বলতো। আমি তার বিষয়গুলোতে সাড়া না দেওয়ায় আমার ফোন থেকে সব নিয়ে মুছে দেয়। শিক্ষার্থী আরো জানান, ‘আমি এবিষয়ের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সর্বোচ্চ বিচার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি করছি। আশা করছি প্রশাসন বিষয়টা আমলে নিবে।’

এর আগেও অভিযুক্ত এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভাগের শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি এবং শিক্ষক ডরমেটরিতে তার নিজস্ব কক্ষে তার পছন্দের শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষার খাতা দ্বিতীয় পরিক্ষকের কাছে না পাঠিয়ে নিজেই তার নাম্বার লিখে দেয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগেও শাস্তি দেওয়া হয়েছিলো। বিভিন্ন সময় বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষককে ‘কুবির পরিমল’ বলেও মন্তব্য করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইংরেজি বিভাগের সাবেক এক শিক্ষার্থী জানান,‘আমাদের বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে আগেও বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে রাত কাটানোর অভিযোগ রয়েছে।’

বিভাগের নিয়মিত ও সান্ধ্য কোর্সের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন,‘নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আসলেই তাদের মধ্য থেকে সুন্দরী ছাত্রীকে শ্রেনী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনিত করেন তিনি এবং তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। ছাত্রীদের থেকে অনৈতিক সুবিধা পেতে তাদেরকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। নিজেদের সম্মান ও রেজাল্টের কথা চিন্তা করে তারা অভিযোগ করতে ভয় পায়। আর সান্ধ্য কোর্সের ছাত্রীদের মধ্য থেকে সুন্দরী ও বিবাহিতরা হচ্ছে তার টার্গেট।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক ও ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদার বলেন,‘আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ যেহেতু দেওয়া হয়েছে তা প্রমাণ করার বিষয়। প্রমাণ করলে বিষয়টি বুঝা যাবে।’

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইংরেজি বিভাগের সান্ধ্য কোর্সের প্রোগ্রাম পরিচালক ড. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি অভিযোগ পেয়েছি। সান্ধ্য কোর্সেও সাথে যারা আছেন সবাইকে নিয়ে বসে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তাহের বলেন, ‘ইংরেজি বিভাগের সান্ধ্য কোর্সে অধ্যয়নরত এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ পেয়েছি। উপাচার্যের সাথে আমি কথা বলেছি। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’