বৃহস্পতিবার ৪ জুন ২০২০


শত বছরের বাঙালির জাতীয়বাদের চেতনার মুজিব


আমাদের কুমিল্লা .কম :
01.03.2020

রুবেল মজুমদার।।
জোট সরকারে সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমাননের  সংগ্রামী জীবন কাহিনী গুলো তখন তেমন একটা বড় পরিসরে পাঠ্যবইয়ে খাতা খুঁজে পেতাম না,মুজিব কে নিয়ে লেখা বই গুলো পড়া ছিলো আমার বিশেষ দূর্বলতা ছোটবেলা থেকে ।যদি ও বই পড়া আমার তেমন আগ্রহ ছিলো না কখনো,ইতিহাসের ছাত্র হিসাবে মুজিব আদর্শ আমার চেতনার প্রধান প্রেরণা উৎস ছিলো সবসময় ,শহীদের বুকের রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা হলে ও তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভাষা শহীদদের রক্ত এ দেশের উর্বর মাটিতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার স্বপ্নর বীজ রোপন করেন।৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের অন্যতম মহানায়ক ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,কারন ভাষা আন্দোলন আর স্বাধীনতার আন্দোলনটি ছিলো একসূত্রে গাঁথা। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে বাঙালির স্বাধিকার সংগ্রাম একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয়। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উপস্থিতি নিশ্চিত করে। বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতির ইতিহাস খুবই পুরনো। দুই-আড়াই হাজার বছর আগে এই ভূখন্ডে অধিবাসীদের পরিচয় ছিল গঙ্গার জলের জাতি হিসেবে,ব্রিটিশ ঐতিহাসিকরা এ জাতির বীরত্বের প্রশংসা করেছেন। পদ্মা মেঘনা যমুনা পাড়ের মানুষদের প্রশংসা করে আড়াই হাজার বছর আগে কবিতা লিখেছেন। একসময় এ দেশে আসে আর্যরা। আসে আরব পাঠান মোগলরা। এরপর বাংলা ইতিহাসে ১৯০ বছর ব্রিটিশ উপনেবিশক শাসকদের শোষন শাসনের পরে বাঙালির জাতীয়বাদের বিকাশের ফলে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা উপমহাদেশ ছাড় বাধ্য হন।পরবর্তীতে পাকি¯Íান কে ভেঙ্গে ধর্মীয়ভিত্তিক আলদা দুই রাষ্ট্র গঠন হয় পা¯িÍকান আর ভারত । অন্যদিকে বাংলার বৃটিশ শাসিত একটি অবহেলিত একটি অঞ্চল ছিলো গোপালগঞ্জ। ফরিদপুর জেলার একটি অখ্যাত গ্রাম ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় টুঙ্গীপাড়া গ্রাম। সে গ্রামে এক মুসলিম পরিবারে ১৯২০ সালে ১৭ই মার্চ পিতা শেখ লুৎফর রহমানের মাতা শেখ সাহেরা খাতুনের গর্ভে জন্ম নিলেন শিশু মুজিব। যিনি পরবর্তীতে স্বীয় যোগ্যতা, প্রতিভা ও নেতৃত্বের গুণে শিশু মুজিব হতে ধীরে ধীরে মুজিব ভাই, বঙ্গবন্ধু, সর্বোপরি জাতির জনকে পরিণত হন। তিনি শুধু বাঙ্গালী জাতির জনকই নন বরং তৃতীয় বিশ্বের নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের মুক্তির অগ্রদুত হিসাবে আগমন ঘটে। বাঙ্গালী জাতিই যেন শেখ মুজিব- আর শেখ মুজিবের অপর নাম বাঙ্গালী জাতি। এমনি করেই তিনি জাতির সত্ত্বায় অ¯িÍত্বে একাকার হয়ে গেছেন। বিশ্বের অন্যকোন জননেতার পক্ষে যা সম্ভব হয়নি। এখানেই তিনি চিরকালের মত ব্যতিক্রম।১৯৪৮ সালে গর্ভনর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, পাকি¯Íানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান, ঢাকার নবাব নাজিম উদ্দিন ও নুরুল আমীনসহ এদেশীয় দোসরগণ পল্টন ময়দান ও কার্জন হলে ঘোষণা দেন,“উর্দ্দু, উর্দ্দুই হবে পাকি¯Íানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা”। মুজিবের তারুণ্য দৃপ্ত কন্ঠে প্রতিবাদী সোচ্চার না-না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ন্যায্য দাবীর পক্ষে কথা বলায়, মায়ের ভাষার পক্ষে কথা বলায় প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় হতে নাম কেটে দিল। তাতেও কিছু না হওয়ায় মুজিবকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে আমরাই রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে মায়ের ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে পেলাম। এর নেপথ্য নায়ক তৎকালীন উদীয়মান নেতা শেখ মুজিবুর রহমান।এরপরএলো ‘৫৪ এর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন। সেদিন জননেতা জনাব সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা ও মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে যে ঐতিহাসিক নির্বাচনী জোট গঠিত হলো তার প্রাণপুরুষ ও মূলচালিকাশক্তি ছিলেন শেখ মুজিব। ব্যালটের মাধ্যমে বাঙ্গালী জাতি সেদিন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে যেভাবে উৎখাত করলো, দুনিয়ার ইতিহাসে তার নজির মেলা ভার।১৯৫৮ সালের ২৮শে অক্টোবর গভর্ণর ইস্কান্দার মীর্জাকে সরিয়ে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান ক্ষমতা গ্রহণ করে। সামরিক শাসন জারি করে তারা বাঙালি গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার হরণ করা হলো। এরপর ৬২এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-এর বাঙ্গালী জাতির মুক্তির সনদ ৬ দফা ও ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলন। ৬৯ এর মহান গণঅভ্যুত্থান, ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্রের মামলাসহ প্রতিটি আন্দোলনের সফল রূপকার ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙ্গালীদের পক্ষে কথা বলার অজুহাতে বারবারই বঙ্গবন্ধু মুজিবের সুযোগ্য সহকর্মীদের আন্দোলনের মুখে নত স্বীকার করলো পাকি¯Íানের সামরিক শাসক। মুক্তি দিতে বাধ্য হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এজন্য অনেক ত্যাগ, রক্ত বিসর্জন দিতে হয়েছিল বাঙালী জাতিকে। বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্ত্মান সার্জেন্ট জহুরুল, ছাত্র নেতা আসাদ, কিশোর মতিউর, শ্রমিক নেতা মনু মিয়া, শিক্ষক ডাঃ জোহাসহ শত শত দেশ প্রেমিক ‘বঙ্গবন্ধু মুজিব’ ভক্তকে নিঃসঙ্কোচে প্রাণ দিতে হয়েছিল।‘শেখ মুজিব’জনগনের ভালোবাসা সিক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুতে পরিণত হয়েন । । বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্রনেতা, বুদ্ধিজীবী সবাই একত্রিত হলো। তারা বুঝতে পারলো মুজিব ছাড়া এ শৃংখল মুক্তির উপায় নেই। মুজিবের নেতৃত্বেই এই অন্ধকারাচ্ছন্ন উত্তাল

