শনিবার ৬ gvP© ২০২১


কেমন আছেন কুমিল্লার করোনা শনাক্ত ৬৯ জন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
30.04.2020

মাসুদ আলম:
কুমিল্লায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ৬৯ জনের মধ্যে অধিকাংশ ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। কিছুটা সুস্থ থাকা অনেকেই বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে সাত জনকে পুরোপুরি সুস্থ ঘোষণা করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। তাদের নমুনা টানা তিনবার করোনা নেগেটিভ এসেছে। এদিকে দুই উপজেলায় এক ইউপি সদস্যসহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।

কুমিল্লার ১৭ উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে ১৪ উপজেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এসব উপজেলায় এখন পর্যন্ত (২৯ এপ্রিল) ৬৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তবে কুমিল্লা আদর্শ সদর, নাঙ্গলকোট, লালমাই উপজেলা এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় এখনও করোনা আক্রান্ত কেউ শনাক্ত হয়নি।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র মতে, কুমিল্লা থেকে পাঠানো এক হাজার ৬৭২ জনের নমুনার মধ্যে রিপোর্ট এসেছে এক হাজার ৩৪৫ জনের। শনাক্ত ৬৯ জনের মধ্যে কুমিল্লার তিতাসে ১১ জন, মুরাদনগরে ছয় জন, দাউদকান্দিতে আট জন, মেঘনায় দুই জন, ব্রাহ্মণপাড়ায় একজন, চান্দিনায় চার জন, বুড়িচংয়ে আট জন, চৌদ্দগ্রামে একজন, লাকসামে দশ জন, দেবিদ্বারে ৯ জন, বরুড়ায় তিন জন, সদর দক্ষিণে দুই জন, মনোহরগঞ্জে তিন জন এবং হোমনায় একজন রয়েছেন।

তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. সরফরাজ হোসেন খান জানান, ১০৮টি নমুনা মধ্যে ৪৮টির রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে ১১টি রিপোর্ট পজিটিভ আসে (বুধবার পর্যন্ত)। সুস্থ হয়ে উঠছেন উপজেলার বিরামকান্দি গ্রামের একজন, তার বোন ও মেয়ে এবং একই উপজেলার মৌটুপি গ্রামের এক ব্যক্তি এবং তার মা, বাবা ও স্ত্রী। চিকিৎসাধীন আছেন নয়াকান্দিতে এক নারী, ফরিদপুর ও সাহাবৃদ্ধি গ্রামে দুই যুবক এবং দড়িকান্দি গ্রামে নতুন (২৯ এপ্রিল) করে আক্রান্ত এক ব্যক্তি। তারা সবাই বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

মুরাদনগর উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল আলম জানান, ১১৪টি নমুনার মধ্যে ৬০টির রিপোর্ট এসেছে। তার মধ্যে ছয় জনের নমুনার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। উপজেলার বাঙ্গরাবাজার থানার কাঁঠালিয়াকান্দা গ্রামে দুই ভাই, মা, বাবা এবং ১৬ বছরের এক কিশোরসহ একই পরিবারের পাঁচ জন রয়েছেন। অন্যদিকে একই উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামে একজন (২৬) আক্রান্ত হন। (২৪ এপ্রিল) শুক্রবার দুপুরে রিপোর্ট আসার পর আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থাকতে বলা হয়। ওই বাড়িটিকে লকডাউন করা হয়েছে। কিন্তু শুক্রবার রাতের কোনও এক সময় তিনি পালিয়ে যান। পাঁচদিন অতিক্রম হলেও এখনও তার খোঁজ পায়নি প্রশাসন।

দাউদকান্দি উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিনুর আলম সুমন জানান, উপজেলা ও পৌরসভা এলাকা থেকে সংগ্রহকৃত ৩২৪টি নমুনার মধ্যে ২৪৭টির ফলাফল এসেছে। তার মধ্যে উপজেলার বরকোটা গ্রামের দুই নারী, শ্রীরায়েরচর গ্রামের দুই পুরুষ ও এক নারী, তিনপাড়া গ্রামের এক নারী এবং পৌর এলাকার সাহাপাড়ায় এক পুরুষ ও এক নারীসহ মোট আট জনের করোনা শনাক্ত হয়েছেন। তারা সবাই শঙ্কামুক্ত। অনেকেই সুস্থ হওয়ার পথে।
বুড়িচং উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মীর হোসেন মিঠু জানান, ১৯৩টি নমুনার মধ্যে রিপোর্ট এসেছে ১৭৬ জনের। উপজেলার জিয়াপুর গ্রামের দুই শিশুসহ একই পরিবারের তিন জন, একই উপজেলার বালিখাড়া গ্রামের দুই জন, গোবিন্দপুর গ্রামে একজন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়িচালক, হাসপাতালের আরএমওসহ মোট আট জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তবে দুই শিশু, তাদের ফুপু এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাড়িচালক শঙ্কামুক্ত। বাকিরা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

