বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » কুমিল্লার প্রাথমিক বিদ্যালয় বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন স্থাপনের নামে লুট


কুমিল্লার প্রাথমিক বিদ্যালয় বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন স্থাপনের নামে লুট


আমাদের কুমিল্লা .কম :
11.03.2020

মহিউদ্দিন মোল্লা : কুমিল্লার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন স্থাপনের নামে সরকারি টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও মেশিন স্থাপনের নামে ‘¯িøপ গ্র্যান্ড’ নামের স্কুলের ফান্ড থেকে ১৬থেকে ৩৩হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। চার পাঁচ গুণ বেশি দামে এই মেশিন ক্রয় করা হয়। এতে কিছু স্থানীয় এমপির লোকজন, মন্ত্রণালয়,অধিদপ্তরের কর্মকর্তা,উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা,শিক্ষক নেতা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও নয় মাস আগে মেশিন স্থাপন করা হলেও তার ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষকরা কিছু জানেন না। মেশিনটি সার্ভারের সাথে সংযুক্ত করা হয়নি। মেশিনটির কার্যক্রম না থাকায় শিক্ষকদের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারছে না উর্ধ্বতন অফিস গুলো। স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মেশিন কেনার কথা থাকলেও তা উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের মতামতের কোন মূল্য দেয়া হয়নি। মেশিনের মেয়াদ এক বছর থেকে ১৫মাস। স্কুলের দেয়ালে ঝুলে তার মেয়াদ নয় মাস শেষ হয়ে গেছে। অনেক গুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
সরেজমিন ব্রাহ্মণপাড়ার মনোহরপুর,অলুয়া, পূর্ব চন্ডীপুর, পশ্চিম চন্ডীপুর,আছাদনগর, মগ পুকুরপাড়,বুড়িচংয়ের উত্তর বুড়িচং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে মেশিন গুলো দেয়ালে ঝুলতে দেখা গেছে। সেখানের শিক্ষকরা মেশিনটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সূত্রমতে,কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলায় দুই হাজার ১৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে শুধু সদর উপজেলার প্রায় সব স্কুল সার্ভারের আওতায় এসেছে। অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, তিতাস, হোমনা, দাউদকান্দি,লাকসাম,বরুড়াসহ কয়েকটি উপজেলায় মেশিন ক্রয়ের বিষয়ে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা কেউ মুখ খুলতে চান না। তারা বলেন, সব স্কুল কমিটি জানে। তবে স্কুল কমিটি বলছে তাদের কিছু জানানো হয়নি। কয়েকজন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এমপি ও কর্মকর্তার লোকজনের মেশিন ক্রয়ের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। অবশ্য কয়েকজন কর্মকর্তা অন্য উপজেলায় রাজনৈতিক চাপ ও অনিয়ম দেখে নিজেদের এই ক্রয় কার্যক্রম থেকে সরিয়ে রেখেছেন। কেউ কেউ আবার এই পদ্ধতি তার উপজেলা চালু করেননি। বিভিন্ন উপজেলার কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।
বুড়িচং উপজেলার জয়নাল আবেদীন নামের এক ব্যক্তি মেশিন ক্রয় নিয়ে দুদকে অভিযোগ দিয়েছেন। দুদক আবার এবিষয়ে জানতে কুমিল্লা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চিঠি দিয়েছে।
ব্রাহ্মণপাড়ার মনোহরপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম তার স্কুলের মেশিনটি চালুর বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে দরখাস্ত দিয়েছেন। তিনি দরখাস্তে লিখেছেন, গত অর্থ বছরে মেশিন লাগানোর জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে ১৬হাজার টাকা দিয়েছেন। কিন্তু মেশিনটি কোন কাজে লাগছে না।
ব্রাহ্মণপাড়ার মনোহরপুর স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম ভূঞা বলেন,আমাদের নিকট কোন কিছু জানতে চাওয়া হয়নি। উপর থেকে একটি মেশিন চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। চার হাজার টাকার মেশিনে ১৬হাজার টাকা নিয়েছে। এটা কোন কাজ করছে না। একটা পেনড্রাইভ ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা ছিলো। তার কোন খবর নেই। মেশিনটা অচল অবস্থায় নয় মাস ধরে পড়ে আছে। এতে সরকারের ডিজিটাল কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম মুন্সী বলেন, মেশিনের সমস্যা হলে দূরের লোকজনকে পাওয়া যাবে না। তাই কাছের লোকজন মেশিন সরবরাহ করেছে। এখনও মেশিনটি সার্ভারে সংযুক্ত হয়নি।
ব্রাহ্মণপাড়ার ১০৮টি স্কুলে মেশিন সরবরাহকারীদের একজন সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি উজ্জ্বল চন্দ্র শীল বলেন,আমি একা নই। মমিনসহ কয়েকজন মেশিন দিয়েছি। আমি ১৬ হাজার করে নিয়েছি। অন্যদের বিষয়ে বলতে পারবো না। মেশিন সার্ভারে সংযুক্ত ও শিক্ষকদের ট্রেনিং দেয়ার তিনি বলেন,মেশিন দিয়েছি। একদিনের একটা প্রশিক্ষণ করতে পারি। নেট নাই তাই সার্ভারে কানেক্ট হবে না। তারা পেন ড্রাইভে করে তাদের হাজিরা উপজেলায় দিয়ে যাবে। পেন ড্রাইভ দেয়ার বিষয়ে বলেন,আমরা দিবো,না হয় তারা ক্রয় করবে। একটা ব্যবস্থা তো হবো।
দাউদকান্দি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো.নুরুল ইসলাম বলেন, এগুলো আমরা জানি না। স্কুল কমিটি নিজেরা মেশিন ক্রয় করেছে।
দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম মিয়া সরকার বলেন, মেশিন আমরা ক্রয় করিনি। তবে অন্য উপজেলায় যেভাবে হয়েছে আমাদের এখানেও সেভাবে হয়েছে। আমরা চাকুরি করি। তাই বিস্তারিত কিছু বলতে পারবো না।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান বলেন, শুধু সদরের অশিকাংশ স্কুল সার্ভারের আওতায় এসেছে। স্কুল কমিটির মেশিন ক্রয়ের নিয়ম রয়েছে। কয়েকটি উপজেলায় অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। সেগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।