শনিবার ৬ gvP© ২০২১


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,আপনি ছাড়া দেখার কেউ নাই


আমাদের কুমিল্লা .কম :
30.04.2020

সাহাদাত পারভেজ।।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আজ প্রথম আপনাকে লিখলাম। লেখাটা আপনার চোখে পড়বে কিনা জানি না। করোনার এই নিদানকালে মানুষের জন্য আপনি অনেক কিছু করছেন। কিন্তু আপনার একার পক্ষে কত দিক আর দেখা সম্ভব!
আপনার লোকজন যতই বলুক সব কিছু ঠিক আছে তা শুধু আপনাকে খুশি করার জন্য বলে। আমাদের বেশির ভাগ মানুষ তার দায়িত্বের জায়গায় সৎ না। সবাই নিজের মতো গল্প বলতে চায়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি দয়া করে আজকের (৩০ এপ্রিল)দৈনিক দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত প্রকাশিত ফটো স্টোরিটা দেখুন। আলোকচিত্রী রুবেল রশীদের ৪টি ছবি দিয়ে স্টোরিটা তৈরি করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের পাগলা থেকে করোনা উপসর্গ নিয়ে ঢাকা মেডিক্যালে আসেন দেলোয়ার মিয়া। টেস্টে করোনা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে গতকাল দুপুরের দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল গেটে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে চালক প্রথমে করোনা আক্রান্ত দেলোয়ারের সঙ্গে সেলফি তুলেন। মানুষের ফাইজলামিরও একটা সময় থাকে। তাই বলে এই অসময়েও কী এমন একটা কাজ করা যায়!
এখানেই শেষ নয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সেলফি তোলার পর এই অ্যাম্বুলেন্সের চালক রোগীটাকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে দেন। হাসপাতাল গেটে এই অসুস্থ মানুষটাকে ধরে নামানোরও লোক ছিল না। তাই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতে নিয়ে নিজে নিজেই নেমে আসেন তিনি। তাকে হাসপাতালের আঙিনায় ফেলে রেখে চলে যান অ্যাম্বুলেন্স চালক। যাওয়ার সময় বলে যান, তার দায়িত্ব হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছানোই। তার অফিসিয়াল দায়িত্ব হয়তো এতটুকুই। কিন্তু মানুষ হিসেবে আর কী কোনো দায়িত্ব নেই! আমরা কী এতটাই বোধ বির্বজিত হয়ে গেছি?
অ্যাম্বুলেন্স থেকে নেমে হাসপাতালের বাইরে একাকি বসে থাকেন দেলোয়ার মিয়া। দেড় ঘন্টা বসে অপেক্ষার পর খবর আসে হাসপাতালে কোনো সিট খালি নাই। তাই হাসপাতালের পক্ষ থেকে তার জন্য কিছু করার নেই। এই সময় দেলোয়ার মিয়া কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না। শেষে একটি সিএনজি ভাড়া করে বাড়ির দিকে রওনা হন।এটি একটি চিত্র মাত্র। কিন্তু সার্বিক চিত্র আরো ভয়াবহ। প্রতিদিন এখানে অসহায় রোগীদের সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ করা হয়। এর আগেও দেশ রূপান্তরে আমরা কয়েকটা ছবি ছেপেছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি একটু দেখেন। আপনি ছাড়া দেখার কেউ নাই। নূন্যতম চিকিৎসা সেবা পাওয়া মানুষের অধিকার। কিন্তু মানুষ সেই সেবাটুকু পাচ্ছে না। আপনি না তাকালে কিংবা বড় উদ্যোগ না নিলে মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাবে।খুব মন খারাপ করে এই সকালে আপনাকে লিখলাম।
লেখক : সাংবাদিক,আলোকচিত্রী,গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।