মঙ্গল্বার ৭ GwcÖj ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়য় সরিষার বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়য় সরিষার বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.02.2020

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে সরিষা চাষ। এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে উৎপাদন খরচ কম ও লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১১ হাজার ৬৫০ হেক্টর। চাষ করা হয়েছে ১১ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমি। গত বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১১ হাজার ৯৯ হেক্টর। চাষ করা হয়েছিল ১১ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর টার্গেটের চেয়ে ৭৫ হেক্টর জমিতে বেশি সরিষার চাষ করা হয়েছে।
চলতি বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ৩০৬ হেক্টর, নবীনগর উপজেলায় ১ হাজার ৬৪৫ হেক্টর, সরাইল উপজেলায় ৮০৬ হেক্টর, নাসিরনগর উপজেলায় ৫ হাজার ৫৫৫ হেক্টর, আশুগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার ৪৫৫ হেক্টর, বাঞ্চারামপুর উপজেলায় ৯৫৭ হেক্টর, বিজয়নগর উপজেলায় ১৭৬ হেক্টর, কসবা উপজেলায় ২৬৪ হেক্টর এবং আখাউড়া উপজেলায় ৫৬০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে।
চলতি বছর কৃষকরা তাদের জমিতে উচ্চ ফলনশীল বারি-১৪, বারি-১৭, বারি-১৮, টরি-৭ জাতের সরিষার চাষ করেছেন।
সরেজমিনে সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম বি ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে শুধু হলুদের সমারোহ। দিগন্তজোড়া ফসলী মাঠে হলুদ ফুলে ফুলে শোভিত। বাতাসে দোল খাচ্ছে সরিষার ফুল। সরিষার ক্ষেতে মৌমাছির গুঞ্জন। সরিষার হলুদ ফুলে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বারি-১৪, ১৭, ১৮ সহ অন্যান্য সরিষা বপনের পর ৮৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে এর ফলন পাওয়া যায়। সরিষা উত্তোলন করে ফের একই জমিতে বোরো আবাদ করা যায়। সরিষা গাছের পাতা মাটিতে পড়ে জৈব সারে পরিণত হয়। এতে জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ে। সরিষা চাষে উৎপাদন ব্যয়ও কম। সরিষা চাষের পর একই জমিতে ধান চাষ করলে সারও কম দিতে হয়। তাই এখানকার কৃষকরা বর্তমানে সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগে তারা স্থানীয় টরি সেভেন, টিএস সেভেন্টি টু, এসএস সেভেন্টি ফাইভ জাতের সরিষা চাষ করতেন। চলতি মৌসুমে তারা অধিক ফলনশীল বারি-১৪ জাতের সরিষা চাষ করেছেন। এই জাতের সরিষা ৮৫-৯০ দিনে ঘরে তোলা যায়। ফলন হয় বেশি, খরচ কম আবার লাভজনক। সরিষা তোলার পর ওই জমিতে আবার ইরি আবাদ করা যায়। তাই এই অঞ্চলে সরিষা চাষের পরিমাণ বাড়ছে।
সদর উপজেলার নাটাই গ্রামের মুখলেস মিয়া জানান, তিনি গত ৫ বছর ধরে ৩ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করে আসছেন। চলতি বছর তিনি তার জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করছেন। বিঘা প্রতি তার ৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বৈরি আবহাওয়া না থাকায় সরিষা গাছগুলো বেশ সুন্দর হয়েছে। তিনি বলেন, আশা করি এ বছর সরিষার বাম্পার ফলন হবে।
এ ব্যাপারে কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-পরিচালক আবু নাছের জানান, চলতি বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বেশী জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা কৃষকদেরকে সব ধরনের সহায়তা করে আসছি। আশা করছি এ বছর জেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হবে।