মঙ্গল্বার ৩১ gvP© ২০২০


সূর্যমুখী ফুলের সাথে হাসছে কৃষকরাও


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.03.2020

মাহফুজ নান্টু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ফিরে।। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফাগুনের ঝিরঝির হাওয়ায় বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে দোল খাচ্ছে হলুদ সূর্যমুখী ফুল। জমির চারপাশে হাজারো দর্শনার্থীর ভীড়। জমিতে চাষ করা এই সূর্যমূখী দিয়ে তেল তৈরি করা হবে। স্বাস্থ্যর জন্য উপকারী বলে সূর্যমূখীর তেলের চাহিদা বেশী। তাই জমিতে ভালো ফলনে সূর্যমুখীর সাথে হাসি ফুটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষকদের মুখেও।
সরেজমিনে রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার কসবা উপজেলার আকছিনা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে ধানী জমিতে ফাগুনের হাওয়ায় দোল খাচ্ছে ছোট-বড় সূর্যমুখী ফুল। টিয়ে পাখি-ভ্রমরের গুঞ্জনে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে আছে। এসব ফুল দেখতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভীড় করে থাকে হাজারো দর্শনার্থী। আর দর্শনার্থীরা যেন ফুল নষ্ট না করতে পারে সে জন্য পালা করে পাহারা দেন ফুল চাষীর স্বজনরা।
জানা যায়, এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৩০০ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছে সূর্যমুখী ফুলের। এসব ফুল থেকে তৈরি তৈল দিয়ে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে প¦ার্শবর্তী জেলা সদরে সরবরাহ করা যাবে। গুণে মানে অন্যান্য সূর্যমুখীর তেল তৈরি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষকরা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে সূর্যমুখী তেলে কোলস্টেরল কম থাকে। তাই অন্যান্য তেলের তুলনায় সূর্যমুখী তেল অনেক বেশী স্বাস্থ্য সম্মত।
সালদানদী কসবা সড়কের পাশেই আকছিনা গ্রামে ১ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। সূর্যমুখী ফুল চাষ করার জন্য চারজন কৃষককে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সহযোগিতা করেন।
এছাড়াও পশ্চিম আকছিনায় ১৫০ শতক জমিতে সূর্যমুখী ফুল চাষ করেছেন ছোটন মিয়া। ওই ১০৫ শতক জমিতে এখন ফুলে ফুলে হলুদ হয়ে আছে। ছোটন মিয়া জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় তিনি এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। চারা রোপনের তিন মাস পার হয়েছে। আর এক মাস পরে এসব সূর্যমুখী ফুল থেকে তেল তৈরি করা শুরু হবে। কৃষক ছোট মিয়া জানান, ১শ৫ শতক জমিতে ফুল চাষে এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। সবকিছু ঠিক থাকলে খরচ বাদে তার মুনাফা হবে অন্তত দেড় লাখ টাকা ।
তবে দর্শনার্থীদের চাপে তার জমির অনেক ফুল নষ্ট হয়েছে বলে ছোটন মিয়া এখন পাহারার ব্যবস্থা করেছেন।


সূর্যমূখী ফুল চাষী মেহেদী হাসান রুবেল জানান, তিনিও কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের সহযোগীতায় ১ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করেছেন। আর একমাস পর ফুলের বীজ থেকে তৈল সংগ্রহ করবেন। রুবেল জানান, স্থানীয় বাজারে সূর্যমূখী ফুল থেকে তৈরী তেল ১২০ টাকা কেজী দরে বিক্রি করা হয়। ভালো মুনাফা হবে বলে দিনভর সূর্যমুখীর জমিতে ব্যস্ত সময় পার করেন।

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রবিউল হক মজুমদার বলেন, আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করা হয়েছে। ৩০০ জন কৃষককে সার,বীজ ও নগদ অর্থ সহযোগিতার মাধ্যমে সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করেছি। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। এতে করে কৃষকরা লাভবান হবে, ভোজ্য তেলের চাহিদাও পূরণ হবে।