চান্দিনা উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আহসানুল হক জানান, ৮৯টি নমুনার মধ্যে ৬৯টির রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে চার জনের করোনা পজিটিভ আসে। উপজেলা সদরের জননী মেডিক্যাল সেন্টার ও হাসপাতালের এক ডাক্তার, চান্দিনা মধ্যবাজারের দত্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক্স-রে টেকনেশিয়ান, এক প্যাথলজি টেকনিশিয়ানসহ দুই জন এবং উপজেলার মহারং গ্রামের একজন করোনা শনাক্ত হন। মহারং গ্রামে আক্রান্ত ব্যক্তি ঢাকার কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি এক টেকনেশিয়ান এবং ডাক্তার সুস্থ হওয়ার পথে।

লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুল আলী জানান, ৭৫টি নমুনার মধ্যে ৪০টির রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে একই পরিবারের আট সদস্যসহ ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। লাকসাম পৌর এলাকার সাহাপাড়ায় দুই সহোদর আক্রান্তের পর (২৯ এপ্রিল) নতুন করে তাদের মা, বাবা, দুই ভাইয়ের স্ত্রী এবং ১২ ও ১৪ বছরের দুই শিশু আক্রান্ত হয়। এছাড়া উপজেলার দোখাইয়ায় একজন এবং পৌর এলাকার একজন মুয়াজ্জিনের করোনা শনাক্ত হয়। মুয়াজ্জিনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আহমেদ কবীর জানান, ৫৬টি নমুনার মধ্যে তাদের ২৪টির রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে ৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। রিপোর্ট আসার আগেই দুই জন মারা গিয়েছে। দুই জনের মধ্যে দেবিদ্বারে বাগুর গ্রামের মেম্বার রয়েছেন। ২৯ এপ্রিল ওই মেম্বারের ছেলের বউয়ের করোনা শনাক্ত হন। একই গ্রামের করোনা আক্রান্ত শিক্ষকের স্ত্রী এবং মেয়ে নতুন করে সংক্রমিত হয়েছে। এছাড়া নতুন করে উপজেলার নবিয়াবাদ গ্রামে স্বামী ও স্ত্রী এবং গুনাইঘর গ্রামের এক ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। এদিকে পূর্বে উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের তালতলা গ্রামে আক্রান্ত ব্যক্তি শঙ্কা মুক্ত আছেন।

বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত সুলতানা জানান, ৬১টি নমুনার মধ্যে ৪৪টির ফলাফল এসেছে। এর মধ্যে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবং খোশবাস উত্তর ইউনিয়নের বেলতলীতে এক নারী এবং আরিফপুর গ্রামে এক পুরুষসহ তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন। এসআই নতুন আক্রান্ত হলেও বাকি দুই জন সুস্থ হয়ে উঠছেন।

সদর দক্ষিণ উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাদুর রহমান জানান, ৪৭টি নমুনার মধ্যে তাদের ৩৬টির রিপোর্ট এসেছে। তার মধ্যে উপজেলার হরেশপুর এবং রাজার খোলায় দুই জনের করোনা শনাক্ত হয়। তারা দুই জনই ভালো আছেন। বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী জানান, তাদের ১০৭টি নমুনার মধ্যে ৯৬টির রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে উপজেলার মৈশাতুয়া গ্রামে দুই জন এবং বিপুলাসার গ্রামে একজনসহ মোট তিন জনের করোনা শনাক্ত হয়। বাড়িতে থেকেই তারা নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন।

মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জালাল হোসেন জানান, পাঠানো ৬২টি নমুনার মধ্যে ৫০টির রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে বৈদ্যনাথপুর ও লুটেরচর গ্রামের দুই জন আক্রান্ত হন। এর মধ্যে লুটেরচর গ্রামের আক্রান্ত ব্যক্তি মোজাম্মেল হোসেন মারা গিয়েছেন। বাকি একজন সুস্থ হওয়ার পথে।

হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. সালাম সিকদার জানান, ৩৯টি নমুনার মধ্যে ৩২ জনের রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে মঙ্গলকান্দি গ্রামের এক নারীর করোনা শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে দুইবার নমুনা পাঠানো হয়। দুইটিতেই নেগেটিভ আসে। বর্তমানে ফাতেমা আক্তার প্রায় সুস্থ।

চৌদ্দগ্রাম-এর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. হাসিবুর রহমান জানান, তাদের পাঠানো ৭৬টি নমুনার মধ্যে ৪৬টির রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে চান্দিশকরা গ্রামে এক ব্যক্তির করোনা শনাক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে পরপর তিনটি রিপোর্টেই তার করোনা নেগেটিভ আসে। বর্তমানে তিনি প্রায় সুস্থ।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবুল হাসনাত মো. মহিউদ্দিন জানান, তাদের পাঠানো ৩০টি নমুনার মধ্যে ২৭টির রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে উপজেলার টাকই গ্রামের এক ব্যক্তির করোনা পজিটিভ আসে। বাড়িতে থেকেই তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ হওয়ার পথে।
কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান জানান, (২৯ এপ্রিল) পর্যন্ত ঢাকায় পাঠানো এক হাজার ৬৭২ জনের নমুনার মধ্যে এক হাজার ৩৪৫ জনের রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে ৬৯ জন শনাক্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছে সাত জন এবং মৃত্যুবরণ করে তিন জন। তবে নতুন করে শনাক্ত ব্যক্তিরা বেশিরভাগ স্বজনদের থেকে আক্রান্ত হচ্ছেন।