শুক্রবার ৪ ডিসেম্বর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » কুমিল্লায় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ব্যতিক্রমধর্মী পহেলা বৈশাখ


কুমিল্লায় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ব্যতিক্রমধর্মী পহেলা বৈশাখ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
14.04.2020

প্রদীপ সিংহ রায় মুকুট : আমাদের বাঙালীর প্রাত্যহিক জীবনে পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষের প্রথম দিনটি একটি বিশেষ অবস্থানে সমাসীন হয়ে রয়েছে । বর্তমানে বছরের প্রথম দিনটি উৎযাপনে বা নতুন বর্ষ আবাহনে তাই জাতি একটি শাশ^^ত রূপ প্রত্যক্ষ করছে । ধর্ম বা রাজনৈতিক বিভেদ বা ভেদাভেদ যা-ই থাকুকনা কেন, নববর্ষ এখন বাঙালীর সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে । মু্িক্তযুদ্ধের পর সেই মনোভাব আরো দৃঢ় ও পুষ্ট হয়েছে ক্রমান্বয়ে ।
দেশের অন্যান্য জায়গার মতো আমাদের কুমিল্লায়ও নববর্ষ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে উৎযাপিত হয়ে আসছে অনেক বছর থেকে । কিন্তু এখানকার বাংলা নববর্ষ উৎযাপনে একটি বিরল মাত্রা যুক্ত হয়েছে সেই অনেক কাল ধরে । সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিরাচরিত মেলা, সার্কাস, নাগরদোলা, পুতুলনাচ আরো কতকীইনা অনুসঙ্গ থাকে নববর্ষ আবাহনে ।
কিন্তু দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি, শিল্প, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমবায়ের পীঠস্থান হিসেবে স্বীকৃত-প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লায় এই সব আয়োজনের বাইরেও সর্বধর্ম প্রার্থনা সভা আয়োজন হয়ে এসেছে বছরের প্রথম দিনটিতে । সেই কবে থেকে । একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের বহু বছর পূর্বে । দেশ ও জাতির সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল এবং বিশ^শান্তি কামনা করে এই মাঙ্গলিক প্রার্থনা সভার সঙ্গে সঙ্গীতানুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে বহু কাল ধরে। মহাত্মা গান্ধীর অহিংসবাদ, শান্তির ধর্ম, আদর্শ ও কর্মকান্ড প্রচারকল্পে লাকসাম রোডে প্রতিষ্ঠিত ( কুমিল্লা সদর হাসপাতাল সংলগ্ন ) অভয় আশ্রমে ।
সেই ছোটকাল থেকেই প্রত্যক্ষ করেছি ঐ সর্বধর্ম প্রার্থনা সভায় পবিত্র কোরাণ শরীফ থেকে তেলাওয়াৎ করতেন জাতীয়কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর প্রিয়ভাজন সুলতান মাহমুদ মজুমদার, কখনো কুমিল্লা রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ, কখনো রামমালা গ্রন্থাগারের অধ্যক্ষ পন্ডিত রাসমোহন চক্রবর্তী কিংবা কখনো অধ্যাপক বিমলেন্দ্র নারায়ণ মজুমদার শ্রীমদ্ভাগবত গীতা এবং বেদ থেকে অনুবাদসহ উদ্ধৃতি দিতেন । কুমিল্লা ব্যাপ্টিষ্ট মিশনের রেভারেন্ড অমরেন্দ্র বাউল পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠ করতেন এবং ঠাকুরপাড়ায় অবস্থিত কণকস্তূপ বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ শ্রীমৎ ধর্মরক্ষিত মহাথেরো পবিত্র ত্রিপিটক থেকে বর্ণনা করতেন । সভায় অভয় আশ্রমের সম্পাদক প্রবোধ দাশগুপ্ত জ্যেঠামশাই গান্ধীজির শান্তির অমর বাণী সম্পর্কে ধারণা দিতেন উপস্থিত শ্রোতা-অভ্যাগতদের ।
