শনিবার ২৮ gvP© ২০২০


কুমিল্লায় ৩৭ বছর ধরে ২১ দিনব্যাপী ২১শের অনুষ্ঠান


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.02.2020

। স্টাফ রিপোর্টার ।।

কুমিল্লার অন্যতম একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। গত ৩৭ বছর ধরে কুমিল্লা নগরীর ‘নগর উদ্যানের’ জামতলায় নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস শুনিয়ে আসছে সংগঠনটি।  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ১৯৮৪ সালে তিননদী পরিষদ সর্ব প্রথম ২১ দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। যা তৎকালীন কুমিল্লা নগর পার্কের জাম গাছ তলায় অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে স্থানটি কুমিল্লা নগর উদ্যানের জামতলা নামে পরিচিত। গত ৩৭ বছরে তিন নদী পরিষদের এই মঞ্চে কুমিল্লার ভাষা সৈনিকদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছেন অ্যাডভোকেট আহমেদ আলী, অধ্যাপিকা লায়লা নূর, আলী তাহের মজুমদার, মো.আবদুল জলিলসহ অসংখ্য গুণীজন।
সংগঠন সূত্র থেকে জানা গেছে, মেঘনা, তিতাস ও গোমতী নদী (তিন নদী) পাড়ের সংস্কৃতি চর্চাকে বিকাশিত করার উদ্দেশ্যে ১৯৮৩ সালে গঠিত হয় এই তিন নদী পরিষদ। প্রতিষ্ঠার পরই ১৯৮৪ সালে কুমিল্লার তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) সৈয়দ আমিনুর রহমান পৌরসভার মাধ্যমে একুশ নিয়ে অনুষ্ঠান করার জন্য নগর পার্কের জাম গাছের নিচে একটি পাকা মঞ্চ করে দেন। এরপর থেকে গত ৩৭ বছর ধরে বহু প্রতিকূলতার মাঝেও ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ২১ দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে সংগঠনটি। অমর একুশ নিয়ে ২১ দিনব্যাপী ৩৭ বছর ধরে তিননদী পরিষদের অনুষ্ঠানমালা বাংলাদেশে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। যা একেবারেই বিরল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভাষা আন্দোলন নিয়ে কুমিল্লার রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। কুমিল্লার সন্তান শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম বাংলা ভাষার সম্মানকে তুলে ধরতে কাজ করেছেন। কুমিল্লার অজিত গুহ, মেজর গণিও ভাষার সম্মান রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন। ধীরেন্দ্রনাথ দত্তই পাকিস্তান গণপরিষদে সর্ব প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবী জানান।
কুমিল্লার বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শান্তি রঞ্জন ভৌমিক বলেন, ভাষা আন্দোলন নিয়ে কুমিল্লার অনেক গৌরবের ইতিহাস রয়েছে। কুমিল্লার কৃতি সন্তান শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সর্বপ্রথম পাকিস্তান  গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবী  জানিয়েছিলেন। তখন সমস্ত পাকিস্তানের ৫৬ ভাগ মানুষের ভাষা ছিল বাংলা। তারা বাংলায় কথা বলতেন। কিন্তু শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের সেই দাবি তখন তারা মেনে নেয়নি। কুমিল্লার তিন নদী পরিষদ ভাষা আন্দোলনের গৌরবের সেই ইতিহাসগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে গত ৩৭ বছর ধরে পৌঁছে দিচ্ছে। এটা অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ। আমার মনে হয় না বাংলাদেশে আর কোথাও এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।
তিন নদী পরিষদের পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুল বলেন,  মা, মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি অনুপ্রাণিত হয়ে, উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯৮৪ সালে থেকেই সূচনা হয় তিন নদী পরিষদের। এরপর থেকেই আমরা একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ২১ দিনব্যাপী ভাষার অনুষ্ঠান করে আসছি।আমাদের উদ্দেশ্য একটাই, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে মা, মাটি, দেশ, বাংলা ভাষা  এবং একুশের আবেদনকে পৌঁছে দেওয়া।
তিন নদী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক
জমির উদ্দীন খান জম্পি  বলেন, স্বৈরাচার এরশাদ যখন সারাদেশে সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছিল, তখন এই তিন নদী পরিষদের জন্ম লাভ করে। কুমিল্লার সকল লোকজন তখন এই তিন নদী পরিষদের মঞ্চকে ব্যবহার করে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়। সেই সময় থেকে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের পথ চলা শুরু । গত ৩৭ বছর ধরে আমরা  সকলের মধ্যে স্বাধীনতা, ভাষা আন্দোলন এবং বাংলার ইতিহাসকে ছড়িয়ে দিচ্ছি এই মঞ্চ থেকে।