রবিবার ৩১ †g ২০২০


পিপিই সুরক্ষা সরঞ্জাম নেই কুমিল্লার সুপার শপগুলোতে!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
02.04.2020

মাসুদ আলম।। স্বপ্ন, আমানা, বিগ বাজার এবং রোসা নামে চারটি প্রতিষ্ঠানের কুমিল্লায় পাঁচটি সুপার শপের কোনটাইতে নেই র্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) এবং স্বাস্থ্যসম্মত সুরক্ষা সরঞ্জাম। স্টাফ, গাইডগণ এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীদের নেই কোন বাড়তি সুরক্ষা সরঞ্জাম। স্বাভাবিক সময়ের মত পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই), মাস্ক এবং স্বাস্থ্যসম্মত হ্যান্ড গøাভস ছাড়াই গাইডগণ ক্রেতাদের বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহে সাহায্য করছে। সামাজিক দূরত্ব চলছে স্বাভাবিক নিয়মে। দূরত্ব চিহ্ন মানছেন না ক্রেতারা। তৈরি হচ্ছে দৈনিক বাজারের মত জনসমাগম।
এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রামণের কারণে সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টিতে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রির দোকানপাট বন্ধ রয়েছে কুমিল্লায়। শুধু কাঁচা বাজার এবং ভোগ্যপণ্যের দোকানগুলোর সাথে খোলা রয়েছে সুপার শপগুলো। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে সচেতন মানুষগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা, কান্দিপাড় এবং ইপিজেড এলাকার সুপার শপগুলো খোলা রয়েছে।
কান্দিরপাড় ভিক্টোরিয়া কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শাখার সামনে অবস্থিত বিগ বাজার সুপার ঘুরে দেখা যায়, স্টাফ, গাইডগণ এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীদের নেই কোন সুরক্ষা সরঞ্জাম। করোনা সংক্রামণ রোধে কর্মীদের শরীরে পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) ছাড়াও মুখে মাস্ক, হাতে হ্যান্ড গøাভসও নেই। ক্রেতারা বাহির থেকে সুপার শপে স্বাভাবিক নিয়মে আশা যাওয়া করছেন।
তবে এই সুপার শপ ম্যানাজার আজিজুর রহমানের দাবি স্টাফ ও গাইডের পিপিই না থাকলেও মাস্ক এবং হ্যান্ড গøাভস আছে। তারা ব্যবহারে উদাসীন। সবসময় জীবাণুনাশক দিয়ে সুপার শপ জীবাণুমুক্ত রাখছেন।
আমানা বিগ বাজার সুপার শপে গিয়ে প্রায় একই দৃশ্য দেখা গেল। তাদের স্টাফ, গাইডগণেরও সুরক্ষা সরঞ্জাম পিপিই নেই। হাতে হ্যান্ড গøাভস নেই। মুখে মাস্ক থাকলেও সবাই ব্যবহার করছে না। কাউন্টারের ক্যাশিয়ার এবং ম্যানেজারসহ এই সুপার শপের কোন জনবলই করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সচেতন নয়।
আমানার ম্যানাজার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, কোম্পানি থেকে তাদেরকে পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) দিয়েছে। পার্সেল কোম্পানি অফিস বন্ধ করে চলে যাওয়ার কারণে সুরক্ষা সরঞ্জাম পিপিই আনতে পারেনি। তবে তিনি দাবি করেন, তাদের কর্মীরা মাস্ক এবং গøাভস ব্যবহার করছেন। তবে তার দাবির সাথে সরেজমিনে কোন মিল ছিল না।
নগরীর ঝাউতলা স্বপ্ন সুপার শপে গিয়ে দেখা যায়, কাউন্টারের ক্যাশিয়ার, গাইডগণ এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মধ্যে সংক্রামণ রোধে কোন সরঞ্জাম নেই। পিপিই থাক দূরের কথা অনেকের মুখে মাস্কও নেই। অনেকে খুর নি¤œমানের হ্যান্ড গøাভস ব্যবহার করলেও গøাভস দিয়ে আঙ্গুল বের হয়ে পড়েছে। ক্রেতাদেরকে সামাজিক দূরত্ব তৈরির জন্য কোন নির্দেশনা নেই।
তবে এই সুপার শপের ম্যানাজার কামরুজ্জামান জানান, সুপার শপে কর্মরত কর্মীদের জন্য কোম্পানির কাছে একাধিকবার পিপিই এর জন্য বলা হয়েছে। তবে এখনও পিপিই আসেনি। তার দাবি সুপার শপে প্রবেশের সময় জীবাণুনাশক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ক্রেতাদের হাত জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে। সকালে বিকিকিনি করার পূর্বে জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানো হয়।
আবুল হাসেম নামে এক ক্রেতা জানান, বিভিন্ন ধরনের ক্রেতারা এই সুপার শপে আসা-যাওয়া করছেন। এক ক্রেতা জীবাণু বহন করলেই সংক্রামণ ছড়িয়ে পড়ছে। কারণ সুপার শপগুলোতে কর্মরত কর্মীদের জন্য যথেষ্ট পরিমানের সুরক্ষা সরঞ্জাম নেই। পিপিই নেই। গাইডগণ যে ভাবে ক্রেতাদের সহযোগিতা করে তাদের মাধ্যমে খুব স্বাভাবিক ভাবে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ খোকন বলেন, স্থানীয় এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারসহ কুমিল্লার সকল সুপার শপ ঘরে দেখেছি তাদের কেন কর্মীর শরীরে পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) নেই। করোনা ভাইরাস সংক্রামণ রোধে জেলার সকল দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। খোলা রাখা হয়েছে সুপার শপগুলো। কিন্তু তাদের মধ্যে সচেতনতা, কর্মীদের সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং সামাজিক দূরত্বে বলয় না থাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে সময় কমিয়ে আনা হয়েছে। এখন থেকে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা রাখতে পারবেন।