আশ্রমচারী রবীন্দ্রসঙ্গীত বিশারদ পরিমল দত্ত, আমার সঙ্গীতজ্ঞ পিতা স্বর্গত দিলীপ সিংহ রায়ের পিসতোতো দাদা, সঙ্গীতানুষ্ঠানে নেতৃত্ব দিতেন । এর আগে দুই সপ্তাহ বা একমাস ধরে চলতো নিবিড় রিহার্সেল । কখনো তাঁর আশ্রমের কুটিরে বা কখনো ঠাকুরপাড়ায় অবস্থিত মৃণালিনী দত্ত ছাত্রী নিবাসের প্রশস্ত বারান্দায় । আমরা অপেক্ষাকৃত কম সঙ্গীত জানা যুবা বয়সীরাও তাতে অংশগ্রহণ করতাম । কুমিল্লার স্বনামখ্যাত শিল্পীবৃন্দ, বিশেষ করে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পীরা, এবং অপেক্ষাকৃত তরুণ নতুন প্রতিভাবান শিল্পীরা অংশগ্রহণ করতেন সঙ্গীতানুষ্ঠান পর্বে ।
মনে পড়ে এদের মধ্যে সামসুদ্দিন আহমেদ ভুলু, বাঁশরী ভদ্র, কাজী সাহানা, সুনন্দা সিংহ পাঁপড়ি, সুদীপ্তা সিংহ শিউলী, স্বপ্না সিংহ কৃষ্ণা, কিরীট সিংহ রায়, শুকøা চক্রবর্তী, লক্ষ্মীরাণী পাল, মিতা পাল, দুলাল চৌধুরী, গোপা চক্রবর্তী, লোপা চক্রবর্তী, শিরিণ বানু মিতিল, সারাহ বানু সূচি, মুসতারী বানু, চামেলী মজুমদার, লাভলী সিনহা, মীনাক্ষী মজুমদার মিতু, অনিমা পাল, সেলিনা রহমান ওপেল, সায়রা বানু জলি, মানস দাশ, পিনাক সাহা, ঝর্ণা কর, সীমা চক্রবর্তীসহ আরো অনেক নবীন ও প্রবীণ শিল্পী প্রাত:কালীন প্রার্থনা সঙ্গীতে অংশগ্রহণ করতেন ফী বছর । তালবাদ্য যেমন তবলা, খোল ও অন্যান্য যন্ত্রানুষঙ্গে অংশগ্রহণ করতেন কোন বছর অভিজিৎ সিংহ রায় মিঠু অথবা কোন বছর তার ছোট ভাই উজ্জ্বল সিংহ রায় দোলন কিংবা তাদের ছাত্র শুভেন্দু চক্রবর্তী শুভ ।
নববর্ষের প্রথম দিনে ভোর সাড়ে ছ’টায় আয়োজিত এমনি ব্যতিক্রমধর্মী মাঙ্গলিক একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখেছি কুমিল্লার বিশিষ্টজনদের । তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন ড: আখতার হামিদ খান, কুমিল্লায় প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ণ একাডেমীর (বার্ড) তাঁর প্রতিষ্ঠাকালীন সহযোগী নূরুল হক ও এম.এ. মুহিত, এ্যাডভোকেট যতীন্দ্র ভদ্র, এ্যাডভোকেট অক্ষয় কুমার পাল, ব্যাঙ্কার মহিম পাল, রামকৃষ্ণ মিশনচারী উমেশ সাধু, ডা: সুরেশচন্দ্র বসু, ডা: আশুতোষ মাইতি, ডা: বঙ্ককুমার নাথ, ব্যবসায়ী ব্রজেন্দ্রলাল সিংহ ও ভুবনেশ^র মজুমদার, ইতিহাসবিদ আবদুল কুদ্দুস, জেলা ন্যাশনাল আওয়ামীপার্টি প্রধান এ্যাডভোকেট আবদুল ওদুদ, সাংবাদিক গোলাম মোস্তাফা চৌধুরী, আলী হোসেন চৌধুরী, রেজাউল করিম শামীম, আবুল হাসনাত বাবুল, বাকিন রাব্বী, শাহজাহান চৌধুরী, অশোক বড়–য়া ও তপন সেনগুপÍ, শিক্ষাবিদ সেলিনা বানু ও তার সংস্কৃতিমনা স্বামী হালিমা টেক্সটাইলস-এর মহাব্যবস্থাপক এম. শাহজাহান, ঈশ^র পাঠশালার প্রবীণ শিক্ষক ইন্দ্রকুমার সিংহ, অধ্যাপক অশোকাঙ্কুর মুখার্জ্জী, অধ্যাপক শান্তিরঞ্জন ভৌমিক, অধ্যাপক সমীর মজুমদার, রোটারিয়ান অনুপ বসু, নাট্যকর্মী ও ক্রিকেটার বিষ্ণুপদ সিনহাসহ আরো অনেক প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বের।
