শনিবার ৩০ †g ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে জামিনের অপেক্ষায় ২১৭ বন্দি


কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে জামিনের অপেক্ষায় ২১৭ বন্দি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
05.04.2020

শাহাজাদা এমরান।। বিশ্বব্যাপী আতংক মরনব্যাধি করোনাভাইরাস নিয়ে দেশের অন্যান্য কারাগার গুলোর মতো কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারেও বন্দিদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। নতুন আগত আসামিদের কারাগারের ভিতরে প্রবেশের সময় পৃথক একাধিক স্থানে একাধিকবার হাত ধোয়ে ,পটাসিয়াম পারমা ম্যাগনেটযুক্ত পানিতে জুতার নিচু অংশ ভিজিয়ে তারপর মাস্ক পড়ে ভিতরে প্রবেশ করতে হচ্ছে। একই সাথে নতুন বন্দিদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনেও রাখা হচ্ছে। করোনার কারণে বিভিন্ন ক্যাটাগড়িতে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ২১৭ জন আসামিকে জামিন দেয়া হতে পারে। শনিবার কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের বিভিন্ন ক্যাটাগরির আসামীদের পৃথকভাবে ঢাকায় তালিকাও পাঠানো হয়েছে।এতে সব কিছু যাছাই-বাছাই করে নিদের্শনা পেলেই এসব জামিনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে কারাগার সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি সূত্র জানায়, করোনা আতঙ্ক কাটাতেই সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। যাদের অপরাধ লঘু এবং যারা ৬ মাস ধরে সাজা ছাড়াই কারাগারে হাজত বাস করছেন, এমন তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের চেষ্টা, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও প্রতারণা এসব অপরাধে অপরাধীদের তালিকাও করা হয়েছে। তবে গুরুত্বর অপরাধী যেমন- হত্যা, মাদক, ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের আসামি, তাদেরকে তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। কুমিল্লা থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যাছাই-বাছাই করেই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসে (কোভিট-১৯) সারাবিশ্বের মানুষকে আতঙ্কে রেখেছে। সেই আতঙ্ক দেশের কারাগারে থাকা বন্দিদের মধ্যেও রয়েছে। তার ওপর কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ বন্দি থাকার বিষয়টি আরও বেশি সমস্যায় ফেলে দিয়েছে কারা কর্মকর্তাদের।৪ এপ্রিল শনিবার কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে মোট বন্দি ছিল ২,৩৬৫ জন । এর মধ্যে প্রায় ১০২ জন মহিলাও রয়েছে।
তাই বন্দিদের করোনা আতঙ্ক কাটাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ বিশেষ জামিনের উদ্যোগ নিয়েছে। লঘু অপরাধে দীর্ঘদিন ধরে হাজত বাস করছেন, প্রথম ধাপে এমন বন্দিদের জামিন দেওয়া হবে। ফলে করোনা ভাইরাস উপলক্ষে কুমিল্লা কারাগার থেকে ২১৭ জনের মতো বন্দি জামিন পেতে পারেন। এই ২১৭ জন বন্দিকে পৃথক তিনটি ক্যাগাগরিতে বাছাই করা হয়েছে।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে যে সকল কয়েদি বন্দি রয়েছে , যাদের সাজার মেয়াদ সর্বোচ্চ ৬ মাস অবশিষ্ট আছে এমন কয়েদি বন্দি হচ্ছে ৭৭ জন, লঘু অপরাধে আটক সবোর্চ্চ এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি-১১৯ এবং সবোর্চ্চ ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি-২১জন রয়েছে।
এ বিষয়ে করোনার প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দি রোগীদের বিষয়ে জানতে চাইলে কারাগারের চিকিৎসক ডা.রেজা মো. সারোয়ার আকবর বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিটি নির্দেশনা কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হচেছ। শুধু তাই নয়,কারাগারে যখনি কোন নতুন বন্দি আসছে তখনি আমরা সাথে সাথে তাকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়ে দিচ্ছি।১৪ দিন পর তাকে আমরা সাধারণ বন্দিদের ওয়ার্ডে স্থানান্তর করছি। ইতিমধ্যে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে একটি আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। কারা হাসপাতালের প্রতিটি রোগী বন্দিসহ কারাগারের সকল বন্দিদের প্রতি বিশেষ নজরদারী রাখা হয়েছে। যাতে যে কোন সমস্যা হলেই সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহজাহান বলেন,করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার গৃহিত প্রতিটি পদক্ষেপ আমরা পুংখানু পুংখানু ভাবে পালন করে আসছি। বাহির থেকে যে কেউ কুমিল্লা কারাগারের মুল গেইটের ভিতর ঢুকতে হলে তাকে অবশ্যই আমাদের স্থাপিত বেসিনে সাবান দিয়ে ভালভাবে হাত ধুয়ে প্রবেশ করতে হবে। এরপর ভিতরে প্রবেশ করে মূল কারাগারের ভিতর যে গেইট আছে সেই গেইটের কাছে আরো তিনটি বেসিন আছে।এখানেও সাবান-পানি দেয়া আছে। আমাদের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সবাইকেই এই বেসিনে হাত ধুঁতে হবে। এরপর মুল গেইপের ভিতর প্রবেশ করার পর একটি বড় ট্রে আছে সেখানে পটাসিয়ামযুক্ত পারমাম্যাগন্টে পানির উপর দিয়ে গেলে জুতার নিচু অংশ ভিজবে। এরপর প্রতিটি কারা ওয়ার্ডের সামনেই রয়েছে সাবানসহ পানি। ভিতরের বাথরুম গুলোও সে ভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমাদের বন্দিরা ভিতরে মাস্ক তেরী করছে। সবাই আমাদের তৈরী মাস্ক ব্যবহার করছে। এ ছাড়ারাও আমাদের নিজস্ব ফগার মেশিন দিয়ে এবং সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও একই ভাবে আমরা আমাদের ভিতরে এবং বাহিরের প্রতিটি ওয়াল,ড্রেন এবং রাস্তা আমরা জিবানুনাশক ঔষুধ ছিটা্িচ্ছ। রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরাও এ বিষয়ে নিজেরা এসে আমাদের সহযোগিতা করছে।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র এই জেল সুপার এই প্রতিবেদককে আরো বলেন,আল্লাহর রহমতে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আমরা সর্বচ্চো সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। যার ফলে এই পর্যন্ত আমরা কোন নেগেটিভ খবর পাইনি।আমাদের প্রতিটি স্টাফ নিবেদিত ভাবে কাজ করছে। আমাদের উপর থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির বন্দিদের মুক্তির বিষয়ে নাম চাওয়া হয়েছে। আমরা তিনটি ক্যাটাগরি থেকে ২১৭ জনের নাম আজই(শনিবার) ঢাকায় পাঠিয়েছি। এখন উপর থেকে যে ভাবে সিদ্ধান্ত আসবে আমরা সেই মোতাবেক বন্দির মুক্তির প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করব।