সোমবার ৬ জুলাই ২০২০


নগরীর তিনটি টার্মিনালে যানজটের ভোগান্তি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
31.01.2020

মাহফুজ নান্টু। নগরীর অন্যতম প্রবেশদ্বার শাসনগাছা। এলোপাথারী বাস-পিকআপ ভ্যান সিএনজি অটো রিকশা একটা আরেকটার সাথে লেগে আছে। নিত্যদিনই বাদশা মিয়া বাজার থেকে যানজটটি শুরু হয়ে রেলওয়ে ওভারপাসের পশ্চিমের শেষ প্রান্ত ছুঁয়ে যায়। প্রতিদিনের এমন যানজটে নাকাল থাকে শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড।
ছুটির দিন শুক্রবার। সকাল ৯ টা। নগরীর দক্ষিণের প্রবেশ পথ জাঙ্গালিয়া বাস্ট্যান্ড। এই এলাকা যানজটে থমকে থাকে। কোন গাড়ি নড়াচড়া করতে পারছে না। গাড়িগুলোতে শুধু হর্ন বাজছে। ভাঙ্গা সড়ক যানজট আর ধুলাবালি মিলিয়ে নরক ভোগান্তির শিকার যাত্রী-পথচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ডে যানজট এক ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। স্থায়ী কোন প্রতিকার নেই।
চকবাজার বাসস্ট্যান্ডকে কুমিল্লার যানজটের আতুর ঘরই বলা হয়। সারা বছরই যানজট থাকে। সরু সড়কে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিজলী সুপার ও মদিনা বাসের আলোপাথারী চলাচল দিনভর যানজট লেগে থাকে। এমন যানজট আর ধুলাবালি থেকে পরিত্রাণ মিলছে না কারো।
সরেজমিনে গত শুক্রবার,শনিবার ছুটি এবং রবিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত নগরীর তিনটি বাসস্ট্যান্ড ঘুরে এমন চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। সকাল থেকে দুপুর এবং গভীর রাতেও এমন দৃশ্য দেখা যায়।
শাসনগাছা দিয়ে প্রতিদিন চান্দিনায় যান ব্যাংকার মো:খলিলুর রহমান। তিনি জানান, প্রতিদিন শাসগাছায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট কেটে যায়। কোন সিস্টেম নেই। কেউ কোন নিয়ম মানে না। ট্রাফিক নেই। এ যেন নরকীয় দুর্ভোগ।
প্রায় একই কথা বললেন জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ডের বাস চালক আবদুল হালিম। তিনি বলেন, যানজটের জন্য আমরাও দায়ী। আমরা চালকরা কেউ কোন নিয়ম মানি না। যার যেমন ইচ্ছে তেমনভাবেই সড়কে গাড়ি তুলে দেই।
জাঙ্গালিয়ায় বাস্ট্যান্ডের সড়কটিও মেরামত হচ্ছে না দীর্ঘদিন। ভাঙ্গাচোরা সড়কটিতে হেলেদুলে চলা গাড়ির ভেতরে যাত্রীদের চরম সমস্যা হচ্ছে।

যানজটের বিষয়টি নিয়ে ট্রাফিক পরিদর্শক মো:কামাল হোসেন জানান,যে পরিমাণ ট্রাফিক সদস্য রয়েছে তা দিয়ে কখনোই যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। লোকবল না বাড়লে কিভাবে এত অল্প ট্রাফিক সদস্য দিয়ে নগরীতে যানজট দূর করবো।

তবে নগরীর তিনটি বাসস্ট্যান্ডের যানজট ও ধুলাবালির বিষয়ে কুমিল্লা সিটি মেয়র মো:মনিরুল হক সাক্কু বললেন অন্য কথা। নগরীর মূল সড়ক ও বাস্ট্যান্ডে ধুলাবালি রোধের জন্য সকাল বিকেল দু’বার পানি দেয়া হয়। তবে নগরীর যানজটের জন্য চালকরাই দায়ী।এখানে আইন প্রয়োগের চেয়ে চালকদের সচেতনতা প্রয়োজন বেশী।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো:আবুল ফজল মীর জানান, আমরা গ্রাম-নগরী পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সভা করেছি। অচিরেই তার বাস্তবায়ন করবো।