সব্বাই ফরাসে বসে সে দু’ঘন্টার প্রভাতী অনুষ্ঠান উপভোগ করতেন । অনুষ্ঠান শেষে গৃহিনীদের দিয়ে হাতে বানানো ক্ষীরের ছাঁচ বা সন্দেশ পরিবেশন করা হতো অভ্যাগতদের মধ্যে । প্রতীকী নববর্ষের মিষ্টিমুখ করাবার নিমিত্তে । শুভ নববর্ষের কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় এবং শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব সমাপ্ত হলে ।
মনে পড়ে একবার “ছায়ানট”-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ওয়াহিদুল হকের নেতৃত্বে তাঁরই তিন প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীতের ছাত্র নীলোৎপল সাধ্য, সাজেদ আকবর ও এম.এ ওয়াদুদ অভয় আশ্রমের নববর্ষের অনুষ্ঠানে যোগদান করে শ্রোতানন্দিত হয়েছিলেন ।
অভয় আশ্রমের পহেলা বৈশাখের এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান কোন সন থেকে শুরু হয়েছিল জানা নেই । তবে ১৯৯০ সন পর্যন্ত যথাযোগ্য মর্যাদায় আয়োজন করা হয়েছিল । অনুষ্ঠানটির প্রাণপুরুষ পরম শ্রদ্ধেয় পরিমল দত্ত ৯০ সনের শেষার্দ্ধে ঢাকার জনপথে (বিশ^রোড) এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন ।
প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজে এবং পরে ঢাকার পটুয়াটুলীস্থ বাংলাদেশ ব্রাহ্ম সমাজ কমপ্লেক্সে অবস্থিত সুমনা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাঁকে জন্মস্থান প্রিয় কুমিল্লার অভয় আশ্রমে ফেরত আনা হয় । কিন্তু দুর্ঘটনায় মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হবার ফলে তিনি ১৯৯১ সনের ১২ জানুয়ারী কুুমিল্লায় পরলোক গমন করেন । তাঁর অবর্তমানে নানা প্রতিকুলতা ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার ফলশ্রুতিতে অভয় আশ্রমের নিয়মিত কর্মকান্ড সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে । এই বৈশিষ্ট্যমন্ডিত-ঐতিহ্যবাহী নববর্ষবরণমূলক অনুষ্ঠানটিরও ইতি ঘটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ।
এই মুহূর্তে সারাবিশ^ করোনাভাইরাস-এর (কোভিড-১৯) বিষাক্ত ছোবলে পর্যদুস্ত । আর বিশ^নেতৃত্ব মহান সৃষ্টিকর্তার অনুকম্পা প্রার্থনা করছেন এই কালনাগিনীর রুদ্ররূপ থেকে পরিত্রাণ পাবার প্রয়াসে । সেই দারুণ দু:সময়ে ভীষণভাবে অনুভূত হচ্ছে এমনিতর একটি সর্বধর্ম প্রার্থনাসভা আয়োজনের ।
তাছাড়া পহেলা বৈশাখের কাকভোর থেকে দিনব্যাপী কুমিল্লা শহরের ঠাকুরপাড়া কালিতলা (কণকস্তূপ বৌদ্ধ বিহারের বিপরীত দিকে), বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তন-এর দুটি ময়দানে ও দিগম্বরীতলার জামতলায় বাঙলা নববর্ষের চিরাচরিত মেলা হয়ে আসছে অনেক বছর হলো । অবশ্য নববর্ষ উৎযাপনের দিনবিভ্রাটজনিত কারণে টাউন হলের বিখ্যাত মেলা বন্ধ হয়ে যায় ।
