রবিবার ৩১ †g ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » করোনা পরিস্থিতি: কুমিল্লায় বাড়ি ভাড়া মওকুফ চান ভাড়াটিয়ারা


করোনা পরিস্থিতি: কুমিল্লায় বাড়ি ভাড়া মওকুফ চান ভাড়াটিয়ারা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
02.04.2020

আবদুর রহমান।। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস অচল করে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। করানোর প্রভাবে থমকে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা। এই অবস্থায় তাদের সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে বাড়ি ভাড়া। জানা গেছে, মার্চ মাস শেষ হয়ে নতুন মাস এপ্রিল শুরু হওয়ায় বাড়ি ভাড়া পরিশোধের চিন্তা মানুষকে অনেক বেশি ভাবিয়ে তুলছে। কারন মাসের শুরুর দিকেই প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করতে হয়।এমন পরিস্থিতিতে কুমিল্লা নগরীসহ আশপাশের এলাকার ভাড়াটিয়ারা মার্চ এবং এপ্রিল মাসের বাড়ি ভাড়া মওকুফ করার দাবি জানিয়েছেন। আবার অনেকে দাবি করেছেন, পুরোটা না হলেও মানবিক কারনে অর্ধেক ভাড়া হলেও যেন ছাড় দেওয়া হয় ভাড়াটিয়াদের। আর তা না হলে চলমান পরিস্থিতিতে বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হবে বেশিরভাগ ভাড়াটিয়াদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে; বৈশ্বিক মহামারী প্রাণঘাতী করোনার প্রভাবে গোটা বিশ্বের মতো থমকে গেছে দেশেও অর্থনীতির চাকাও। এমন পরিস্থিতিতে সরকার গত ২৬ শে মার্চ থেকে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন। আর সরকারের নির্দেশে করানো থেকে রক্ষা পেতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাচ্ছেন না। এই অবস্থায় থমকে গেছে বেশিরভাগ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মসহ সকল আয়ের উৎস। এতে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তসহ বেশিরভাগ মানুষকে বর্তমান পরিস্থিতিতে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। ফলে মাস শেষে বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করা এখন অনেক মানুষের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
নগরীর বেশ কয়েকজন ভাড়াটিয়া জানান, করোনার অবস্থা দেখে মানবিক কারনে দেশের বিভিন্নস্থানের বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়াদের ভাড়া মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছেন। কুমিল্লা নগরীর বেশিরভাগ ভাড়াটিয়া হচ্ছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব শ্রেণি-পেশার মানুষের সংসারের চাকা অনেকটাই থমকে গেছে। তাই নগরীর বাড়িওয়ালারাও যেন মানবিক কারণে ভাড়া মওকুফ করেন অথবা কিছুটা ছাড় প্রদান করেন এটা এখন সকল ভাড়াটিয়াদের দাবি।
নগরীর টমছমব্রিজ এলাকার ভাড়াটিয়া আবুল কাশেম জানান, প্রতিমাসে যেই পরিমাণ আয় করি, তা দিয়ে বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করে পরিবার নিয়ে কোনরকম দিন কাটাই। তবে গত কিছুদিন করোনার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছি না। তাই বাড়ি ভাড়া পরিশোধ নিয়ে বেশ চিন্তায় রয়েছি।
নগরীর হাউজিং স্টেট এলাকার ভাড়াটিয়া আলমগীর হোসেন জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেই পরিবার নিয়ে দু’বেলা ডাল ভাত খেতে কষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় কিভাবে বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করব? আমি সিটি মেয়র মহোদয়কে অনুরোধ জানাবো তিনি যেন মানবিক কারনে বাড়ি ভাড়া মওকুফের বিষয়টি বিবেচনা করে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
নগরীর কাপ্তানবাজার এলাকার ভাড়াটিয়া শাহজাহান মিয়া বলেন, বাড়িওয়ালাদের অনেকে আছেন যারা বাড়িভাড়ার উপরে নির্ভরশীল। তাই আমার অনুরোধ থাকবে পুরো মাসের ভাড়া মওকুফ করা সম্ভব না হলেও অন্তত অর্ধেকটা যেন মানবিক কারণে মওকুফ করা হয়। এতে বাড়িওয়ালারা রক্ষা পাবেন, পাশাপাশি ভাড়াটিয়াদের জীবনটা একটু বাঁচবে।
বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো.মনিরুল হক সাক্কু বলেন, বাড়ি ভাড়া মওকুফের বিষয়ে আমরা এখনো সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে নগরীর বাড়িওয়ালাদের অনুরোধ করবো আপনারা ভাড়াটিয়াদের প্রতি মানবিক আচরণ করুন । প্রয়োজনে ভাড়াটিয়াদের ভাড়া পরিশোধের জন্য একটু সময় দিন, সুযোগ দিন। আর আপনারা ব্যক্তি উদ্যোগে ও মানবিক কারনে ভাড়াটিয়াদের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।