 

সমুদ্র পাড়ি দিতে হবে। বঙ্গবন্ধু মুজিব বাঙালীদের শিখিয়েছেন –দেশ মাতৃকার জন্য আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে বুক উঁচু করে দাঁড়াবার। গণ আন্দোলনে আইয়ুব খান গদিচ্যুত হলেন। ক্ষমতার রঙ্গমঞ্চে আবির্ভাব ঘটলো ইতিহাসের ঘৃণ্যতম ভিলেন জেনারেল ইয়াহিয়া খানের। ছলনার আবরণে তিনি তার আসলরূপ গোপন করে দেশে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন। জনচিত্তের ক্রোধ আপাততঃ প্রশমিত হলো। কিন্তু সেই মুহুর্তে বাঙ্গালীর ভাগ্যাকাশে দেখা দিল আর এক মুসিবত। ১৯৭০ সালে দেশের সমগ্র উপকূল এলাকায় সর্বনাশা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লক্ষ লক্ষ বাঙালী মারা গেল। পাকি¯Íানী শাষক গোষ্ঠী বাঙালীর চরম দুর্দিনে সামান্যতম সমবেদনা জানালো না। এতে বঙ্গবন্ধু ছুটে গেলেন জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্ব¯Í এলাকায়। আগে মানুষ বাঁচাও পরে নির্বাচন। পশ্চিম পাকি¯Íানীদের এহেন বিমাতা সুলভ আচরণে ও বঙ্গবন্ধুর দেশ ও জাতির প্রতি ভালবাসা বাঙালীদের আরো জোটবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করলো। করলো দেশাত্মবোধে জাগ্রত। ‘ইন্হা¯Íওয়াতানম’। এ বাংলা মাকে মোগল, পুর্তগীজ, বর্গী, ব্রিটিশ বেনিয়া, স্বৈরাচারী পাকি¯Íানীরাসহ হায়েনার দল যুগে যুগে শাসন-শোষণই করেনি-করেছে অত্যাচার, অপমান, ধর্ষণ ও রক্তশোষণ। এবার প্রতিশোধ নেবার সুযোগ এসেছে তাই ৭০-এর নির্বাচনে বাঙালী জাতি বঙ্গবন্ধু মুজিবের নৌকা প্রতীকে শতকরা ৯৮ ভাগ ভোট দিল। ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু ২৫শে মার্চ বাঙালীকে রক্ষার জন্য সহকর্মীদের শত অনুরোধ উপেক্ষা করে আত্মগোপন না করে যে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছিলেন তার চেয়ে বেশি নিয়ে ছিলেন জীবনের ঝুঁকি। ইতোমধ্যে সারাদেশে দেশ প্রেমিক সৈনিক, ইপিআর, পুলিশ, আনসার, ছাত্র শিক্ষক, শ্রমিক, জনতা যার যা আছে তাই নিয়ে পাকি¯Íানের বিরুদ্ধে দাঁড়ান। বঙ্গবন্ধুকে ধ্যানে জ্ঞানে রেখে তাঁরই আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন মুক্তি সংগ্রামে। পার্শ্ববর্তী বন্ধু রাষ্ট্র ভারতে পালিয়ে গিয়ে স্বল্প মেয়াদী গেরিলা ট্রেনিং নিয়ে ফিরে এলো স্বদেশ বিজয়ে। ১৭ই এপ্রিল মুজিব নগর সরকার গঠন করা হলো। তার প্রধান হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী জীবন মরণ সংগ্রামে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমাদের হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতার সূর্য আবার ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলার পূর্ব দিগন্ত্মে উদিত হলো। “পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল।

