শনিবার ৩০ †g ২০২০


চান্দিনায় করোনার বন্ধে ১শত ১৫টি মামলা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
11.05.2020

চান্দিনা প্রতিনিধি।।
চলমান করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ দেড় মাস বন্ধের মধ্যে চান্দিনা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা, সামাজিক দূরত্ব অমান্য করা, জনসমাগম করা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন অপরাধে ১শত ১৫টি মামলা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় ৬ লাখ ১৪ হাজার ২শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমন রোধে কঠোর সতর্কতা গ্রহণ করেছে সরকার। দফায় দফায় সাধারণ ছুটি বৃদ্ধিসহ স্কুল-কলেজ, দোকান-পাট, মিল-ফ্যাক্টরী বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়।

সেগুলো বাস্তবায়নে মাঠে রয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সরকারের নির্দেশ অমান্যকারীদের করা হচ্ছে বিভিন্ন আইনে জরিমানা।

সারা দেশের ন্যায় কুমিল্লার চান্দিনায়ও করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মানুষকে ঘরে ফেরাতে দিন রাত অভিযান চালাচ্ছে ভ্রাম্যমান আদালত।

তারপরও চান্দিনায় এ পর্যন্ত ১২জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১জনের মৃত্যু ঘটে। যাদের অধিকাংশই উপজেলা সদরের বাসিন্দা। গত ১৪ এপ্রিল চান্দিনা উপজেলায় প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্তের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে ১১জন আক্রান্ত ও ১জনের মৃত্যু ঘটনায় চান্দিনা উপজেলাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অপরদিকে উপজেলা সদরেই এর প্রাদুর্ভাব বেশি হওয়ায় গত এক সপ্তাহ যাবৎ চান্দিনা উপজেলা সদরকে ‘হট স্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করে শুধুমাত্র ওষুধ দোকান ব্যতিত সকল দোকান-পাট বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। তবে সুস্থ হয়েছে এ পর্যন্ত ৪জন।

আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত দেড় মাসে ভ্রাম্যমান আদালত চান্দিনা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা, জনসমাগম করা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন অপরাধে ১শত ১৫টি মামলা করেন। এতে ৬ লাখ ১৪ হাজার ২শ টাকা জরিমানা আদায় করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পাশাপাশি করোনা সংকটে কর্মহীন হয়ে পড়া উপজেলার প্রায় সাড়ে বারো হাজার দুস্থ, নি¤œবিত্ত, নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে এ পর্যন্ত ১২১ মে.টন প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তায় চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৫০০ জন শিশুর মায়ের হাতে শিশুখাদ্য বিতরণ করা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নেহাশীষ দাশ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন- গত মার্চ মাসে দেশে প্রথম করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়ার পর জনসমাগম রোধ ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মোতাবেক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি আরও জানান- বাজারে নিত্য পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে করা হয়েছে। পাশের দেবিদ্বার উপজেলা হতে চান্দিনাকে সুরক্ষিত রাখতে উপজেলার প্রধান বাজার ও আশেপাশের এলাকাতে লকডাউনসহ প্রশাসনের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণকে সাথে নিয়ে প্রশাসন সমন্বিতভাবে ত্রাণ কার্যক্রমসহ যাবতীয় বিষয়ে বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।