মঙ্গল্বার ২ জুন ২০২০


অশোকতলার ভেকু মেশিন উল্টে নারী নিহত সবজি ভ্যানের নিকট দাঁড়ানো কাল হলো শাহিদার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
20.02.2020

স্টাফ রিপোর্টার: সকালে মেয়ের বাড়ি ধর্মপুরের উদ্দেশ্য অশোকতলার বাসা থেকে রওনা হন শাহিদা বেগম(৫৫)। পথে সবজির ভ্যান দেখে দাঁড়িয়ে যান। কিছু সবজি কিনে বাসায় পৌঁছে দিয়ে তারপর মেয়ের বাড়ি যাবেন। ভ্যানের কাছে দও কষাকষির সময় পেছন থেকে একটি দ্রæতগামীর ভেকু মেশিন এসে চাপা দেয়। পাশে থাকা বেশ কয়েকটি রিক্সা ও সবজির ভ্যানগাড়িসহ চারপাঁচজনকে চাপা পড়ে। ভেকুর নীচে চাপা পড়া চার পাঁচজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান শাহিদা বেগম। ঘটনাস্থলে দৌঁড়ে যায় শাহিদা বেগমের ছেলে-মেয়েরা। তাদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠে অশোকতলা রেলগেইট এলাকা। গতকাল বুধবার সকাল পৌনে ১০টায় এ ঘটনা ঘটে। তার স্বপ্ন ছিলো পড়ালেখার জন্য দুই ছেলেকে কানাডা পাঠাবেন। তার সে স্বপ্ন পূরণ হলো না।
নিহত শাহিদা বেগম আদর্শ সদর উপজেলার কালিকাপুর এলাকার খোরশেদ আলমের স্ত্রী। অশোকতলায় থেকে খোরশেদ আলম ব্যবসা করতেন। রেলের ডাবল লাইন তৈরির মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি ভেকু মেশিন অশোকতলার রেল গেইটে একটি প্রাইভেট কারকে সাইড দিতে গেলে মেশিনটি উল্টে পাশর্^বর্তী একটি সবজি বিক্রির ভ্যানের উপর গিয়ে পড়ে। এসময় ৬জন আহত হয়।
আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে শাহিদা বেগমকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। অপর আহতদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কুমিল্লা রেল স্টেশন পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মেজবাউল আলম চৌধুরী জানান,কুমিল্লা কোতয়ালী থানা পুলিশ চালককে আটক করেছে।
নিহত শাহিদা বেগমের চার ছেলে তিন মেয়ে। বড় ছেলে আনোয়ার হোসেন জানান, আম্মা সকালে আমাদের অশোকতলার বাসা থেকে ছোট বোনের বাড়ি ধর্মপুরের উদ্দেশ্য রওনা দেয়। রেল গেইট এলাকায় সবজির ভ্যান দেখে আম্মা কেনার জন্য দাঁড়ালে একটি ভেকু মেশিন পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। পরে আম্মাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়।
আনোয়ার হোসেন কান্নারত কন্ঠে জানান, আমরা চার ভাই তিন বোন। বড় দুই ভাই প্রবাসী। আমার আম্মার স্বপ্ন ছিলো আমার ছোট দুই ভাই নাইম হোসেন ও আলতাফ হোসেনকে পড়ালেখার জন্য কানাডা পাঠাবেন। সে স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই আম্মা পরপারে চলে গেলেন। আম্মার মৃত্যুতে পরিবারটা তছনছ হয়ে গেছে।
এদিকে মায়ের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে শাহিদা বেগমের চার ছেলে ও তিন মেয়ে মিলে এই দুর্ঘটনার বিষয়ে থানায় কোন মামলা করেননি। শাহিদা বেগমের ছেলেমেয়েরা বলেন মামলা করলে ময়না তদন্তের জন্য আম্মাকে কাটা ছেড়া করবে। আর এ বিষয়টা আমরা সহ্য করতে পারবো না।
তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন,ম্যাক্স কোম্পানির ভেকু মেশিনের আঘাতে শাহিদা বেগম নিহত হলেও ম্যাক্স কোম্পানির কেউ এসে সান্ত¦নাটুকু দেয় নি।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় জানাযার নামাজ শেষে শাহিদা বেগমের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো. আনোয়ারুল হক বলেন,নিহতের পরিবার কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।