বৃহস্পতিবার ৪ জুন ২০২০


নাঙ্গলকোটে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ত্রাণ আত্মসাত, মিথ্যা মামলা ও হামলা দিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
11.05.2020

স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ২নং পেরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে গরিবের টাকা ও ত্রান আত্মসাত, মিথ্যা মামলা ও হামলা করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ করেছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মো.মোশারফ হোসেন মজুমদার। তিনি সোমবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ আওয়ামীলীগ নেতা মোশারফ হোসেন মজুমদার বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সরকারী ত্রাণ বন্টনে অনিয়ম ও ৪ বছর আগে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক সরকারী ঘর দিবে বলে ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের গরীব ও অসহায় মানুষদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে নিয়ে মোট ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা আত্মসাত করে । এ বিষয়ে সম্প্রতি ফেসবুকে লেখালেখি হলে কয়েকটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যম চেয়ারম্যানের এ অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে। ফেসবুকে তার দূর্নীতির বিরুদ্ধে আমার ছেলে আমজাদ হোসেন,ভাতিজা মোহাম্মদ আলী না লিখলেও চেয়ারম্যান সন্দেহ করে এ কাজ তারা করেছে। পরে গত ২৭ এপ্রিল রাত ৯টায় চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের উপস্থিতিতে এবং নির্দেশে তার ভাতিজা ফরহাদ,সুজন,ভাগিনা মাসুম,তার কর্মী বাহার ও কালামের ভাতিজা রতন,রিফাতসহ সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বাড়িদে হামলা করে আমার ছেলে ও ভাতিজাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে। পরবর্তী পর্যায়ে দ্বিতীয় বারের মত আরো ৩০/৪০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে আবারও আমার বাড়িতে হামলা চালায়। এই হামলায় আমার ছেলে আমজাদ হোসেন,আমার ভাই ফারুক মজুমদারের ছেলে মোহাম্মদ আলী,মাহতাব মজুমদার,মোসলেহ উদ্দিন মারাত্মক আহত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামীলীগ নেতা মোশারফ হোসেন মজুমদার দু:খ করে বলেন, পরদিন ২৮ এপ্রিল নাঙ্গলকোট থানায় মামলা করতে গেলে থানা থেকে জানানো হয় চেয়ারম্যানের নাম বাদ দিয়ে মামলা করতে হবে। এটা নাকি উপরের নির্দেশ। পরে বাধ্য হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি। কিন্তু আজ পর্যন্ত পুলিশ একজন আসামীকেও গ্রেফতার করতে পারেনি। উপরন্তু চেয়ারম্যানের নাম বাদ দিয়ে আমার মামলা গ্রহন করার এক ঘন্টা পর আমার ,ছেলে ও ভাতিজাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট ভাবে একটি অসত্য মামলা গ্রহন দায়ের করে আমাদের হয়রানী করার উদ্দেশ্যে।
আওয়ামীলীগ নেতা মোশারফ হোসেন মজুমদার স্থানীয় ও জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারের কাছে ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে গরিবের টাকা আত্মসাত, ত্রান বন্টনে অনিয়মসহ হামলা ও মিথ্যা মামলা দায়ের করার জন্য বিচার দাবী করেন এবং এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হামলায় আহত মোশারফ হোসেন মজুমদারের ছেলে আমজাদ হোসেন মজুমদার ও ফারুক মজুমদারের ছেলে মোহাম্মদ আলী।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আনোয়ার হোসেন বলেন, চেয়ারম্যানের নাম মামলা থেকে বাদ দিতে কে বলেছে তা আমি জানি না। এটা আমাদের ওসি স্যার বলতে পারবেন। স্যার আমাকে তাদের পক্ষ বিপক্ষের দুটি মামলারই তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি সঠিক তদন্ত করে যে প্রকৃত অর্থে দোষী হবে তার বিরুদ্ধেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব। মামলা দুটি এখনো তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।
এ ব্যাপারে পেরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের সেল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।