মঙ্গল্বার ২৬ †g ২০২০


ইউএনও’র প্রত্যাহার দাবি এমপি মেরীর


আমাদের কুমিল্লা .কম :
04.03.2020

মোর্শেদুল ইসলাম শাজু, হোমনা : চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে হোমনা ইউএনও’র প্রত্যাহার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী। মঙ্গলবার কুমিল্লার হোমনা সদরে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, হকার্স লীগ সভাপতি মো. মমিন গত রবিবার রাতে সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুজিবশতবর্ষের একটি ব্যানার টাঙাতে গেলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের গাড়ি চালক মো. শাহজালালের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে মমিন ইউএনও’র কাছে অভিযোগ করলে তার কোনো ব্যবস্থা নেননি। তিনি বলেন, এটা বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা। এখানে এখনও রাজাকাররা আছে। আপনারা জানেন, আমার কাজ জনগণের সেবা করা। ইউএনওর কাজ আমার না। যদি আমার রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে, সেখানে আমি আওয়াজ তুলব। আমি যখন ইউনওকে ফোন করি, ওনি এতটুকু বিচলিত ছিল না। ওনি দুটি কথা বলেছেন, যা আমি গ্রহণ করি নাই। প্রথমত তিনি বলেছেন- এটা ড্রাইভারের জায়গা, সেখানে সে (ড্রাইভার) ব্যানার লাগাতে মানা করেছে। আমার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের আকাশ, মাটি, এমন কোনো জায়গা নেই- যেখানে বঙ্গবন্ধুর ছবি লাগানো যাবে না। আর ড্রাইভারের ওই জায়গাটাওতো পৌরসভার জায়গা। দ্বিতীয় কথাটি ইউএনও বলেছেন যে, তাহলে উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেন। আমি প্রশাসনকে ফোন করেছি। প্রশাসনকে বেতন দেয় সরকার। ইউএনও সরকারের বেতনভুক্ত কর্মচারী। সুতরাং এখানে ইউএনওর একটা বড় দায়িত্ব আছে। এ ব্যাপারে ডিসি সাহেবকেও বলেছি। এর আগে ইউএনওর প্রত্যাহার চেয়ে হকার্স লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ একযোগে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও সমাবেশ করেন। এর পরেই তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মহসীন সরকার, পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন বাবুল, আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিনুজ্জামান খোকন, যুগ্ম সম্পাদক গাজী ইলিয়াস, আওয়ামী লীগ সদস্য মাহবুবুর রহমান খন্দকার, হকার্স লীগ সভাপতি মো. মমিন, ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল সরকার, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক মো, মনিরুজ্জামান, পৌর যুব লীগ সভাপতি জহিরুল ইসলাম প্রিন্স, কুমিল্লা উত্তর শ্রমিক লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আকবর হোসেন সরকার প্রমুখ।
এ ব্যাপারে হকার্স লীগ সভাপতি মমিন বলেন, আমি বাসস্ট্যান্ডে ব্যানার লাগাতে গেলে উপজেলা চেয়ারম্যানের ড্রাইভার শাহজালাল আমাদের বাধা দেয় এবং মারধর করতে আসে। ব্যানার লাগাতে না পেরে চলে আসি। পরে ইউএনওর কাছে অভিযোগ করি। ইউএনও আমার কথা শুনে শাহজালালকে ডেকে আনেন। শাহজালাল এসে তার বক্তব্য অস্বীকার করে। পরে ইউএনও তাকে সরি বলতে বলেন। আমি এই বিচার না মেনে চলে আসি।
ড্রাইভার শাহজালাল বলেন, বাস স্ট্যান্ডে আমাদের একটি ছোট দোকান আছে। সেটির চালায় উঠে ব্যানার লাগানোর সময় তাদের বলেছি, চালাটি ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমি তাকে বকাঝকা কিংবা মারামারি করিনি।
ইউএনও তপ্তি চাকমা বলেন, হাকর্স লীগ সভাপতি মমিন একটি অভিযোগ করেন যে, মুজিববর্ষের ব্যানার লাগাতে গিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ড্রাইভার শাহজালাল দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হন। অভিযোগটি পেয়ে তাকে (শাহজালাল) ডেকে আনি। দুই পক্ষের কথা শুনার সময় তারা উচ্চস্বরে কথা বলেন। তখন তাদের নিবৃত্ত করতে উভয়কে সাজা দেওয়ার ভয় দেখাই। সঙ্গে সঙ্গে শাহাজালাল ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে মমিনের কাছে ক্ষমা চেয়ে জড়িয়ে ধরে। এতে উভয়েই সন্তুষ্ট হয়ে আমার অফিস থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু পরে আবার কী হলো, বুঝতে পারছি না।