বুধবার ১ GwcÖj ২০২০


‘বাইরে ভাইরাস ঘরে অভাব’


আমাদের কুমিল্লা .কম :
26.03.2020

মহিউদ্দিন মোল্লা :  রিকশা চালক অলিউল্লাহ। বাসা কুমিল্লা শহরতলীর বউ বাজারে। ১০জনের পরিবার। সকাল ৮টায় বের হয়েছেন। ১০টা পর্যন্ত কোন ভাড়া পাননি। বিরস বদনে বসে আছেন নগরীর কাপ্তান বাজারে। তিনি বলেন,গত তিন চার দিন ধইরা রাস্তায় মানুষ কম, তাই ভাড়া কম। আগে পাইতাম দিনে পাঁচ ছয়শ’ টাকা। এহন পাই দুই তিনশ’। হাওলাত বরাত শুরু হইয়া গেছে। হুনছি সামনে রাস্তায় মানুষ নামবো না। তহন কি করমু। বাইরে বাইর হইলে ভাইরাসে ধরবো। ঘরে তাকলে না খাইয়া মরমু। কি করমু বুঝতে পারছি না।’
শ্রমিকদের সূত্র জানায়, কুমিল্লায় নগরীতে রয়েছে ১০হাজারের উপরে রিকশা চালক, ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক আছে পাঁচ হাজারের মতো। সিএনজি চালিত অটো রিকশা আছে চার হাজারের উপরে। রেস্টুরেন্ট আছে সাড়ে তিন শতাধিক। প্রতিটি রেস্তোরাঁর কর্মচারীর আছে গড়ে ১৫জন। ফুটপাথে বসা শরবত,চা,বাদাম,তালাচাবি বিক্রেতা আছে তিন শতাধিক। প্রত্যেকজনের পেছনে রয়েছে পরিবারের ৮-১০জন সদস্য। স্থানীয় এবং উত্তর বঙ্গের দিন মজুর রয়েছে। প্রেস,বিপণী বিতানের শ্রমিক,হাসপাতালের স্টাফ অনেককে ছুটি দেয়া হয়েছে। তারা সবাই দৈনিক আয়ের উপর জীবিকা নির্বাহ করেন।
কুমিল্লা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি সভাপতি এম এ মুকিত টিপু বলেন,নগরী ও হাইওয়েতে সাড়ে তিন শতাধিক রেস্তোরাঁ রয়েছে। অধিকাংশ গুলো কাস্টমার সংকটে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তারা দৈনিক আয়ের ভিত্তিতে জীবিকা নির্বাহ করতো। যেসব মালিকরা সামর্থ্যবান তারা কিছু বেশি বেতন দিয়েছেন। এদের পাশে স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও সমাজ সেবকদেরও দাঁড়াতে হবে।
মহানগর শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহবায়ক মো. আনিছুর রহমান ভূঁইয়া বলেন,দিন মজুরদের আয় কমে গেছে। সরকারের পাশাপাশি তাদের পাশে বিত্তবানদের সহায়তার আহবান জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ অটো রিকশা শ্রমিক লীগ মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুব মিয়া বলেন, প্রতি পরিবারে ১০জনের সদস্য আছে। সরকার খাদ্যের ব্যবস্থা না করলে শ্রমিকরা বেকায়দায় পড়বে।
কুমিল্লা জেলা অটো রিকশা,অটো টেম্পুু,সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আলম বলেন, চালকদের ভাড়া কমে গেছে। মালিকদের সাথে কথা বলে তাদের থেকে দৈনিক টাকা ভাড়া কমানোর কথা ব্যবস্থা করবো। সাংগঠনিকভাবেও শ্রমিকদের সহযোগিতার চেষ্টা করবো।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন,হত দরিদ্রদের জন্য সরকার টাকা ও খাদ্য বরাদ্দ করবে। বরাদ্দ এলে আশা করি সংকট কেটে যাবে।