সোমবার ৬ জুলাই ২০২০


মহাসড়কের জায়গা দখল করে গড়ে উঠছে স্থাপনা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.02.2020

কুমিল্লা প্রতিনিধি।। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারে আবারো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জায়গা দখল করে নতুন করে গড়ে উঠছে স্থাপনা। সরকার নির্ধারিত স্থানে বাজার না বসিয়ে আলাদা ভাবে বাজার বসানোর ফলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বাজারের ব্যবসায়ীরা।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, সম্প্রতি সময়ে উচ্ছেদকৃত নিমসার জুনাব আলী ডিগ্রি কলেজের ফটকসহ সামনের অংশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে রেখেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিছুদিন পূর্বেও এই স্থানটি অবৈধ ভাবে দখল করে রেখে ছিলো অর্ধ শতাধিক ব্যবসায়ী। উচ্চ আদালতের নির্দেশে সড়ক ও জনপদ বিভাগ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে। সম্প্রতি সময়ে ওই স্থানে থাকা ব্যবসায়ীরা ১০০ গজ পশ্চিমে মহাসড়কের পাশে নতুন করে স্থাপনা তৈরি করতে থাকে। ওই স্থানে কিছু মালিকীয়, কিছু খাস ও মহাসড়কের ভূমি দখলে নিয়ে নতুন করে আলাদা ভাবে বাজার তৈরির চেষ্টা করছে। ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের সেইফটি পিলার।
ব্যবসায়ীরা বলেন, ঐতিহ্যবাহী নিমসার বাজারে পার্শ্ববর্তী চার পাঁচ উপজেলার চাষীরা তাদের উৎপাদিত ফসল নিমসার বাজারে নিয়ে আসেন। বাজারের পশ্চিম পাশে প্রবেশ মুখে ওই চক্রটি নতুন করে স্থাপনা তৈরি করে চাষিদের উৎপাদিত ফসল জোর পূর্বক নামিয়ে রেখে দেয়। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সবজির গাড়িগুলি প্রবেশ মুখেই আটকে দেয় ওই চক্রটি। এতে চাষিরা তাদের উৎপাদিত সবজির ন্যায্য মূল না থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বরুড়া উপজেলা থেকে আগত চাষি আবদুল মতিন জানান, জমিতে উৎপাদিত তিন মন কচুর লতি নিয়ে পিকআপ যোগে নিমসার বাজারে আসি। বাজারের প্রবেশ মুখে কয়েকজন লোক জোর পূর্বক পিকআপসহ লতিগুলি তাদের আড়তে নিয়ে যায়। নিষেধ করার পরও তাঁরা অল্প দামে লতিগুলি বিক্রয় করে দেয়। লতি গুলি মূল বাজারে আনতে পারলে আরো বেশি দামে বিক্রি করতে পারতাম।
আবদুল মতিনের মতো আরো বেশ কিছু চাষি একই অভিযোগ করে বলেন, আমরা এর প্রতিকার চাই। মূল বাজারে ক্রেতা বেশি থাকে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আর এই বাজারে আসবো না।
বাজারে পরিচালক মীর মোশাররফ হোসেন মিন্টু জানান, স্থানীয় আড়তদার কবির মেম্বার, কবির মেম্বারের ভাতিজা শাহ আলমসহ আরো কয়েকজন চাষিদের মালামাল জোর পূর্বক পশ্চিম বাজারে আটকে দেয়। তারা ওই স্থানের কোন ইজারা দেয় না। এতে বিপুল পরিমাণ লোকসান হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা উপজেলা চেয়ারম্যান আখলাক হায়দার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুল হাসানের বরাবরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয় বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুল হাসান বলেন, একটি অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বুড়িচং থানা অফিসার ইনচার্জ বরাবরে প্রেরণ করেছি।
অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে আরো বলেন, ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতের নির্দেশে আমরা কলেজের সামনে থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। অবারো যদি কেউ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে সেগুলিও পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে।