বুধবার ৩ জুন ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » চান্দিনায় বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ


চান্দিনায় বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.04.2020

মাসুমুর রহমান মাসুদ,চান্দিনা।। কুমিল্লার চান্দিনায় বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে দুইটি মিলের সহ¯্রাধিক শ্রমিক।
রবিবার টানা তিন ঘন্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার পশ্চিম বেলাশহর-হাড়িখোলা এলাকায় ওই অবরোধ করে তারা। পুলিশের তৎপরতায় অবরোধ তুলে নেয় শ্রমিকরা। করোনা ভাইরাস সতর্কতায় মহাসড়কে গণপরিবহন বন্ধ থাকার পরও টানা তিন ঘন্টা অবরোধে ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। যানজটে আটকা পড়ে রোগীবাহী এ্যাম্বুলেন্স, পণ্যবাহী ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যানসহ যাত্রীবাহী অনেক যানবাহনও।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিস্তার রোধে গত ২৬মার্চ থেকে চান্দিনা ও দেবিদ্বার উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন সানানগর এলাকার ঊষা জুট মিল ও নূরীতলা এলাকা আশা জুট মিলের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। সরকারি বন্ধের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার পর ৫ এপ্রিল খোলার কথা ছিল। পরবর্তীতে মিলের ওই ছুটি ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। রবিবার সকাল ৮টায় শ্রমিকরা মিলে এসে মিল বন্ধ দেখে তাদের বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে।
শ্রমিক রাবেয়া বেগম জানান, গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত আমরা কাজ করার পর আমাদের তিন সপ্তাহের বেতন বাকি থাকে। তখন আমাদেরকে বলেছিল ৫ তারিখ মিল খোলার পর আমাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করবে। কিন্তু আজ মিলে এসে দেখি বন্ধ। এদিকে সরকার থেকে নাকি প্রতি শ্রমিকের জন্য পাঁচ হাজার টাকা এসেছে। ভাইরাসের কারণে মিল বন্ধ থাকলেও সরকারি পাঁচ হাজার টাকা ও আমাদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি করি। কিন্তু মিল কর্তৃপক্ষ আমাদের কোন কথাই পাত্তা দেয় নাই।
মিলের সিবিএ সভাপতি সুজন মুন্সি জানান- মিলের অর্থনৈতিক সংকট থাকায় পাট কেনার জন্য গত দুই মাস পূর্বে মালিক ও শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করে তিন সপ্তাহের বেতন বকেয়া রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। হঠাৎ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় গত ২৫ মার্চ শ্রমিকদের এক সপ্তাহের বেতন প্রদান করে মিল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। মিল খোলার পর তাদের বকেয়া দুই সপ্তাহের বিল প্রদান করা হবে। কিন্তু শ্রমিকরা একটি গুজব রটিয়েছে যে, সরকার শ্রমিকদের মাথাপিছু পাঁচ হাজার টাকা করে দিয়েছে সেটা মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দিচ্ছে না। এমন গুজবকে পুঁজি করে অযথা আন্দোলন শুরু করে। আমি মিলের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেছি যত দ্রæত সম্ভব তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।
এ ব্যাপারে ঊষা জুট মিলের সিনিয়র ব্যবস্থপনা পরিচালক ফরহাদ হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমার এডমিনিস্ট্রেশনে কথা বলেন।
চান্দিনা থানার ওসি মো. আবুল ফয়সল জানান- সরকারি পাঁচ হাজার টাকার অনুদানের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমন একটি গুজব ছড়িয়ে মিলের শ্রমিকদের সাথে স্থানীয় কিছু অতিউৎসাহী লোক এক হয়ে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। মিল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছি, বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন।
চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. আহসানুল হক জানান- গত এক সপ্তাহ পূর্বে দাউদকান্দিতে একটি আন্দোলনের পর দাউদকান্দিতে করোনা সন্দেহে একটি বাড়ি লক ডাউন করা হয়েছে। এসব আন্দোলনে করোনা ভাইরাস সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।