সোমবার ১ জুন ২০২০


পদুয়ার বাজার ইউটার্নে ঝরছে প্রাণ!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.03.2020

মাসুদ আলম।। ইউটার্ন যেন মরণফাঁদ! নির্মাণের চারবছরের মাথায় শতাধিক ছোট-বড় দুর্ঘটনায় ঝরে গেল প্রায় অর্ধশত প্রাণ।
বিপদজনক এই ইউটার্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ারবাজার পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয় সংলগ্ন বাইপাসের ইউটার্ন। এছাড়াও ওই ইউটার্নে মর্মান্তিক শতাধিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই শতাধিক ব্যক্তি। যাদের মধ্যে রয়েছে নারী, শিশু, চালক, পরিবহন যাত্রী এবং পথচারী। তাদের মধ্যে কেউ হাসপাতালে কয়েকদিন থেকে বিদায় নিয়েছেন। কেউ বা দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পঙ্গুত্বকে জীবনের সঙ্গী হিসেবে নিয়েছেন। আবার কেউ চিকিৎসা নিয়ে জীবনের জন্য বেঁচে গেছেন। ব্যস্ততম এই মহাসড়ক দিয়ে কয়েক মিনিটে শত গাড়ির নিয়ন্ত্রণহীন গতির চলাচলে দিন দিন ইউটার্নটি আরও বিপদজনক হয়ে উঠছে। এদিকে ইউটার্ন নিতে গেলে তিন দিকের গাড়ি জট সৃষ্টি হয়ে দীর্ঘ যানজটে রূপ নিচ্ছে। জনস্বার্থে দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) কর্তৃপক্ষ।
হাইওয়ে পুলিশের দেওয়া এক পরিসংখ্যানে দেখা গেল, গত ৬মাসে অর্ধশতাধিক ছোট-বড় দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল সাতজনের, আহত হয়েছে অসংখ্য। প্রতি মাসে অন্তত ৭ থেকে ৮টি দুর্ঘটনা ঘটছে এই ইউটার্নে। গত ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দ্রæতগামী বাসের চাপায় নিহত হয় মোটরসাইকেল আরোহী তিন ছাত্রলীগ নেতা, ২২সেপ্টেম্বর মাইক্রোবাস ইউটার্ন নিতে গেলে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হন স্বামী স্ত্রী দুজন, আহত হন ৭জন। এমন দুর্ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে এই মরণফাঁদে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার। ইউটার্নের দুই পাশে (উত্তর ও দক্ষিণে) দুটি লিংক রোড রয়েছে। লিংক রোডের পরিবহনগুলোও ইউটার্ন ব্যবহারের মাধ্যমে চলাচল করে। এছাড়া এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতি মিনিটে শত গাড়ি চলাচল করে। সেই গাড়িগুলোর গ্যাপে নোয়াখালী, ল²ীপুর ও চাঁদপুর রুটের পরিবহনগুলো বাম লেন থেকে ডান লেনে প্রবেশ করে। যানবাহন ইউটার্ন করার সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারালেই ঘটছে দুর্ঘটনা। এছাড়াও উল্টোপথে আসা যানবাহন একই ইউটার্নে বাক নিলে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এনিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান স্থানীয়রা।
কুমিল্ল বাস মালিক সমিতির মহাসচিব মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বিপদজনক এই ইউটার্নে ট্রাফিক ব্যবস্থা নেই। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অধিকাংশ গাড়ির চালক ইউটার্নে এসেও গতি কমান না। ইউটার্নের একটু পশ্চিমে রেলওয়ে ওভারপাস রয়েছে। সেটিকে পরিকল্পিতভাবে মহাসড়ক ফেনীর মত বড় করা বা ইউলুপ নির্মাণ করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে আসতো।
আবুল খায়ের, দেলোয়ার, ফয়সাল নামে একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লা-নোয়াখালী-চাঁদপুর সড়কের চারমুখী মিলনস্থল পদুয়ার বাজারে ফ্লাইওভার কিংবা ইউলুপ নির্মাণ না হওয়ায় দুর্ঘটনা আর যানজটে ভোগান্তি বাড়ছে। এই ইউটার্নে প্রায় সময় সকাল বেলায় গাড়ির গøাস ভেঙ্গে পড়ে থাকতে দেখা য়ায়। বেশির ভাগ সময় রাতে দুর্ঘটনাগুলো বেশি ঘটে। ঢাকা-চট্টগ্রামের দ্রæতগতির পরিবহনগুলো পদুয়ারবাজারের বিপদজনক ইউটার্নটির কথা মনে রাখেন না। যার কারণে প্রতিনিয়ত এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্ল অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পদুয়ার বাজার ইউটার্নে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। পাশ্ববর্তী হোটেল থেকে ইউটার্নের দিকে আসা উল্টোপথের গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ঢাকা-চট্টগাম মহাসড়কের গাড়ির নিয়ন্ত্রণহীন গতি, পথচারীদের অসচেতনতা, সংকেত না দিয়ে ইউটার্ন নেওয়া এবং প্রায় সময় উল্টোপথে হঠাৎ এসে যাওয়া পরিবহনের জন্যই দুর্ঘটনা ঘটছে। ইউলুপ নির্মাণের মধ্যে দিয়ে সওজ বিভাগ সমস্যাটির সমাধান করতে পারে।
ইউটার্নটি বিপদজনক বলে স্বীকার করে কুমিল্লার সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদউল্লাহ জানান, ইউলুপ নির্মাণে প্রকৃয়া চলছে। এছাড়া দুর্ঘটনা রোধে পদুয়ার বাজার এলাকায় ২৭টি সমস্যা চিহ্নিত করেছে বুয়েটের গবেষণা দল। ইউটার্নে দুর্ঘটনা এড়াতে নতুন ট্রাফিক ডিজাইনের প্রস্তাবনা রয়েছে।