শনিবার ৬ gvP© ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » কনস্টেবল জসিমকে নিয়ে কুমিল্লার পুলিশ কর্মকর্তার আবেগঘন স্ট্যাটাস


কনস্টেবল জসিমকে নিয়ে কুমিল্লার পুলিশ কর্মকর্তার আবেগঘন স্ট্যাটাস


আমাদের কুমিল্লা .কম :
30.04.2020

স্টাফ রিপোর্টার।।
ডিএমপির ওয়ারী থানায় কর্মরত কুমিল্লার বুড়িচংয়ের সন্তান পুলিশ কনস্টেবল জসিম করোনা আক্রান্ত অবস্থায় ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। বুধবার গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। তার বাড়িতে সমবেদনা জানাতে যান কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। জসিমের শিশু সন্তানকে নিয়ে ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন। নিচে স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো:-
অপেক্ষায় আছে ৫ বছরের শিশু আব্দুল্লাহ। বাবা আসবে তার জন্যে চকলেট নিয়ে। পুলিশ চাচ্চুদের দেখে উৎফুল্ল মনে প্রশ্ন “আব্বু কি চলে আসছে?” অবুঝ শিশুটি তার পৃথিবীতে এতক্ষণে কি ঘটে গেছে বুঝতে না পেরে দিব্যি হাসছে, খেলছে। আবার মা, বোন, দাদীর কান্না দেখে বিস্মিতও হচ্ছে! তার এসপি আংকেল এবং অন্য পুলিশ চাচ্চুদের চোখেও অশ্রুধারা..! এর মধ্যেই শিশু সুলভ আবদার ছবি তুলে দেয়ার।
প্রিয় আব্দুল্লাহ, বাবা আমরা তোমার চোখে তাকিয়ে তখন বলতে পারিনি জীবনের নির্মম সত্যটি!!
একদিন বড় হয়ে জানতে পারবে তোমার পুলিশ বাবা মহামারি করোনা যুদ্ধে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে লড়াই করেছে দেশমাতৃকার তরে। মানুষ ও মানবতার তরে দাযড়ত্ব পালনরত অবস্থায় উৎসর্গ করেছে জীবন। সেদিন এই লাল সবুজের বুকে তুমি মাথা উঁচু করে গর্বে উদ্ভাসিত হবে। ইউনিফর্ম পরিহিত লাখো লাখো পুলিশ চাচ্চুদের মুখাবয়বে ভেসে উঠবে তোমার বাবার মুখ!
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধ যোদ্ধা বাংলাদেশ পুলিশের বীর সদস্যরা প্রাকৃতিক কিংবা মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগে কখনোই দেশপ্রেমের পরীক্ষায় পিছপা হয়নি ভবিষ্যতেও হবেনা। সেবার সুমহান ব্রতে আমরা সবসময়ই আছি আপনাদের পাশে জনগণের পুলিশ হয়ে।
স্ট্যাটাসটি পড়ে অনেকে মন্তব্য লিখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাশেদা রওনক খান লিখেন, আব্বু কি চলে আসছে?”-প্রশ্নটির দিকে বার বার চোখ যাচ্ছিল… আহা… ও কি জানালো আজ ও কি হারালো! আল্লাহ উনাকে বেহেশত নসীব করুক।’ তার পাশে প্রতি উত্তরে জসিমের ছোট ভাই রানা লিখেন-আপু গোও আমাদের পাঁচ ভাইয়ের সবচেয়ে বড় ভাই জসিম ভাই। আমরা তিন ভাই গ্রিস এ আছি, আরেক ভাই ইটালিতে আছে। আমরা যে একটি ভাইও আমার ভাইয়ের জানাজায় শরিক হতে পারলাম না, এই দুঃখ কারে বলি গো আপা। আমার ভাতিজাকে দেখলে কলিজা ফেটে যায়। আমরা দেশে আসতে পারতেছিনা। এত বড় সাজা আল্লাহ আমাদেরকে কেন দিলে গো আপু।