নজরুল এ্যাভেনূ-এ মডার্ণ স্কুলের বিপরীত দিকে তালপুকুরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে বকুলতলায়ও নববর্ষ আবাহনে মেলা বসতো ০৭ ও ০৮ই বৈশাখে । এখন ঐ জায়গায় নিত্য-নতুন দালান-কোঠা নির্মাণের কারণে মেলা আর বসছেনা । বকুলতলার মেলা কুমিল্লার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হরিপ্রসাদ সেন বাদলদার একতলা বাসার সামনে বসতো । ছোটবেলায় আমি চাকু বা ছুরি কিনবার জন্যে ঐ মেলা বসবার অপেক্ষায় থাকতাম । কাঁচা আম ছিলে খাবার জন্য । বছরের অন্য মাসগুলোতে আমরা ছোটরা বড় ঝিনুক কুড়িয়ে রাখতাম । ঝিনুকের খোল পাকা মেঝেতে ঘসে একটা ধারালো ছোট গর্ত করা হতো । ওটা দিয়ে সহজেই কাঁচা আম কাটা বা ছোলা যেত । বলে রাখি, তখন তালপুকুর, বর্তমানে ভরাট করা রাণিরবাজার সংলগ্ন বাইদ্যার পুকুর ও আশেপাশের অন্য পুকুরগুলোতে অনেক ঝিনুক মিলতো । ঝিনুক হাঁসের খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হতো । অবশ্য সেসময় আমরা যারা ছোট ছিলাম তাদের মূল আকর্ষণ ছিল বড় বড় ভিয়াণে তৈরী করা গরম গরম জিলাপী ।
মনে পড়ে স্বাধীনতার পর যুবা বয়েসে একবার আমরা ক’জন বন্ধু মিলে বাসে করে ঐতিহ্যবাহী ময়নামতির মেলায় গিয়েছিলাম । তখন মেলার দিন (০৭ই বৈশাখ ) কুমিল্লা শহর থেকে ময়নামতি পর্যন্ত বিশেষ বাস সার্ভিস চালু হতো । সে বিখ্যাত মেলায় ঘর গৃহস্থলী থেকে কৃষিকাজ ও নিত্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় সামগ্রী যেমন হাল, লাঙ্গল, মই, মাছধরার জাল, দা-খন্তা-কুড়াল-কোদাল-শাবল, বাঁশ-বেতের কুটিরশিল্প দ্রব্যাদি ইত্যাদি পাওয়া যেত । আমরা টিলা বা পাহাড়ের ওপর বিরাট এলাকা জুড়ে বসা মেলা ঘুরে ঘুরে দেখছি । হঠাৎ শুনতে পেলাম ক’টা ছোট্ট স্থানীয় ছেলে বলছে-এ্যা ব্যাডা মুক্তল বাহিনী আছাল (এই লোকটি মুক্তিবাহিনী (মুক্তিযোদ্ধা) ছিল )।
বুঝলাম গ্রামের ঐ সরলমনা ছেলেরা আমার লম্বা ঝোলানো গোঁফ দেখে ভেবেছে আমি মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম । সেসময় মুক্তিযোদ্ধারা বদলে যাওয়া পরিস্থিতির কারনে এবং সমর-এর (যুদ্ধের) একটি লাগসই স্ট্র্যাটেজি হিসেবে বড় দাড়ি গোঁফ রাখতেন । অবশ্য আমি ঝোলানো লম্বা গোঁফ রেখেছিলাম এক বিখ্যাত ব্রিটিশ অভিনেতার অণুকরণে । নামটা এক্ষণে মনে পড়ছেনা । তার একটা বড় ছবি ঢাকার মধুমিতা সিনেমা হলের লাউঞ্জে টাঙ্গানো রয়েছে ।
তবে ময়নামতিতে ০৭ই বৈশাখে এখনো বৃহত্তর পরিবেশে সাড়ম্বরে আয়োজিত মেলা বছরের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে রয়েছে । স্থানীয় ও পার্শ¦বর্তী জেলা থেকে এখনো প্রচুর ক্রেতা ঐ বৈশাখী মেলায় ভীড় করে থাকে নিত্যব্যবহার্য নানা পন্য, জিনিষপত্র, দ্রব্য ও কুমিল্লার ঐতিহ্য খাদি এবং কুটিরশিল্প সামগ্রী কিনবার অভিপ্রায়ে।
শুভ বাঙলা নববর্ষ-১৪২৭ সব্বার জন্যে শান্তি, সুখ, আনন্দ ও সমৃদ্ধির বারতা বয়ে আনুক এবং সারাবিশ^ করোনা সঙ্কটমুক্ত হোক, কামনা করছি ।

লেখক:সাংবাদিক।