বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০


ধর্ষণের অভিযোগ নগরীতে খালু, মুরাদনগরে তাউই ও দেবিদ্বারে চাচাতো ভাই কারাগারে


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.02.2020

স্টাফ রিপোর্টার : কুমিল্লার পৃথক স্থানে তিনটি ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভাগ্নিকে ধর্ষণের অভিযোগে নগরীর সংরাইশ এলাকা থেকে খালু আবুল হাসেমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মুরাদনগর উপজেলায় মেয়ের ননদকে ধর্ষণের অভিযোগে তাউই জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তিকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। এছাড়া দেবিদ্বারে অষ্টম শ্রেণীতে পড়–য়া এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় শিক্ষক চাচাতো ভাই লিটনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
নগরীর সংরাইশে খালু গ্রেফতার
কুমিল্লায় কিশোরী ভাগ্নিকে ধর্ষণের অভিযোগে আবুল হাসেমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার নগরীর সংরাইশ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিকালে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। আবুল হাসেম জেলার চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। সে নগরীর সংরাইশ এলাকার একটি বাসায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতো। ধর্ষক ওই কিশোরীর আপন খালু।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ধর্ষিতা ওই কিশোরীর বাবা মারা যাওয়ার পর কাজের সন্ধানে সে তার খালু আবুল হাসেমের বাড়িতে আসে। সেখানে থেকে সে কুমিল্লা ইপিজেডের একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ করে আসছিল। গত বছরের ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যায় ইপিজেডে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পর আবুল হাসেম তাকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে তার খালা এবং বাকপ্রতিবন্ধী মাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এরপর থেকে আবুল হাসেম বিভিন্ন সময়ে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। সর্বশেষ সে গত ১৫ ফেব্রæয়ারি তাকে ধর্ষণ করে। বর্তমানে ওই কিশোরী ৪ মাসের অন্তস্বত্তা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় ধর্ষিতা ওই কিশোরী বাদী হয়ে আবুল হাসেমকে আসামি করে সোমবার কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় সোমবার সকালে আবুল হাসেমকে গ্রেফতার করা হয়। থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া জানান, আসামি আবুল হাসেম কুমিল্লা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইরফানুল হক চৌধুরীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
মুরাদনগর প্রতিনিধি এন এ মুরাদ জানান,কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় মেয়ের ননদকে ধর্ষণের অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তিকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। জাহাঙ্গীর আলম (৫০) উপজেলার চাপিতলা ইউনিয়নের খাপুড়া গ্রামের মৃতঃ আব্দুল বারেক মিয়ার ছেলে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত বছর ওই কিশোরীর ভাইয়ের সাথে জাহাঙ্গীর তার মেয়েকে বিয়ে দেন। কিছুদিন আগে জাহাঙ্গীর তার মেয়ের ননদকে (১৯) ধর্ষণের পর প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। ২২ ফেব্রæয়ারি রাতে ওই তরুণী তার তাউই জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বাঙ্গরা বাজার থানায় এসে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম। বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ ওইদিন রাতে জাহাঙ্গীর আলমকে ঢাকার বংশাল থানার সুরিটোলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম নিজ গ্রামে তিনটি, পাশের রগুরামপুর গ্রামে একটি ও জেলার দেবিদ্বার থানার মহেশপুর গ্রামে একটি বিয়ে করেছেন।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে ২৩ ফেব্রæয়ারি কুমিল্লার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মেয়েটিকে ডাক্তারী পরীক্ষা জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দেবিদ্বার প্রতিনিধি জানান,দেবিদ্বারে অষ্টম শ্রেণীতে পড়–য়া এক মাদ্রাসা ছাত্রী পড়তে গিয়ে শিক্ষক চাচাতো ভাই কর্তৃক একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত¡া হয়ে পড়েছে। ওই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের সুবিল গ্রামের ফকির বাড়িতে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে লিটন নামের ওই ধর্ষকে আটক করেছে।
ধর্ষিতার পিতার দায়ের করা মামলার সূত্রে জানা যায়, ধর্ষক লিটন ও ধর্ষিতা মাদরাসা ছাত্রী সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই-বোন। এ সম্পর্কের কারণে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা চরবাকর গ্রাম থেকে সুবিল গ্রামে লিটনের বাড়িতে থেকে পড়াশুনার জন্য ওই ছাত্রীকে পাঠিয়েছিলেন।
লিটন পড়ানোর ছলে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন সময়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এতে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত¡া হয়ে পড়ে। বিষয়টি লিটনের পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে লিটনের পরিবার ওই ছাত্রীকে কৃমিনাশক ঔষধ সেবনের কথা বলে গর্ভপাতের ঔষধ সেবন করিয়ে গর্ভপাত ঘটায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে রোববার রাতে দেবীদ্বার থানায় মো.লিটন মিয়াকে(২৬) আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
পরে দেবিদ্বার থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষক লিটন মিয়াকে গ্রেফতার করে এবং সোমবার দুপুরে তাকে কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। অভিযুক্ত ধর্ষক লিটন মিয়া সুবিল গ্রামের ফকির বাড়ির আবদুল মান্নান মিয়ার ছেলে।
এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে লিটনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়েরের প্রেক্ষিতে পুলিশ লিটন মিয়াকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিটন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।