বুধবার ১ GwcÖj ২০২০


৩০ বছর ধরে দেহ-মনের ব্যাথা সারান কবিরাজ শাহিন!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
26.02.2020

শাহাজাদা এমরান।। বাতের ব্যথা, কোমর ব্যাথা, দাঁত ব্যাথা, কান ব্যাথা, হাটু ব্যাথা, শরীর ব্যাথা, বুক ব্যাথা, তলপেট ব্যাথা, মাথা ব্যাথাসহ জগত সংসারের সর্ব ব্যাথার ঔষুধ দেন মামা শাহিন। গত ৩০ বছর ধরে তিনি দেশের নানা প্রান্তে এই সকল ব্যাথাসহ নানা রোগের ঔষধ বিক্রি করে আসছেন বাড়ি থেকে পাড়া, পাড়া থেকে মহল্লা, মহল্লা থেকে গ্রাম,এর পর ইউনিয়ন,উপজেলা থেকে শুরু করে দেশের বড় বড় শহর গঞ্জেও অবাধে বিচরণ তার। কেউ কেউ তাকে কবিরাজ বললেও এতে তিনি খুব একটা স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না। তবে মামা বললে ঢের খুশি হন এই সর্বরোগের সর্বজান্তা ফেরিওয়ালা ঔষধ বিক্রেতা শাহিন।
লোকে তাকে শাহিন মামা বলে ডাকলেও তার পুরো নাম মো.শাহিন। গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলায়। তবে গ্রামের বাড়িতে তার খুব একটা যাওয়া হয় না। স্ত্রী ও ৪ সন্তানদের নিয়ে বর্তমানে আবাস গড়ছেন কুমিল্লা শহরতলীর দৌলতপুরে।
আশির দশকের শেষে কিংবা নব্বই দশকের শুরুতে এই তাবিজ বিক্রি শুরু করেন শাহিন মিয়া। দেখতে দেখতে প্রায় ত্রিশ বছরের বেশী হয়ে গেল। আগের চেয়ে বেশ বিক্রি না হলেও বর্তমানে যা বিক্রি হয় তা দিয়ে সংসার ঢের চলে যায় বলে জানান এই কবিরাজ শাহিন।
প্রতিদিন সকাল ৮টার দিকে বের হন বাসায় ফেরেন রাত ৮টা কিংবা তারও পরে। দুপুরের খাওয়া ধাওয়া বাহিরেই সেরে ফেলেন। গায়ে থাকে একটি ঢিলে ঢালা হাফ হাতা শার্ট,শার্টের সাথে একটি কুটি,থাকে একটি গামছার মত হলুদ কাপর। গলায় জুলানো থাকে হ্যান্ড মাইক। দুই হাতের কনুই এর একে বারে জোড়া অংশে জুলিয়ে রাখে বিভিন্ন রকম কালো চুড়ির মত বালা। আর দুই হাতে থাকে নানা রকম তাবিজ। হ্যান্ড মাইক কেন রাখেন জানতে চাইলে কথিত শাহিন কবিরাজ বলেন,বয়স হয়েছে। গলার স্বর কমে আসছে। তাই কিছুটা দুরের মানুষের কাছে সহজে পৌঁছানোর জন্যই নতুন এই প্রযুক্তি নিতে হয়েছে।
সর্বরোগের বিশেষ করে ব্যাথার দুনিয়ায় তার তাবিজ অধিক কার্যকরী বলে দাবি করে কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জের সুজন টিন ঘরের সামনে এই শাহিন কবিরাজ বলেন, পা থেকে মাথা পর্যন্ত যে কোন ব্যাথার জন্য আমি তাবিজ,আংটি দিয়ে থাকি। আর বাত ব্যাথার জন্য কালো এই বালাটি দিয়ে থাকি। এ ছাড়াও অন্য সকল রোগীর রোগ অনুযায়ী গলার চেইনও আমি দিয়ে থাকি। ব্যাথা জাতীয় রোগ ছাড়াও ঘন ঘন প্রসাব,প্রসাবে জ্বালা পোড়া,স্বপ্ন দোষসহ আরো বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়ে মানুষের উপকার করি। বিনিময়ে যৎ সামান্য হাদিয়া নেই। তার এই রোগ রক্ষা কবচ টনিকের মত কাজ করে বলে দাবি করেন তিনি।
