মঙ্গল্বার ৭ জুলাই ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » কসবায় নলকুপের বোরিং দিয়ে দ্রæত গতিতে বের হচ্ছে গ্যাস দুর্ঘটনার আশংকা


কসবায় নলকুপের বোরিং দিয়ে দ্রæত গতিতে বের হচ্ছে গ্যাস দুর্ঘটনার আশংকা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
08.02.2020

কসবা প্রতিনিধি : কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গভীর নলকূপের বোরিং দিয়ে দ্রæত গতিতে বের হওয়া গ্যাস বন্ধ হচ্ছে না। গতকাল শুক্রবার (৭ ফেব্রæয়ারি) তৃতীয় দিন আরও দ্রæত গতিতে গ্যাস বের হচ্ছে। দ্রæতগতির গ্যাস ও পানি বের হওয়ার কারণে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও দুটি গাছ ভেঙে গেছে। বিদ্যালয়ের একটি ভবন অর্ধেক মাটির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে করে যেকোন সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটনার আশংকা রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে আশে-পাশের লোকজনদের রান্না-বান্না বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জনসাধারণের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌল্লা খান, বাপেক্সের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. আলমগীর হোসেন, কসবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদুল কাউছার ভূইয়া জীবন, কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ উল আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
বাপেক্সের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি পর্যবেক্ষন করতে হবে। যেহেতু এটি গ্যাসের বিষয় তা আমাদেরকে সাবধান থাকতে হবে। বিড়ি-সিগারেটসহ যেকোন আগুন লেগে গেলে ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে।
ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌল্লা খান বলেন, বাপেক্সের প্রকৌশলীসহ উদ্ধর্তন কতৃপক্ষ ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তারা পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন। তাদের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন দুই-এক দিনের মধ্যে গ্যাস, পানি ও বালু প্রবাহিত বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। লোকজনদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এলাকাটির আশে-পাশে আগুন না ধরানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমসহ এলাকার লোকজনদের সহযোগীতা কামনা করেন।
কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার ভূইয়া জীবন বলেন, আগুন থেকে বিরত রাখার জন্য আশে-পাশের বাড়িগুলো থেকে চুলা জ্বালানো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাদেরকে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রবল দ্রæতগতিতে প্রবাহিত গ্যাস, পানি আর বালু প্রবাহিত হয়ে পুকরে গিয়ে পতিত হচ্ছে। পুকুরের মাছগুলোও মরে যাচ্ছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার দুপুরে শেরোংলা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে একটি জরুরী বৈঠক করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ উল আলমের সভাপতিত্বে সভায় কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাশেদুল কাউছার ভূইয়া জীবন, সালদা গ্যাস ক্ষেত্রের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. মহি উদ্দিন, বায়েক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আল-মামুন ভূইয়াসহ ওই এলাকার গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ উল আলম বলেন, বাপেক্সের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন যেহেতু ৫৪০ ফুট গভীর করা হয়েছে। ওই ৫৪০ ফুট এলাকার গ্যাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস বের হতে থাকবে। তারপরও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন রোববারের মধ্যে পেয়ে গেলে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বৈঠক করে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য বলা হয়েছে।
সালদা গ্যাস ক্ষেত্রের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. মহি উদ্দিন বলেছেন, গ্যাস ও পানি প্রবাহিত হওয়া বন্ধ করার কোন যন্ত্রপাতি তাদের কাছে নেই। তারা শুধু গ্যাস উৎপন্ন করতে পারেন। বিষয়টি দেখবে বাপেক্স বা পেট্রো বাংলা।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বায়েক ইউনিয়নের সালদা গ্যাস ক্ষেত্র সংলগ্ন শেরেবাংলা উচ্চ বিদ্যালয়। ওই বিদ্যালয়ের মাঠে একটি গভীর নলকূপ বসানোর সময় নলকূপের পাইপ দিয়ে গত বুধবার সকাল থেকে দ্রæত গতিতে গ্যাস বের হচ্ছে। এতে বালু, গ্যাস, পানির সংমিশ্রণ রয়েছে। কোন ভাবে গ্যাস বের হওয়া বন্ধ করা যাচ্ছে না। তৃতীয় দিনও গ্যাস বের হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বায়েক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আল-মামুন ভূইয়া বলেন, গভীর নলকুপ বসাতে গেলে এটি দিয়ে দ্রæত গতিতে গ্যাস, বালু ও পানি বের হওয়া তিনদিন অতিক্রম হলেও তা বন্ধ হচ্ছে না। বিদ্যালযেুর শহীদ মিনার ও একটি সীমানা প্রাচীর ভেঙে মাটির নিচে চলে গেছে। একটি ভবনের অর্ধেক মাটির নিচে চলে গেছে।
বায়েক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. বারেক মিয়া বলেন, যে গতিতে গ্যাস বের হচ্ছে বড় ধরনের দুঘর্টনার সম্ভাবনা রয়েছে। লোকজনও মারা যেতে পারে। দ্রæতগতি তা সমাধানের দাবী জানাচ্ছি সরকারের কাছে।