শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০


কুমিল্লায় সরিষায় রঙিন স্বপ্ন দেখছে কৃষক বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
05.02.2020

আবদুর রহমান।। কুমিল্লার দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ ছেয়ে গেছে সরিষার হলুদ ফুলে। চারদিকে যেন হলুদ ফুলের মেলা। হলুদ সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ আকৃষ্ট করছে মৌমাছিদেরও। আর এই হলুদ সরিষা নিয়েই এখন রঙিন স্বপ্ন কৃষকের চোখে। চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের হাতছানিতে কৃষকের চোখেমুখে ফুটে ওঠছে খুশির ঝিলিক। কম খরচে লাভজনক হওয়ায় সরিষা চাষের দিকেই ঝুঁকছেন তারা। আর এই সরিষা দিয়েই জীবন পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন কুমিল্লার কৃষকেরা। চলতি মৌসুমে জেলায় ৯ হাজারের বেশি হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। যা গত দশ বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে সরিষার বাম্পার ফলনের প্রহর গুণছেন জেলার কৃষকরা।
জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে কুমিল্লা জেলায় ৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। জেলার ১৭টি উপজেলার মধ্যে গত মৌসুমের মতো এবারও সরিষা চাষে শীর্ষে রয়েছে মুরাদনগর উপজেলা। এ বছর এই উপজেলার সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে সরিষার । এছাড়া জেলার হোমনা, চান্দিনা, ব্রাহ্মণপাড়, নাঙ্গলকোটসহ বিভিন্ন উপজেলাতেও বেড়েছে সরিষার আবাদ।
কৃষকরা জানান, আমন ধান ঘরে তোলার পর খালি মাঠে চলে সরিষা আবাদ। আর কম পুঁজিতে সরিষা চাষে দ্বিগুণ লাভ হয়। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ৭/৮ মন সরিষা উৎপাদন করা যায়। যার বাজার মূল্য ১০ হাজার টাকার বেশি। এতে কৃষকরাও বেশ লাভবান হচ্ছেন।
সরেজমিনে ঘুরে জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃষকরা তাদের অধিকাংশ জমিতে উচ্চফলনশীল (উফশী) বারি-১৪, বারি-৯, সরিষা-১৫ ও স্থানীয় টরি-৭ আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হলে এবং দাম পেলে আগামী বছর সরিষা চাষে আরো অনেকেই ঝুঁকে পড়বে। এছাড়া সরিষার জমিতে ধানের আবাদও ভাল হয় এবং বোরো চাষে খরচ কম হয়। এ বছর অনুকূল আবহাওয়া থাকায় সরিষা গাছও বেড়ে উঠেছে দ্রুত। যার কারনে কৃষকের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি।
জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর গ্রামের কৃষক নজির আহাম্মেদ, রামনগর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন, আবুল কাশেমসহ একাধিক কৃষক জানান, তারা ধান চাষ করে লোকসানে পড়ার কারণে আগাম জাতের সরিষা চাষ করেছেন। আর সরিষা উৎপাদনে সার কম প্রয়োগ করতে হয় এবং সেচ, কীটনাশক ও নিড়ানীর প্রয়োজন হয় না। পাশপাশি উৎপাদন খরচ কম ও স্বল্প সময়ে এই ফসল চাষ করে লাভও ভালো হয়। এছাড়া বাজারে ভালো সরিষার প্রচুর চাহিদা রয়েছে বলেও জানান তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার উপ-পরিচালক সুরজিত চন্দ্র দত্ত জানান, কুমিল্লায় জেলায় চলতি মৌসুমের সরিষা আবাদ কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রাকে অতিক্রম করেছে। আমন-বোরোর মাঝখানের সময়টি সরিষা আবাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী সময়। সরিষা অত্যন্ত লাভজনক পণ্য। আমরা সব সময় কৃষকদের সরিষা চাষাবাদের ব্যাপারে সব ধরণের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। সরিষা চাষ করে কুষকরা শুধু তেলই তৈরি করেন না। সরিষা ভাঙিয়ে খৈল ও গাছ থেকে ভূষি তৈরি হয়। যা ভালো গো-খাদ্য এবং ভালো জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।