কিভাবে তাবিজ তৈরী করেন জানতে চাইলে শাহিন মামা খ্যাত এই স্বঘোষিত কবিরাজ বলেন,ছায়ামনি,লজ্জাবর্ত ও কামনালতা দিয়ে তাবিজ তৈরী করা হয়। এই জন্য নানা বন জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে এই সকল গাছ গাছালি সংগ্রহ করতে হয় বলেও জানান তিনি। এই সকল গাছ গাছালী কিনে আনতে না হলেও সংগ্রহ করা বেশ কষ্টকর বলে জানান শাহিন কবিরাজ।
আপনার এই সকল তাবিজ,আংটি,গলার চেইন,রাবারের বালা দিয়ে মানুষের রোগ মুক্তি হয় কিনা জানতে চাইলে শাহিন কবিরাজ বলেন,ত্রিশ বছর ধরে এই ব্যবসা করে আসছি। যদি মানুষের উপকারই না হতো তাহলে মানুষ কেন এই গুলি কিনবে। টাকা পয়সা কি মানুষ এমনি এমনি দিয়ে দেয় ।
আপনার কাছ থেকে এই সকল রোগের উপষমের ঔষধ সংগ্রহ করা ক্রেতাদের মধ্যে কোন শ্রেণীর ক্রেতা বেশী জানতে চাইলে শাহিন বলেন,সত্যি কথা বলতে কি, নিম্ম আয়ের মানুষ গুলোই মূলত আমার কাষ্টমার। যারা বড় বড় ডাক্তারের কাছে টাকা পয়সার জন্য যেতে পারে না তারাই আমার কাছ থেকে কম মূল্যে এই তাবিজ তুমার নিয়ে আরোগ্য লাভ করে।শহরে কাদের কাছে বিক্রি করছেন বললে তিনি বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ গ্রাম থেকে শহরে আসে। আবার বিভিন্ন রিকশাওয়ালা, বস্তির লোক,ঠেলাগাড়ির চালকসহ নানা ধরনের আমার কাষ্টমার রয়েছে। দৈনিক আয় কত জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকা বা কিছু বেশী বিক্রি হয় আবার কখনো কিছুটা কমও হয়। তবে গড়ে দৈনিক আপনি এক হাজার টাকা ধরতে পারেন।
মাথা ব্যাথা,গলা ব্যাথা ও দাঁত ব্যাথাসহ নানা ব্যাথার এই তাবিজ গুলোর প্রতিটি মূল্য কত জানতে চাইলে মামা শাহিন কবিরাজ বলেন, প্রতিটির দাম ত্রিশ থেকে গড়ে ৫০ টাকা। যার কাছ থেকে যা নিতে পারি। তবে দর কশাকশি করে বিক্রি করতে হয় বলে শাহিন কবিরাজ জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াতুজ্জামান বলেন, স্বীকৃত চিকিৎসকরাই চিকিৎসা করবে এটাই নিয়ম এবং আইন অন্য কেউ নয়। কেউ এমবিবিএস পাস করলেই সে চিকিৎসা করতে পারবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি বিএমডিসির অনুমতি না পাবেন। হাটে বাজারে সর্বরোগের জান্তা হিসেবে যারা ঔষধ বিক্রি করে তারা আইনের চোখে অবৈধ। তারা এটা করতে পারে না।এটা স্পস্ট জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল।
এই সকল ভুৃয়া ডাক্তার কবিরাজের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেন না জানতে চাইলে জেলার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াতুজ্জামান আরো বলেন,সরকারের বিভিন্ন কাজের পৃথক পৃথক প্রশাসন রয়েছে। আমাদের কাজ হচ্ছে কে বৈধ আর কে অবৈধ তার যাস্টিফাই করে দেওয়া। আর আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছ হচ্ছে তাদেরকে ধরা অপর দিকে ম্যাজিষ্ট্রেটের কাজ হচ্ছে তাদের বিচার করে শাস্তি দেওয়া। এ জন্য আমাদের প্রয়োজন যৌথ অভিযান। যৌথ অভিযানের মাধ্যমেই এই ভন্ড চিকিৎসকদের ধরা সম্ভব।