বৃহস্পতিবার ২ GwcÖj ২০২০


চান্দিনায় ফসলের মাঠজুড়ে সবজির সমারোহ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
13.02.2020

মাসুমুর রহমান মাসুদ, চান্দিনা ।। কুমিলøার চান্দিনা উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ফসলের মাঠ জুড়ে রয়েছে সবুজ সবজির সমারোহ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর এই উপজেলায় শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। বসন্তের আগমনী গান যখন প্রকৃতিতে তখনো মাঠ জুড়ে রয়েছে সবজি আর সবজি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সাথে চান্দিনার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় সহজেই সবজি পরিবহন ও বিক্রি করতে পারছেন কৃষকরা। মাঠে থাকা সবজি আরও এক মাসেরও বেশি সময় পর্যন্ত বাজারজাত করতে পারবেন তারা।

গত বছর বাজারমূল্য ভাল থাকায় এবছর ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে সবজি চাষে মনোযোগী হয়েছেন এ উপজেলার কৃষকরা। গত বছরের তুলনায় ১২০ হেক্টর বেশি জমিতে এবছর শীতকালীন সবজি চাষ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চান্দিনার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলাম।
বি¯Íীর্ণ ফসলের মাঠ জুড়ে যেদিকে চোখ যায় সবুজ আর সবুজে দৃষ্টি জুড়িয়ে যায়। শীতের সবজির এই উৎপাদন বিপ্লবে খুশি স্থানীয় কৃষকরা। প্রতি বছর এই উপজেলায় সবজির চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজার জাত করছেন চাষীরা।
চান্দিনা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী এবছর চান্দিনায় ১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদ করা হয়। যা গত বছরের তুলনায় ১২০ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে ৫৩০ হেক্টর জমিতে টমেটো, ৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা, ৭৫ হেক্টর জমিতে ফুলকপি, ২০ হেক্টর জমিতে বাধাকপি, ৭০ হেক্টর জমিতে লালশাক, ৫০ হেক্টর জমিতে বেগুন, ৭০ হেক্টর জমিতে লাউ, ৬০ হেক্টর জমিতে সীম, ৮০ হেক্টর জমিতে মূলা, ৫০ হেক্টর জমিতে শসা চাষ করা হয়। এছাড়া মিষ্টি কুমড়া, ÿিরা, বরবটি, পালংশাক, ডাটা, ঝিংগা, ঢেঁড়স, করলা ও উচ্ছে ইত্যাদি শীতকালীন সবজিরও বাম্পার ফলন হয়েছে।
২০১৯-২০২০ মৌসুমে চান্দিনা উপজেলায় ৯ হাজার ৮শত ৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লÿমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক জমিতেই সবজি উঠিয়ে বোরো আবাদে ব্য¯Í সময় পার করছেন এখানকার কৃষকরা।
এদিকে প্রতি বছর শীতকালীন সবজির ব্যাপক ফলন হয় কুমিলøার চান্দিনার মাধাইয়া, জয়দেবপুর, গড়ামারা, গণিপুর, ছায়কোট, শ্রীমন্তপুর, চিলোড়া, পূর্ব অম্বরপুর, মাইজখার, বাড়েরা, খিরাসার, বরকইট ও তুলাতলী মাঠে। এসব এলাকায় দিন দিন শীতের সবজির চাষাবাদ বাড়ছে। এসব এলাকার মাটি সবজি চাষের জন্য বেশ উর্বর এবং উপযোগী। তবে যেসব নিচু এলাকা রয়েছে সেখানে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সবজি চারা রোপণ কাজ শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে কেরনখাল ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের টমেটো চাষী মনোরঞ্জন চন্দ্র সরকার এর সাথে কথা হয়। তিনি জানান, ‘ঐশী জাতের টমেটো চাষ করেছেন তিনি। মৌসুমের প্রথমেই উৎপাদিত টমেটো বিক্রি করে যাবতীয় খরচ উঠিয়ে লাভের মুখ দেখছেন তিনি।’ এখনো জমিতে টমেটো রয়েগেছে। বিক্রিও চলছে।
বাড়েরা এলাকার টমেটো চাষী গৌরাঙ্গ চন্দ্র সরকার, সরিষা চাষী রুক্কু মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, ভোরের কুয়াশার মধ্যেই ফসলের মাঠে গিয়ে দিনভর সবজি পরিচর্যা করেন তারা। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকায় ভ্যান, পিকআপ, মিনি ট্রাকযোগে কুমিলøার বাজারগুলোতে প্রতিদিন ভোরেই নিয়ে যাচ্ছেন শীতের সবজি।
চান্দিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার জানান, ‘চান্দিনা উপজেলার জমি সবজি উৎপাদনের জন্য খুবই উর্বর। এখানকার কৃষকরাও অত্যন্ত পরিশ্রমী। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠে এখনও অনেক সবজি রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ‘নিরাপদ ও স্বাস্থ্য সম্মত সবজি উৎপাদনে চান্দিনার অনেক কৃষকরা কাজ করে যাচ্ছে।’