শনিবার ৬ জুন ২০২০


আজমলের এখনও বিশ্বাস, তার বলে বিশ্বকাপে সেদিন শচিন আউট হয়েছিল


আমাদের কুমিল্লা .কম :
28.04.2020

স্পোর্টস ডেস্ক ।।
২০১১ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পাঞ্জাবের মোহালিতে মুখোমুখি হয়েছিল চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি দেশ ভারত এবং পাকিস্তান। ওই ম্যাচে পাকিস্তানকে ২৯ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে যায় ভারত।

ওই ম্যাচে ৮৫ রানের ঝকঝকে একটি ইনিংস খেলেছিলেন ভারতের মাস্টার ব্লাস্টার শচিন টেন্ডুলকার। কিন্তু ২৩ রানের মাথায় পাকিস্তানি স্পিনার সাঈদ আজমলের বলে তাকে আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড। অথচ, থার্ড আম্পায়ার বিলি বাউডেন সেই আউট বাতিল করে দেন।

শচিন যদি ওইদিন ২৩ রানে আউট হয়ে যেতেন, তাহলে ম্যাচের ফল ভিন্নও হতে পারতো। জিততে পারতো হয়তো পাকিস্তানই।

তবে, সেই বিশ্বকাপের ৯ বছর পর এসে পাকিস্তানি স্পিনার সাঈদ আজমল এখন আবারও দাবি করছেন, সেদিন তার বলে আউটই ছিলেন শচিন টেন্ডুলকার। এখনও তিনি শতভাগ নিশ্চিত, শচিন আউট ছিলেন। কিন্তু থার্ড আম্পায়ার দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার আউটের সিদ্ধান্তটি বাতিল করে দেন।

সম্প্রতি ইংলিশ আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড সম্প্রতি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘মোহালিতে সেদিন ভারতের তারকা ব্যাটসম্যান শচিন টেন্ডুলকার (২৩ রানে) আউট ছিলেন। আমি এখনও নিশ্চিত তিনি আউট ছিলেন।’

আইসিসি সাবেক এলিট প্যানেলের আম্পায়ার ইয়ান গোল্ডের এই বক্তব্যের পর মুখ খোলেন সাঈদ আজমল। সেমিফাইনালে ওইদিন ফিল্ড আম্পায়ার দু’জনের একজন ছিলেন ইয়ান গোল্ড। তিনি শচিনকে এলবিডব্লিউ আউট দিলেও টিভি আম্পায়ার বিলি বাউডেন সে সিদ্ধান্ত পাল্টে শচিনকে নটআউট ঘোষণা করেন।

৪২ বছর বয়সী সাঈদ আজমল বলেন, ‘ওটা ছিল একদম সরাসরি সামনের পায়ে লাগা বল। আমি শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম যে শচিন আউট। আফ্রিদি, ওয়াহাব রিয়াজ, কামরান আকমলরা বারবার জিজ্ঞাসা করছিল, আমি বলছিলাম, সে আউট। কিন্তু পরে খুব হতাশ হলাম, বিলি বাউডেন তাকে নটআউট ঘোষণা করায়।’

আজমল আরো বলেন, ‘আমি কখনো শচিনকে টেস্টে বল করার সুযোগ পাইনি। এ কারণে যখনই আমি সাদা বলে তার মোকাবেলা করতাম, তখনই চেষ্টা করতাম সেরাটা দেয়ার জন্য।’

একটি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আজমল বলেন, ‘সবচেয়ে হতাশাজনক ছিল, আমরা সেমিতে হেরে গিয়েছিলাম। যেখানে শচিনের ৮৫ রানই সব কিছু বদলে দিয়েছিল। এখনও আমি ভাবি, থার্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত আমাদের হৃদয়কে ভেঙে দিয়েছিল। সম্ভবত ওইদিন শচিনই ছিল ভাগ্যবান। আম্পায়ার ইয়ান গোল্ডও দেখেছিলাম খুব হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন, তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ায়।’

২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৩৫ টেস্ট খেলে ১৭৮ উইকেট নেন সাঈদ আজমল। ১১৩ ওয়ানডেতে নেন ১৮৩ উইকেট এবং ৬৪ টি-টোয়েন্টিতে নেন ৮৫ উইকেট।