” বাঙালী জাতি আবার হাজার বছর পর একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ পেল, জাতীয় পতাকা ও সঙ্গীত পেল, কিন্তু তার স্বপ্নদ্রষ্টাকে পেলনা। কারণ বঙ্গবন্ধু মুজিব তখন পাকিস্ত্মানীদের কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দিনাতিপাত করছেন, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। বাঙালীর হৃদয়ে তখন কারবালার মর্শিয়া। কেহ রোজা রাখে, নফল নামাজ পড়ে, আবার কেহ ঠাকুর বাড়ীতে পূজা দেয় যেন তাদের প্রিয় নেতা জীবিতাবস্থায় স্বাধীন বাংলার বুকে ফিরে আসে। বহু চড়াই উৎড়াইয়ের পর পাকি¯Íানী সামরিক জান্তা বিশ্ববাসীর চাপের মুখে বাঙালীর নয়ন মনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিলেন। ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে-তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে মায়ের বুকে ফিরে এলেন। যুদ্ধ বিধ্ব¯Í একটি দেশ। খাদ্য, বস্ত্র, অর্থ কিছুই নেই। সীমাহীন অভাব ও অপরিসীম চাহিদার মধ্যে শূণ্য হাতে বাংলার মসনদে বসলেন মুকুটহীন সম্রাট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বিভিন্ন মুখী অসুবিধার মধ্যেও তিনি যখন ধীর

 

 

পদক্ষেপ শোষণমুক্ত “সোনার বাংলা” গড়ার দৃপ্ত প্রত্যয় এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই সাম্রাজ্যবাদী আন্তর্জাতিক চক্র ও তাদের এদেশীয় পদলেহী মানুষ্যরূপী পশুরা মেনে নিতে পারেনি। কারণ বঙ্গবন্ধু মুজিব শুধু বাঙালী জাতির জনক নন, বাংলাদেশের স্থপতি নন, স্বাধীনতার ঘোষক নন, তিনি ছিলেন তৃতীয় বিশ্বের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের ‘মুক্তির অগ্রদূত’। সকল দেশের জাতীয় ও মুক্তি সংগ্রামের প্রতীক। সাম্রাজ্যবাদী আন্তর্জাতিক চক্র ও তাদের এদেশীয় পদলেহী নরকের ঘৃণ্যকীটেরা প্রাসাদ ষড়যন্ত্র শুরু করে দিলেন। তারই পরিণতিতে এ দেশীয় কুলাঙ্গার ঘরের শত্রু বিভীষণ সা¤্রাজ্যবাদী চক্রের দালাল নরপশু মোশতাক, তাহের উদ্দিন ঠাকুর, মাহবুবুল আলম চাষী, কর্ণেল ফারুক, কর্ণেল রশিদ, মেজর ডালিমসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের কালো রাত্রিতে বাঙালী জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠতম সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করে। এই মাধ্যমে বাংলায় জনগন হারিয়ে পেলে তাদের হাজার বছরে শ্রেষ্ঠ সন্তান।
সংবাদকর্মী ও শিÿার্থী