বুধবার ১ GwcÖj ২০২০


তবুও অনিরাপদ কুমিল্লার মহাসড়ক


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.03.2020

আবদুর রহমান।।  ক্রসফায়ার, অভিযানের পরেও অনিরাপদ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশ। কুমিল্লা জেলার ১০৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে মহাসড়কটি।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, এই মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে একের পর এক ঘটেই চলেছে ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনা। অনেক সময় ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের হাতে ঘটছে হত্যাকাÐ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত রাখলেও কিছুতেই যেন থামানো যাচ্ছে না এসব ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক সশস্ত্র ডাকাত ও ছিনতাইকারী গ্রুপ। এসব অপরাধীরা সন্ধ্যা নামলেই জেগে উঠছে মহাসড়কের মধ্যে। তারা প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও পিকআপে যাত্রী পরিবহনের ফাঁদ পেতে একের পর এক ঘটিয়ে চলেছে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা। বিশেষ করে রাতে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস দিয়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার নাম করে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে কেড়ে নিচ্ছে সর্বস্ব। এরপর নির্জন স্থানে নিয়ে নেশা জাতীয় দ্রব ব্যবহার অজ্ঞান করে ফেলে দিচ্ছে সড়কের পাশে। চলতি বছরেই এসব চক্রের হাতে বেশ কয়েকটি নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লায়।
গত ১২ মার্চ এসব চক্রের হাতে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন শহীদুল ইসলাম শাহীন নামে জেলার লাকসামের এক সাংবাদিক। ডাকাতরা ওই সাংবাদিককে বেধড়ক মারধর করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শহীদুল ইসলাম শাহীন জানান, তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা অপেক্ষা করছিলেন গাড়ির জন্য। এ সময় বাস না পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট-পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে রুটে চলাচলকারী একটি মারুতি মাইক্রোবাসে উঠেন তিনি। ওই সময় মাইক্রোবাসের ভিতরে দুইজন লোক ছিল। এক পর্যায়ে মাইক্রোবাসটি জেলার সদর উপজেলার ঝাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছলে আগ থেকেই ভিতর বসে থাকা ওই দুইজন ব্যক্তি এবং গাড়ি চালকসহ তাকে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে ওই ছিনতাইকারী দল শাহীনের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, টাকা নগদ টাকাসহ সকল কিছু কেড়ে নেয়। পরে তারা তাকে হাড়াতলী এলাকায় ফেলে দিয়ে যায়।
সাংবাদিক শাহীন আরো জানান, এই ঘটনার পর অন্য একজনের মোবাইল দিয়ে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেছি। এরপর তারা আমার থেকে ঘটনা বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। তবে আজও কোনো প্রতিকার পাইনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৯ জানুয়ারি দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকা থেকে কুমিল্লা জেলা পরিষদ সদস্য ও মুরাদনগর উপজেলা যুব লীগের আহŸায়ক খায়রুল আলম সাধনের (৫০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সাধন মুরাদনগর উপজেলার ভুবনঘর গ্রামের মৃত সুলতান মাহমুদের ছেলে। ঘটনার দিন সকালে ঢাকার বনশ্রী এলাকার বাসা থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে খায়রুল আলম সাধন জেলার মুরাদনগরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরিবারের ধারণা প্রাইভেট কোনো গাড়িযোগে তিনি মুরাদনগরে ফিরছিলেন। ছিনতাইকারীরা তাকে গাড়ির ভেতর হত্যা করে মরদেহ মোস্তফাপুরে ফেলে যায়। সর্বশেষ শুক্রবার ভোরে জেলার চান্দিনা উপজেলার ছয়ঘরিয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে পুলিশের সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে খোকন নামের এক ডাকাত সদস্য নিহত হয়। পুলিশ জানিয়েছে ওই ডাকাত চাঞ্চল্যকর সাধন হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলো।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কুমিল্লার তদন্তে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামে ডাকাত দলের হাতে মোক্তার হোসেন সৈকত নামে এক যুবক খুন হওয়ার রহস্য বের হয়। গত ২১ জানুয়ারি ভোর সাড়ে ৪টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিরশ্বানী বাজার এলাকা থেকে মিয়াবাজার হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মাথা ও মুখমণ্ডল থেতলানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। এছাড়া মহাসড়কে আরো বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে চলতি বছরে। যার প্রায় প্রতিটি-ই ঘটেছে ডাকাতি ও ছিনতাইকে কেন্দ্র করে।
এদিকে গত ১৯ জানুয়ারি গভীর রাতে মহাসড়কের জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাবুর্চিবাজার নামক এলাকায় থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ ডাকাত দলের ১১ সদস্যকে গ্রেফতার করে। গত ১৭ জানয়ারি রাত ২টার দিকে মহসড়কের বুড়িচং উপজেলার কবিলা মনিপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে একটি বিদেশি পিস্তল,গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ ৫ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে বুড়িচং থানা ও দেবপুর ফাঁড়ি পুলিশ। এছাড়া আরো বেশ কিছু অভিযানে ডাকাত-ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করা হলেও কিছুতেই থামছে না মহাসড়কের ছিনতাই-ডাকাতি।
এসব প্রসঙ্গে ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.সাফায়েত হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনার কথা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখা হবে।